E-Paper

বোর্ড নেই বহু কোঅপারেটিভ সোসাইটিতে, হচ্ছে না মিউটেশন

দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাট, টালিগঞ্জ, গল্ফ গ্রিন, যাদবপুর, বেহালা, পর্ণশ্রী, ঠাকরপুকুরে এমন বহু কোঅপারেটিভ হাউজ়িং সোসাইটি রয়েছে, যেগুলির বেশির ভাগেই নেই কমিটি। অথচ সেখানে একাধিক ফ্ল্যাটের পুরনো মালিকেরা প্রয়াত হয়েছেন।

মেহবুব কাদের চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০৫

—প্রতীকী চিত্র।

কলকাতায় রয়েছে এক হাজারের বেশি কোঅপারেটিভ হাউজ়িং সোসাইটি। রাজ্য সমবায় আইন অনুযায়ী সোসাইটির সদস্যেরা শেয়ার সার্টিফিকেট পেয়ে থাকেন। যা তাঁদের মালিকানার প্রতীক। কিন্তু, বহু সোসাইটিতে দীর্ঘদিন ধরে বোর্ড গঠন হয়নি। ফলে কলকাতা পুরসভা সোসাইটির নতুন সদস্যদের মিউটেউশন করাতে পারছে না। এর জেরে কোঅপারেটিভ সোসাইটির নতুন সদস্যেরা চরম আতান্তরে পড়েছেন।

দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাট, টালিগঞ্জ, গল্ফ গ্রিন, যাদবপুর, বেহালা, পর্ণশ্রী, ঠাকরপুকুরে এমন বহু কোঅপারেটিভ হাউজ়িং সোসাইটি রয়েছে, যেগুলির বেশির ভাগেই নেই কমিটি। অথচ সেখানে একাধিক ফ্ল্যাটের পুরনো মালিকেরা প্রয়াত হয়েছেন। নিয়মের গেরোয় প্রয়াতদের উত্তরসূরিরা নিজেদের নামে মিউটেশন করাতে পারছেন না।

বিষয়টি নিয়ে অতীতে কলকাতা পুরসভার অধিবেশন থেকে শুরু করে বাজেট বক্তৃতায় একাধিক বার সরব হয়েছেন ৯৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল পুরপ্রতিনিধি তপন দাশগুপ্ত। তাঁর অভিযোগ, তাঁর ওয়ার্ডে ২৪টি এমন হাউজ়িং সোসাইটি রয়েছে যেগুলিতে বহু বছর ধরে ভোট হয় না। তাই কমিটির অস্তিত্ব নেই। এর জেরে ফ্ল্যাট বেচাকেনায় সমস্যা হচ্ছে। খাতায়-কলমে মালিকানার পরিবর্তনে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। পুরসভার কর রাজস্ব বিভাগ সূত্রের খবর, কোঅপারেটিভ সোসাইটির ক্ষেত্রে শেয়ার সার্টিফিকেট দেখালে পুরসভা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে মিউটেশন করে দেয়। কিন্তু সোসাইটিগুলি দীর্ঘদিন ধরে কমিটিহীন হয়ে থাকায় পুরসভাকে তারা শেয়ার সার্টিফিকেট দিতে পারছে না। পুরসভাও মিউটেশন করতে পারছে না। টালিগঞ্জ ট্যাক্সি ডিপার্টমেন্টের (টিডিডি) এক আধিকারিক এ বিষয়ে জানান, কমিটি না থাকায় নানা ভাবে সমস্যা হচ্ছে। শেয়ার সার্টিফিকেট না মেলায় কেউ কেউ ফ্ল্যাট বিক্রিও করতে পারছেন না।

কোঅপারেটিভ হাউজ়িং সোসাইটিগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে কেন কমিটি নেই?

বিভিন্ন সোসাইটি সূত্রের খবর, অনেক ক্ষেত্রেই পুরনো মালিকদের পুত্রকন্যারা দেশের বাইরে থাকেন। ফলে নতুন করে কমিটি গঠনে মাথাব্যথা নেই প্রবীণদের। কোঅপারেটিভ হাউজ়িং সোসাইটিগুলির বোর্ড বা কমিটি গঠন করে কোঅপারেশন ডাইরেক্টরেট। সেখানকার এক আধিকারিক জানান, কলকাতা ও সল্টলেক জুড়ে ১৯০০টি কোঅপারেটিভ হাউজ়িং সোসাইটি রয়েছে। যাদের বোর্ড গঠনের দায়িত্বে নিযুক্ত মাত্র ছ’জন সরকারি আধিকারিক। মাত্র ছ’জনকে দিয়ে এত বিশাল সংখ্যক সোসাইটির বোর্ড গঠন করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। ওই আধিকারিক জানান, বোর্ড গঠন ছাড়াও তাঁদের আরও একাধিক কর্মকাণ্ড রয়েছে। কোনও সোসাইটির বোর্ডের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হলে তাঁরাই কোঅপারেশন ডাইরেক্টরেটকে জানান। অভিযোগ, একাধিক সোসাইটি তাদের নিজেদের স্বার্থে নতুন বোর্ড গঠন করতে চায় না।

তপন দাশগুপ্ত সম্প্রতি পুরসভার অধিবেশনে প্রস্তাব রাখেন, ‘‘কোঅপারেটিভ সোসাইটিগুলি পরিচালনার ভার পুরসভা গ্রহণ করুক। তার ফলে পুরসভা আর্থিক ভাবে লাভবান হবে।’’ মেয়র ফিরহাদ হাকিম সোসাইটিগুলির অচলাবস্থার জন্য বাম জমানাকে দায়ী করে অভিযোগ করেন, ‘‘বাম আমলে কোঅপারেটিভ হাউজ়িং সোসাইটিগুলি নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য গঠিত হয়েছিল। তার ফল ভুগতে হচ্ছে এখনকারমানুষদের। সোসাইটিতে থাকা সমস্ত বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে পুরসভায় আবেদন করুন। আমরা বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে দেখব।’’ মেয়রের অভিযোগ প্রসঙ্গে বামপুরপ্রতিনিধি মধুছন্দা দেব বলেন, ‘‘তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরে ১৫ বছর হয়ে গেল। এত বছর ধরে সোসাইটিগুলির অচলাবস্থা ফেরাতে পারলেন না কেন? এটা বর্তমান শাসকদল তথা তৃণমূল পুরবোর্ডের ব্যর্থতা।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Housing Complex Mutation Property

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy