নিউ টাউনে কেন্দ্রীয় পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মামলা রুজু করল নিউ টাউন থানার পুলিশ। তবে, কে বা কারা এর পিছনে জড়িত, তা স্পষ্ট নয়।
গত শনিবার নবীন ধরমবীর চৌধুরী (২৯) নামে মহারাষ্ট্রের নাসিকের আদি বাসিন্দা ওই ইঞ্জিনিয়ারের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় নিউ টাউনের ভাড়ার ফ্ল্যাট থেকে। সিজিও কমপ্লেক্সে তাঁর অফিস। সেখানে কেন্দ্রীয় পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন তিনি। বেঙ্গালুরু থেকে বদলি হয়ে মাসখানেক আগে কলকাতায় এসেছিলেন। পুলিশ সূত্রের খবর, নবীন দু’মাস ধরে বেতন পাচ্ছিলেন না। কলকাতায় বদলি হয়ে আসার ভাতাও পাননি। পুলিশের অনুমান, নবীন এ সব নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন। তবে, এর বাইরেও অন্য কোনও কারণ আছে কিনা, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, নবীনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের মনে হয়েছে, তাঁকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে ফেলা হয়েছে যে, তিনি আত্মহত্যাই বেছে নিয়েছেন। সেটা চাকরি সংক্রান্ত কিনা, খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এখনও সরাসরি কারও বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়নি। তদন্তকারীরা জানান, কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি। নবীনের ফোন ফরেন্সিকে পাঠিয়েছে পুলিশ। সেই রিপোর্টের উপরে ভিত্তি করে তাঁর কর্মস্থলে গিয়ে কথা বলতে পারেন তদন্তকারীরা।
নবীনের দেহ রাজস্থানে নিয়ে গিয়ে তাঁর অন্ত্যেষ্টি করেছে পরিবার। বাড়ির ছোট ছেলের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ সকলেই। চার বছরের কর্মজীবনে নবীনকে কখনও কর্মস্থল নিয়ে হতাশ হতে দেখেনি তাঁর পরিবার। পরিবারের সদস্যেরা জানাচ্ছেন, নবীন ফোনে শেষ কয়েক বার যখনই কথা বলেছেন, তখনই বেতন না পাওয়া নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। আবার সমস্যা মিটে যাবে বলে পরিবারকে আশ্বস্তও করেছেন। তার পরে কী করে এই ঘটনা ঘটল, বুঝতে পারছে না পরিবার।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)