Advertisement
০৪ মার্চ ২০২৪

নন এসি এখন বিভীষিকাই

মেট্রো কর্তাদের দাবি, যাত্রী ওঠা-নামার পরে সবক’টি কামরার দরজা ঠিক মতো বন্ধ হয়েছে কি না, তার একটি সঙ্কেত (ডোর–ইন্ডিকেটর) গার্ড এবং চালক কেবিনে বসে দেখতে পান। ওই সঙ্কেত পাওয়ার পরেই ট্রেনের শেষ কামরায় থাকা গার্ড চালককে ঘণ্টা বাজিয়ে ট্রেন ছাড়ার সঙ্কেত দেন। এর পরেই ট্রেন ছাড়ার কথা।

সমস্যা: পুরনো এমন রেকেই ঘটছে বিপত্তি। শুক্রবার, চাঁদনি চক স্টেশনে। ছবি: সুদীপ ঘোষ

সমস্যা: পুরনো এমন রেকেই ঘটছে বিপত্তি। শুক্রবার, চাঁদনি চক স্টেশনে। ছবি: সুদীপ ঘোষ

ফিরোজ ইসলাম
শেষ আপডেট: ১৮ অগস্ট ২০১৮ ০২:০৯
Share: Save:

মেট্রোর নন এসি রেকের দরজা খোলা-বন্ধের সমস্যা ক্রমশই বিভীষিকা হয়ে উঠছে যাত্রীদের কাছে। মেট্রোতে ওঠার সময় ব্যাগ-ছাতা তো বটেই, অনেক সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া দরজার মাঝে আটকে যাচ্ছে যাত্রীদের হাত-পা। সেই অবস্থাতেই ছুটতে শুরু করছে মেট্রো। বৃহস্পতিবার চাঁদনি চক মেট্রো স্টেশনে এই অভিজ্ঞতা হয়েছে এক মহিলা যাত্রীর। গত কয়েক মাসে পর পর এমন কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এর পরেই নন এসি রেকের স্লাই়ডিং দরজা খোলা-বন্ধ হওয়া নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠছে। এমনকি, যাত্রী ওঠা-নামার শেষে এবং মেট্রো চলতে শুরু করার আগে কর্তব্যরত‌ চালক এবং গার্ড কতটা সতর্ক থাকছেন, সেই প্রশ্নও উঠছে।

মেট্রো কর্তাদের দাবি, যাত্রী ওঠা-নামার পরে সবক’টি কামরার দরজা ঠিক মতো বন্ধ হয়েছে কি না, তার একটি সঙ্কেত (ডোর–ইন্ডিকেটর) গার্ড এবং চালক কেবিনে বসে দেখতে পান। ওই সঙ্কেত পাওয়ার পরেই ট্রেনের শেষ কামরায় থাকা গার্ড চালককে ঘণ্টা বাজিয়ে ট্রেন ছাড়ার সঙ্কেত দেন। এর পরেই ট্রেন ছাড়ার কথা। পাশাপাশি, কামরাগুলির স্লাইডিং দরজার মাঝখানে কোনও কিছু আটকে গেলে সেই দরজা ফের খুলে যাওয়ার কথা। কিন্ত নন এসি রেকগুলিতে এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকরী, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে খোদ মেট্রো আধিকারিকদের মধ্যেই। প্রায়ই নানা কারণে দরজা ঠিকমতো বন্ধ না হওয়ার সমস্যায় পড়তে হয় কর্তব্যরত চালকদের। ফলে মেট্রো ছাড়তেও অযথা দেরি হয় বলে অভিযোগ।

কিন্তু সময়ে ট্রেন চালানো নিয়ে নিরন্তর চাপের মধ্যে থাকা চালক এবং গার্ডেরা কী তাহলে কখনও কখনও দরজা বন্ধ হওয়ার সঙ্কেত উপেক্ষা করেন? মেট্রো কর্তাদের দাবি, এমন হওয়ার কথাই নয়। কারণ দরজা ঠিকমতো বন্ধ হওয়ার সঙ্কেত ছাড়া মেট্রো ছেড়ে দেওয়া সিগন্যাল অমান্য করার মতোই অপরাধ।

তা হলে বারবার এমন ঘটনা ঘটছে কী ভাবে? এক মেট্রো আধিকারিকের দাবি, নন এসি রেকগুলির দরজার প্রযুক্তি অনেকটাই পুরনো। তাই দরজার স্বয়ংক্রিয় সুইচ সব সময়ে ঠিকমতো কাজ করে না। ফলে অনেক সময় দরজার মাঝে কোনও বাধা না থাকলেও তা ঠিকমতো বন্ধ হয় না। সে সময়ে ডোর-ইন্ডিকেটরের সঙ্কেতও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে চালককেই বার বার চেষ্টা করে দরজা বন্ধ করতে হয়। আবার কখনও কয়েক মিলিমিটার পুরু কোনও জিনিস দরজার মাঝে পড়লে তা আলাদা করে বুঝতে পারে না সেন্সর। ফলে ওই অবস্থাতেই দরজা বন্ধ হয়ে যায় এবং ডোর-ইন্ডিকেটর সঙ্কেত দিয়ে দেয়।

আরও পড়ুন: মেট্রো ছেড়ে দিল, দরজায় আটকে আমার ছাতা

এই সমস্যা দূর করতে প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তারক্ষী রাখার পাশাপাশি, মেট্রোর কন্ট্রোল রুম থেকে সিসি ক্যামেরায় প্ল্যাটফর্মে নজরদারি চালানো হয়। বৃহস্পতিবার চাঁদনি চক স্টেশনের ঘটনাটি অবশ্য কী কারণে ঘটেছে, তা নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি ওই আধিকারিক। তবে তাঁর দাবি, নন এসি রেকের তুলনায় এসি মেট্রোয় এই ধরনের সমস্যা অনেকটাই কম। আর ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোয় কামরায় গায়ে বসানো সিসি ক্যামেরাতেই চালক যাত্রীদের ওঠা-নামা দেখার সুযোগ পাবেন বলে মেট্রো সূত্রের খবর।

কিন্তু সমস্যাদীর্ণ নন এসি রেকগুলিকে বিপদের ঝুঁকি নিয়ে এ ভাবে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে কেন? এর সদুত্তর অবশ্য মেট্রো কর্তাদের থেকে পাওয়া যায়নি।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement

Share this article

CLOSE