Advertisement
E-Paper

মানছেন না করোনার সতর্কবার্তা, পরামর্শ এড়িয়েই ভিড় শহরের বাজারে

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিদিনই রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিচ্ছেন। তা সত্ত্বেও একাংশের হুঁশ ফিরছে না।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২০ ১৫:৪৬
বারুইপুর কাছারি বাজার। ছবি: জিৎ চট্টোপাধ্যায়।

বারুইপুর কাছারি বাজার। ছবি: জিৎ চট্টোপাধ্যায়।

লকডাউনকে উপেক্ষা করে বাজার-দোকানে ভিড়ের মধ্যেই চলছে কেনাকাটা। গত কয়েকদিনের মতো আজ, সোমবারও শহর থেকে গ্রামের বাজার-হাটে সেই চেনা ছবিই ধরা পড়ল। রাজ্য প্রশাসনের তরফে ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। করোনাভাইরাসের মোকবিলায় কী করণীয়? সে বিষয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিদিনই রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিচ্ছেন। তা সত্ত্বেও একাংশের হুঁশ ফিরছে না।

কেমন ছিল এ দিন বাজারের ছবিটা? বেহালা সখেরবাজারেও মাছের দোকানে অন্যান্য দিনের মতোই ভিড় ছিল। স্থানীয় বাসিন্দা সত্যব্রত মজুমদার বাজার করতে এসেছিলেন। এই ভিড় বাজারে কেনাকাটার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “রবিবার আরও ভিড় ছিল। বাজারের কাছে এসেও চলে গিয়েছিলাম। আজ আবার ফিরে যাব? কোনও উপায় নেই। তাই এ দিন একটু বেশি করে বাজার করে নিয়ে যাচ্ছি।”

মানিকতলা বাজারের ছবিটাও একই। বিক্রেতা-ক্রেতা প্রায় কেউই সতর্ক নন। ভিড় বাজারে একে অন্যের ঘাড়ে ওঠার জোগাড়। সুরজিৎ বসাক এসেছিলেন বাজারে। তাঁর কথায়, “আমি মাস্ক পরে বার হচ্ছি। বাজার করে হাত ভাল করে ধুয়ে নিচ্ছি।” কিন্তু বাজারের স্বল্প পরিসরে একে অন্যের স্পর্শ বাঁচিয়ে আদৌ চলছেন কেউ?প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে।

গা ঘেঁষাঘেষি করে কেনাকাটা চলছে কাছারি বাজারে।

শহরের অন্যান্য বাজারেও যাঁরা আসছেন, বাইরে বেরনো নিয়ে তাঁদের মতো করে যুক্তিও দিচ্ছেন। জেলার দিকে আবার অনেকে টোটো-অটো নিয়ে বেরিয়ে পড়ছেন। যেমন হাবরার বিভিন্ন জায়গায় দোকান বন্ধ থাকলেও, সব্জির বাজার খোলা বেলা পর্যন্ত। ফলের এমনকি, ফুলের দোকানও খোলা। টোটো-অটো করেও লোকজন যাতায়াত করছেন। বাজার করে তাতে চড়ে বাড়ি ফিরছেন। একই ছবি ধরা পড়েছে গোবরডাঙা বাজারেও। লকডাউনের নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে চলছে দেদার কেনাকাটা।

আরও পড়ুন: রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত কাউন্সিলর, বাড়ছে সুস্থের সংখ্যাও

আরও পড়ুন: দেশে মৃত্যু ১০০ ছাড়াল, এক লাফে ৪ হাজার ছাড়াল আক্রান্তের সংখ্যা

চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, যে কারণে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে, সেই ‘সোশাল ডিসটেন্সিং’-এর উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। ফলে সংক্রমণের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। বাজার করতে গেলেও মাস্ক পড়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে অন্য ক্রেতাদের সঙ্গে কম পক্ষে এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখতেই হবে।

বাজারে যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই মাস্ক পড়ছেন না। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে মাস্ক পড়তে বলা হয়েছে। সেই নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে চলছে নিত্যদিনের কাজকর্ম। এ দিন সকালে বেহালা থেকে গড়িয়াহাট, বেলেঘাটা থেকে ঠাকুরপুকুর, মানিকতলা, শ্যামবাজার সহ শহরের সর্বত্রই বাজারগুলি ছিল ভিড়ে ঠাসা।

লকডাউন! ভ্রুক্ষেপ নেই কারও।

কলকাতায় রেশন দোকানগুলিতেও ভিড়ের ছবি ধরা পড়েছে। নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় না রেখেই লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে ক্রেতারা। হাতে গোনা কিছু বাজারে এবং রেশন দোকানে নিয়ম মানা হচ্ছে। যেখানে ভিড় বেশি হচ্ছে, পুলিশ কর্মীরা মাইকিং করে সচেতন করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ জানাচ্ছেন। বেলেঘাটার একটি রেশন দোকানের সামনে ক্রেতাদের ভিড় দেখে পুলিশ নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়ানোর জন্যে মাইকিং করছেন।

বাজারে যেমন ভিড় হচ্ছে, তেমনই আবার লকডাউনের নিয়ম ভেঙে আবার বাইক-গাড়ি নিয়েও অনেকে বেরিয়ে পড়ছেন রাস্তায়। একমাত্র জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। সে ক্ষেত্রে পুলিশের দেওয়া পাশ ব্যবহার করতে হবে। আইন ভাঙার অভিযোগে প্রতিদিনই গ্রেফতার হচ্ছেন অনেকে। তার পরেও নানা অজুহাতে নিয়ম ভেঙে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ছেন কেউ কেউ। ইতিমধ্যেই গ্রেফতারির সংখ্যা সাড়ে পাঁচ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। জেলার ছবিটাও অনেকটা একই রকম। বড় বড় বাজার-হাটে ভিড় হচ্ছে। ভিড়ের মধ্যে চলছে বিক্রি। ক্রেতা এবং বিক্রেতা, কেউ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

গত ২৩ মার্চ বিকেল থেকে লকডাউনের ঘোষণা হয়। ‘সোশাল ডিস্টেনসিং’-এর গুরুত্ব বোঝাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই পথে নামেন। বিভিন্ন বাজার ঘুরে তিনি নিজের হাতে চক দিয়ে গোল করে সুরক্ষাবলয় টেনে দেন। তার পর কলকাতা পুলিশের তরফেও প্রতিদিনই সতর্কতা প্রচার চলছে। এত কিছুর পরেও বেপরোয়া মনোভাব নিয়ে পথে নেমছেন বহু মানুষ।

ছবি: জিৎ চট্টোপাধ্যায়।

(অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিয়ো আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, feedback@abpdigital.in ঠিকানায়। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।)

Coronavirus Lockdown করোনাভাইরাস
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy