E-Paper

‘বেতন-বঞ্চনা’ আর কত দিন, নয়া সরকারকে চিঠি অস্থায়ী কর্মীদের

আংশিক সময়ের কর্মীদের প্রশ্ন, নির্দেশিকা অনুযায়ী বৃদ্ধি পাওয়া টাকা, যা তাঁরা হাতে পান না, এত বছর ধরে কোথায় যাচ্ছে?

শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ০৯:০৪
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

বেতনের অঙ্কের নির্দেশ হয়েছিল এক রকম। অভিযোগ, কার্যক্ষেত্রে তার চেয়ে অনেক কম বেতন হাতে পাচ্ছেন তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের আংশিক সময়ের (ক্যাজ়ুয়াল) কর্মীরা। দীর্ঘ বছর সেই বঞ্চনা সহ্য করেছেন বলেও দাবি তাঁদের। এ বার তাঁরা নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দফতরে বেতন নিয়ে বঞ্চনার কথা লিখিত ভাবে জানালেন। ওই কর্মীদের দাবি, আধিকারিকদের একাংশের ভীতি প্রদর্শনের সামনে তাঁরা বাধ্য হয়েছিলেন মুখ বন্ধ রাখতে।

তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের তরফে জারি করা ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির একটি নির্দেশিকার উল্লেখ করে ওই আংশিক সময়ের কর্মীরা জানাচ্ছেন, প্রতি মাসে গ্রুপ-সি কর্মীদের বেতন হওয়ার কথা ১৮ হাজার ৫৮৭ টাকা এবং গ্রুপ-ডি কর্মীদের বেতন হওয়ার কথা ১৬ হাজার ১৬৫ টাকা। অথচ, বাস্তবে তাঁরা কেউই সেই অঙ্কের বেতন পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ।

তাঁরা জানাচ্ছেন, ওই নির্দেশিকা ১৪ জনের জন্য জারি হয়েছিল। কিন্তু যাঁদের নাম ওই তালিকায় ছিল এবং যাঁদের নাম ছিল না, তাঁদের এক দল হাতে পান ১০ হাজারের কিছু বেশি এবং অন্য দল হাতে ১১ হাজারের কিছু বেশি। তাঁদের দাবি, ২০১৯ সালের ওই নির্দেশিকা কোনও দিন সরকারি ভাবে তাঁদের হাতে এসে পৌঁছয়নি। সেটি তাঁরা কোনও ভাবে জোগাড় করেছিলেন।

আংশিক সময়ের কর্মীদের প্রশ্ন, নির্দেশিকা অনুযায়ী বৃদ্ধি পাওয়া টাকা, যা তাঁরা হাতে পান না, এত বছর ধরে কোথায় যাচ্ছে? এরই তদন্ত চেয়ে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে চিঠি দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি সংস্থা ওয়েবেলের মাধ্যমে তাঁদের চাকরি হয়েছিল। কারণ, লোক নিয়োগের পরিকাঠামো তখন তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের ছিল না।

সব মিলিয়ে ৩৮০ জন এমন কর্মী তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরে নিযুক্ত রয়েছেন বলে জানাচ্ছেন অভিযোগকারীরা। যাঁদের সিংহভাগই গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি। সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রাক্তন ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের দাবি, বিষয়টি তিনি কখনও দেখেননি। পুরো ব্যাপারটি অর্থ দফতর ও আধিকারিকেরা জানেন।

সূত্রের খবর, অভিযোগকারীরা মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে দেওয়া চিঠিতে কোনও আধিকারিকের নাম উল্লেখ করেননি। তাঁরা জানান, আধিকারিকদের একাংশ নিয়মিত তাঁদের হেনস্থা করেছেন, ভয় দেখিয়েছেন, যাতে বেতন নিয়ে তাঁরা সরব হতে না পারেন। ওই কর্মীদের অভিযোগ, বেতন-সহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানের দাবি করায় কাউকে বদলি করে দেওয়া হয়েছে। আবার কাউকে অনেক দূরে বদলি করে দেওয়ার কিংবা ছাঁটাই করার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

সরকারের যে সংস্থার দ্বারা ওই আংশিক সময়ের কর্মীরা নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন বলে তাঁদের দাবি, সেই ওয়েবেলের একটি শাখা ওয়েবেল সাপোর্ট মাল্টিপারপাজ় সার্ভিস। সেই শাখা-সংস্থার যে আধিকারিকের সই রয়েছে আংশিক সময়ের কর্মীদের অনেকের নিয়োগপত্রে, তিনিও গোটা বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। বরং, তাঁরা কোনও আংশিক সময়ের কর্মী নিয়োগ করেননি বলেই ওই আধিকারিক দাবি করেছেন।

এক কর্মীর কথায়, ‘‘আমাদের পরিবার রয়েছে। যে বেতন পাই, তাতে সংসার চলে না। ২০১৯ সালের ওই নির্দেশিকা পাওয়ার পরে আমরা ক্ষোভ জানিয়েছিলাম। তার পরে এক বার বেতন বেড়েছিল। কিন্তু তা কখনওই নির্দেশিকা অনুসারে হয়নি। বরং, এই বিষয়টি সব সময়ে ধোঁয়াশায় ঢেকে রাখা হয়েছে। আমাদের প্রশ্ন, এত টাকা এত বছর ধরে কোথায় যাচ্ছে?’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Salary

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy