টাকার দরে পতন রোখা এবং বিদেশি লগ্নি টানার মরিয়া চেষ্টায় কেন্দ্র সরকারি ঋণপত্রে বিদেশি সংস্থাগুলির লগ্নিতে মূলধনী লাভে কর তুলে নিল। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি, দু’ক্ষেত্রেই তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। কর উঠে গিয়েছে সরকারি ঋণপত্রে বিদেশি লগ্নিকারীর সুদ বাবদ আয়েও। এতদিন বিদেশি সংস্থাগুলির লগ্নিতে দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভে ১২.৫%, স্বল্পমেয়াদি লাভে ৩০% এবং সুদ বাবদ আয়ে ২০% কর দিতে হত।
অর্থ মন্ত্রক বলছে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে আমদানির খরচ বেড়েছে। ফলে বেশি ডলার বেরিয়ে যাচ্ছে। অন্য দিকে যতখানি বিদেশি লগ্নি আসছে, তার থেকে বেশি চলে যাচ্ছে। ফলে বিদেশি মুদ্রার লেনদেনে ঘাটতি বাড়ছে, যা এই অর্থবর্ষে ৫০০০-৬০০০ কোটি ডলার ছুঁতে পারে। ফলে টাকার দাম পড়ছে। এই প্রেক্ষিতে সরকারি ঋণপত্রে কর তোলার সিদ্ধান্ত বেশি বিদেশি লগ্নি টেনে আনতে পারে। এ দিন রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্রও জানান, সরকারি ঋণপত্রে লগ্নির রাস্তা আরও চওড়া হচ্ছে। মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা ভি অনন্ত নাগেশ্বরনের দাবি, ‘‘রফতানি থেকে বিদেশি মুদ্রার আয়ের বদলে আমদানিতে তার খরচ বেড়ে যাওয়ায় চালু খাতায় বিদেশি মুদ্রার লেনদেনে ঘাটতি বেড়েছে। বিদেশি লগ্নিতে কর ছাড়ের ফলে তার উন্নতির সুযোগ রয়েছে।’’
যুদ্ধজনিত অস্থির আবহে গত দু’মাস ধরে সরকারের অন্দরমহলে আলোচনার পরে বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সরকারি ঋণপত্রে বিদেশি লগ্নিতে কর মকুবের সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য আয়কর আইনে সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। তা ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে দু’বছরে ৫০০০ কোটি ডলার পর্যন্ত লগ্নি আসতে পারে।
বিদেশি মুদ্রার লেনদেনে ঘাটতির ফলে গত মাসে টাকা নজিরবিহীন তলানিতে নামে। ডলার ওঠে ৯৭ টাকায়। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে টাকা ৫% কমেছে। গত এক বছরে কমেছে ১০.৩%। শুক্রবার ঘোষণার পরে অবশ্য টাকা বিরাট লাফ দেয়। ডলার ৫৬ পয়সা নেমে হয় ৯৫.১৮ টাকা। অন্য দিকে, সুদের হার কমেছে সরকারি ঋণপত্রে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)