কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় এক সময়ে রাজ্যে হু হু করে বাড়ছিল সংক্রমিতের সংখ্যা। তবে বর্তমানে শহরের সেফ হোমগুলিতে ভর্তি থাকা করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ফাঁকা থাকছে শয্যা। কলকাতা পুরসভা সূত্রে এমনই জানা গিয়েছে। যদিও চিকিৎসকেরা বার বার সাবধান করছেন, এই পরিস্থিতিতে কখনওই আত্মতুষ্টিতে ভোগার কোনও জায়গা নেই। তাই কোভিডকে হারাতে হলে এখনও ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং মাস্ক পরার উপরেই জোর দিতে হবে।
কলকাতা পুরসভা থেকে পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২১ মে শহরে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ২৫৫৬ জন। ২২, ২৩ এবং ২৪ মে ওই পরিসংখ্যান ছিল যথাক্রমে ২৩২২, ১৯১৮ এবং ১২৪২ জন। অর্থাৎ, গত কয়েক দিনে শহরে সংক্রমিতের সংখ্যা কিছুটা হলেও কমেছে। ফলে কলকাতা পুরসভা পরিচালিত সেফ হোমগুলিতেও এখন রোগী ভর্তির চাপ কিছুটা কম, তাই শয্যাও ফাঁকা থাকছে। পুরসভার স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, ই এম বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি অফিসে ২০০টি আসনের একটি সেফ হোম রয়েছে। সেখানে পুরুষ রোগীদের জন্য ১০০টি ও মহিলা রোগীদের জন্য ১০০টি শয্যার বন্দোবস্ত রয়েছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে ওই সেফ হোমে একটিও শয্যা খালি ছিল না। কিন্তু বর্তমানে সেখানে রোগীর সংখ্যা কমে প্রায় অর্ধেকে দাঁড়িয়েছে। একই অবস্থা আলিপুর ও রাজারহাটে পুরসভার সেফ হোমেও। রাজারহাটের সেফ হোমে ৬০টি ও আলিপুরের সেফ হোমে ২০০টি আসন রয়েছে। গত সপ্তাহ থেকে ওই দু’টি সেফ হোমে ভর্তি থাকা করোনা রোগীর সংখ্যা কমছে ধীরে ধীরে। এখন রাজারহাটে ও আলিপুরে যথাক্রমে ৩০ জন এবং ৮০ জন করোনা রোগী ভর্তি আছেন।
দিন কয়েক আগেই উত্তর কলকাতায় একটি সেফ হোম চালু হয়েছে। সেখানের ৭০টি আসনের অধিকাংশই বর্তমানে ফাঁকা রয়েছে। পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, ‘‘সেফ হোমে রোগী ভর্তি করানোর জন্য দিন সাতেক আগেও সব সময়ে ফোন বাজত। এখন রোগী ভর্তির জন্য ফোন আসার সংখ্যা অনেক কমেছে।’’
কলকাতা পুরসভা আগের তুলনায় করোনা পরীক্ষার সংখ্যাও বাড়িয়েছে। পুর স্বাস্থ্য বিভাগের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর পরে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকা একটা ভাল দিক তো বটেই।’’
তবে শহরে আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমার পিছনে সরকারের কড়াকড়ির নীতিও রয়েছে বলে মনে করছেন দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালের পালমোনোলজিস্ট অনির্বাণ নিয়োগী। তাঁর কথায়, ‘‘করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কম হওয়ার পিছনে কড়াকড়ির একটা ভূমিকা তো আছেই। ভিড় নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই করতে হবে। পাশাপাশি, মাস্ককে সঙ্গী করতে হবে। তবেই হার মানবে করোনা।’’ ভাইরোলজিস্ট অমিতাভ নন্দী অবশ্য একটানা দীর্ঘদিন কড়াকড়ির নীতির বিরোধী। তাঁর মতে, ‘‘মানুষকে খেতে হবে। তার জন্য বাইরেও বেরোতে হবে। করোনা এখন বিদায় নেবে না। এই পরিস্থিতিতে করোনার সঙ্গে যুঝতে মানুষকে শৃঙ্খলাবদ্ধ হতে হবে। কোথাও ভিড় করলে চলবে না। কেউ কোভিড-বিধি না মানলে নয়া আইন তৈরি করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তবেই করোনার মতো রোগকে ঠেকানো সম্ভব হবে।’’