Advertisement
E-Paper

যুবকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য

তেঘরিয়ায় একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হল এক যুবকের মৃতদেহ। বাগুইআটি থানার পুলিশ জানায়, মৃতের নাম প্রসেনজিৎ দাস (৩২)। একটি খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তবে বৃহস্পতিবার সুকান্তপল্লির এই ঘটনায় রহস্য দানা বেধেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০১৬ ০৬:২২
চলছে তদন্ত। বৃহস্পতিবার, তেঘরিয়ায়। (ইনসেটে) প্রসেনজিৎ দাস। — নিজস্ব চিত্র

চলছে তদন্ত। বৃহস্পতিবার, তেঘরিয়ায়। (ইনসেটে) প্রসেনজিৎ দাস। — নিজস্ব চিত্র

তেঘরিয়ায় একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হল এক যুবকের মৃতদেহ। বাগুইআটি থানার পুলিশ জানায়, মৃতের নাম প্রসেনজিৎ দাস (৩২)। একটি খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তবে বৃহস্পতিবার সুকান্তপল্লির এই ঘটনায় রহস্য দানা বেধেছে। পুলিশের অনুমান, মদ্যপান কিংবা কোনও শক্তিশালী মাদক সেবনের জেরে অসুস্থ হয়ে ওই যুবকের মৃত্যু হতে পারে। আবার স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুমান, ছোটখাটো সিন্ডিকেট সংক্রান্ত বিবাদের ঘটনায় জড়িয়ে খুন হতে পারেন প্রসেনজিৎ। জানা গিয়েছে, এলাকায় ওই যুবক সক্রিয় তৃণমূলকর্মী বলে পরিচিত।

প্রসেনজিতের মা মীরা দাস জানান, শুক্রবার ছেলের দিঘা যাওয়ার কথা ছিল। বুধবার রাতে তিনি বাড়ি ফিরে বাবা-মায়ের সঙ্গে টিভি দেখেন। এর পরে প্রসেনজিতের ঘরে খাবার দিয়ে তাঁরা শুতে চলে যান বলে জানান মীরাদেবী। তিনি বলেন, ‘‘এ দিন ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ বেরোতে গিয়ে দেখি বাইরে থেকে ঘরের দরজা বন্ধ। বারবার ফোন করেও ছেলে ফোন না ধরায় এক প্রতিবেশীকে ডাকি। তিনি এসে আমাদের ঘর খুলে দেন।’’ মীরাদেবী জানান, এর পরে তিনি দেখেন ছেলের ঘরের দরজাও বাইরে থেকে বন্ধ। ঘর খুলে দেখেন ছেলের মৃতদেহ খাটের উপরে পড়ে রয়েছে, মুখ দিয়ে ফেনা বেরোচ্ছে তাঁর।

স্থানীয় সূত্রে খবর, বিধাননগর পুর-নিগমের ২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান তথা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মণীশ মুখোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন প্রসেনজিৎ। এ দিন সকালে ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। তাঁর আত্মীয়, প্রতিবেশী এবং দলীয় কর্মীরা দাবি করতে থাকেন, তাঁকে খুন করা হয়েছে। এমনকী প্রতিবেশীদের দু’-এক জন জানান, তাঁরা রাত আড়াইটে নাগাদ বর্ষাতি পরা তিন ব্যক্তিকে প্রসেনজিতের বাড়ির পিছন দিয়ে পালাতে দেখেছেন।

এলাকার খবর, ইদানীং নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহের ছোট ব্যবসাও শুরু করেছিলেন প্রসেনজিৎ। রঙের এক ঠিকাদারকে এক তোলাবাজ ৪৭ হাজার টাকা চেয়ে হুমকি দেওয়ায় তিনি মধ্যস্থতা করেন। ওই ঠিকাদারকে শেষ পর্যন্ত তোলা দিতে না হলেও তোলাবাজের সঙ্গে গোলমাল চলছিল প্রসেনজিতের।

গোয়েন্দা প্রধান কঙ্করপ্রসাদ বারুই জানান, ঘটনার গতি-প্রকৃতি দেখে খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তিনি বলেন, ‘‘ছেলেটির মৃতদেহ যে ঘর থেকে পাওয়া যায়, সেটির দরজা বাইরে দিয়ে আটকানো ছিল। ছেলেটির মা-বাবার ঘরও বাইরে দিয়ে আটকানো ছিল। এই ঘটনায় অনেককেই জেরা করা হচ্ছে।’’

তদন্তকারীরা জানান, এ দিন সকাল থেকে দফায় দফায় অনেককে জেরা করা হয়। পরীক্ষা করা হয় প্রসেনজিতের মোবাইলটিও। তদন্তকারীদের একাংশের দাবি, প্রসেনজিৎ রাতে টিভি দেখে নিজের ঘরে ঢুকেছিলেন ঠিকই। তবে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে তাঁর মোবাইলের টাওয়ারের লোকেশন ভিআইপি রোডের এক পানশালায় পাওয়া গিয়েছে। আবার সওয়া ১১ টা নাগাদ টাওয়ার লোকেশন ছিল তাঁর বাড়িতেই। তার পরে রাত পৌনে তিনটে পর্যন্ত প্রসেনজিতের মোবাইলে ইন্টারনেট ঘাঁটার রেকর্ডও পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

এ দিন দুপুরে সিআইডির ফিঙ্গার প্রিন্ট বিশেষজ্ঞেরাও যান প্রসেনজিতের বাড়িতে। যায় পুলিশ কুকুরও। সিআইডি সূত্রে খবর, তাঁরা প্রসেনজিতের মৃত্যুর পিছনে খুনের অভিযোগের পাশাপাশি অসুস্থতার দিকটিও খতিয়ে দেখছেন। সিআইডি সূত্রে খবর, প্রসেনজিতের গলার ভিতরে নখের আঁচড় পাওয়া গিয়েছে। যা থেকে সন্দেহ, তিনি গলায় আঙুল দিয়ে বমি করার চেষ্টা করেছিলেন। এমনকী তাঁর মুখ থেকে যে রক্ত পাওয়া গিয়েছে তার সঙ্গেও জলীয় কিছু মিশে ছিল বলেই দেখেছেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা।

এক তদন্তকারী অফিসারের কথায়, ‘‘টাওয়ার লোকেশন অনুযায়ী ওই সময়ের মধ্যে প্রসেনজিৎ পানশালায় গিয়ে হয়তো মদ্যপান করেছেন বা মাদক নিয়েছেন। হতে পারে দু’টিই একসঙ্গে সেবন করেছেন। ফলে অসুস্থ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কারণ শ্বাসরোধ করলে মুখ দিয়ে ফেনা বেরোনোর কথা নয়।’’ রহস্যভেদ করতে পুলিশ প্রসেনজিতের মূত্রের নমূনা সংগ্রহ করছে। সংরক্ষণ করা হবে তাঁর ভিসেরাও।

তবে দু’টি দরজাই বাইরে থেকে বন্ধ করল কে? পুলিশের অনুমান, সম্ভবত মত্ত অবস্থায় প্রসেনজিতকে কেউ বাড়ি ছাড়তে এসেছিলেন। যিনি তাঁর ওই অবস্থা দেখে ভয়ে দু’টি ঘরেরই দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে চলে যান। আপাতত সেই ব্যক্তিকেই খুঁজে বার করার চেষ্টা করছে বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ। তার পরেই বোঝা যাবে প্রসেনজিৎ খুন হয়েছেন, না কি অসুস্থ হয়েই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।

CID Mystery
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy