Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৬ জুন ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

উদ্যোক্তাদের চিন্তা বৃষ্টি, পুলিশকে ভাবাচ্ছে ভিড়

শুক্রবার পুজোর ছুটি পড়ার আগে কলকাতার একাধিক স্কুলে অভিভাবক-শিক্ষক বৈঠক ছিল। যার জেরে পার্ক সার্কাস-সহ বিভিন্ন এলাকায় ভিড় বেড়েছিল গাড়ির

নিজস্ব সংবাদদাতা
১৩ অক্টোবর ২০১৮ ০০:৫৪
Save
Something isn't right! Please refresh.
মন্থর: তৃতীয়ার যানজট। শুক্রবার, রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ে। ছবি: রণজিৎ নন্দী

মন্থর: তৃতীয়ার যানজট। শুক্রবার, রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ে। ছবি: রণজিৎ নন্দী

Popup Close

যানজট, ঝিরঝিরে বৃষ্টি, কেনাকাটার ভিড়, পুজোমণ্ডপে দর্শক। এবং বৃষ্টি নিয়ে পুজোকর্তাদের আশা-আশঙ্কা।

এটাই ছিল তৃতীয়ার কলকাতার চালচিত্র!

শুক্রবার পুজোর ছুটি পড়ার আগে কলকাতার একাধিক স্কুলে অভিভাবক-শিক্ষক বৈঠক ছিল। যার জেরে পার্ক সার্কাস-সহ বিভিন্ন এলাকায় ভিড় বেড়েছিল গাড়ির। ফলে যান চলাচল ব্যাহত হয় বেলেঘাটা মেন রোড, সৈয়দ আমির আলি অ্যাভিনিউ, শিয়ালদহ, পার্ক সার্কাস কানেক্টর, সিআইটি রোড, এ জে সি বসু রোড এবং মা উড়ালপুলে। এক সময়ে গাড়ির সারি দাঁড়িয়ে ছিল গড়িয়াহাট রোড (সাউথ) পর্যন্ত। সকালেই বজবজ রোডে দুর্ঘটনায় পড়ে একটি পণ্যবাহী গাড়ি। যার জেরে যান চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয় তারাতলা রোড, হাইড রোড ও বজবজ রোডে।

Advertisement

দুপুর থেকেই শ্রীভূমির পুজোমণ্ডপে ভি়ড়ের জন্য ভিআইপি রো়ডে যানজট শুরু হয়। তার প্রভাব পড়ে উল্টোডাঙা, কাঁকুড়গাছি এবং ই এম বাইপাসেও। কেনাকাটার ভিড়ের জন্য গড়িয়াহাট এবং হাতিবাগানেও সমস্যা হয়েছে। মাঝেরহাটে বেইলি ব্রিজ উদ্বোধনের পরেও আলিপুর এলাকায় যানজট হয়েছে।

এর সঙ্গেই উপরি পাওনা হিসেবে জুটেছে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঝিরঝিরে বৃষ্টি। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আজ, শনিবারও বৃষ্টি হতে পারে। দেবীর বোধন না হলেও পুজো কার্যত শুরু হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বৃষ্টি দেখে প্রমাদ গুনছেন পুজোকর্তাদের অনেকে। তবে কেউ কেউ আবার নিশ্চিন্ত। যেমন বড়িশা ক্লাবের পুজোকর্তা অনিমেষ চক্রবর্তী। তাঁর পুজোয় এ বার গর্ভধারিণী মাকেই দুর্গা হিসেবে তুলে ধরেছেন শিল্পী রিন্টু দাস। সেখানে মণ্ডপসজ্জায় ধাতুর পাশাপাশি ফিডিং বোতল, চুষিকাঠির মতো সরঞ্জামও ব্যবহার করা হয়েছে। বৃষ্টি দেখেও অনিমেষবাবুর গলায় নিশ্চিন্তির সুর, ‘‘আমাদের তেমন কিছু ক্ষতি হবে না।’’

চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপের বেশির ভাগই মাটি ও পরিবেশবান্ধব সরঞ্জাম দিয়ে তৈরি করেছেন শিল্পী দেবতোষ কর। পুজোকর্তা জয়ন্ত বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, বৃষ্টি হতে পারে ধরে নিয়ে গোড়া থেকেই মাঠ পুরো ঢেকে রাখা হয়েছিল। সেখানে এ দিন থেকেই লোকজন ভি়ড় করেছেন। বৃষ্টির মধ্যেই ভিড় জমেছিল নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘের মণ্ডপে। সেখানে এ বার সময়ের মায়া তুলে ধরেছেন শিল্পী সুশান্ত পাল। বলছেন, ‘‘ঘড়ির কাঁটা মেনে বদলে যাবে মণ্ডপের চেহারা।’’ বৃষ্টির সন্ধ্যাতেও আশাবাদী পুজোকর্তা বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের মণ্ডপে বেশির ভাগটাই লোহার। নীচে ইট ও সিমেন্টের ঢালাই। বৃষ্টিতে কোনও সমস্যা হবে না।’’ খবরের কাগজ এবং অন্যান্য নরম উপাদান দিয়ে মণ্ডপ সাজিয়েছে আদি শ্যামপুকুর সর্বজনীন। এ দিন উদ্বোধনের পরে বৃষ্টি নিয়ে চিন্তায় সেখানকার পুজোকর্তারা।

বৃষ্টি যেমন ভাবাচ্ছে পুজোকর্তাদের, তেমনই যানজট ভাবাচ্ছে পুলিশকে। পার্ক সার্কাসের যানজটের জন্য এ দিন বেলার দিকে যাদবপুর থানা ও মৌলালি থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। তাতেও সহজে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়নি। শেষে ওই এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে লালবাজার। দুপুরে রাসবিহারী অ্যাভিনিউ এবং আশুতোষ মুখার্জি রোডে যানজট হয়েছিল। চেতলাতেও যানজট ছিল। হাতিবাগান, গড়িয়াহাটের পাশাপাশি এপিসি রোড, মহাত্মা গাঁধী রোড, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ, লেনিন সরণিতেও গাড়ি চলাচল বারবার ধাক্কা খেয়েছে। সন্ধ্যার পরে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের গা়ড়ি বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিট দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। তাতেও পুলিশকে শহরের বহু জায়গায় গা়ড়ির চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে।

বিকেলে ঠাসাঠাসি ভিড় হয়েছে মেট্রোতেও। এসপ্লানেড থেকে বিকেল ৫টা নাগাদ মেট্রোয় উঠেছিলেন ধনঞ্জয় হাজরা। কালীঘাটে নামতে গিয়ে তাঁর অবস্থা কাহিল। বললেন, ‘‘মানুষের স্রোত যেন ঠেলে নামিয়ে দিল!’’ সন্ধ্যার পরে গড়িয়াহাট, রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ে পুজোর ভিড়ে বারবার আটকে গিয়েছে গাড়ির চাকা।

আজ, শনিবার চতুর্থী। উৎসবের জনজোয়ার আরও বাড়বে। এই পরিস্থিতিতে পথঘাটের হাল কী হবে? পুলিশের একাংশের ব্যাখ্যা, এ দিনই বহু স্কুল-কলেজে পুজোর ছুটি প়ড়ে গিয়েছে। কিছু অফিসও বন্ধ থাকবে। তাই রাস্তায় গাড়ির চাপ কমবে। তবে শেষ বেলার কেনাকাটা এবং মণ্ডপের ভিড়ের কথা মাথায় রাখছেন পুলিশকর্তারা। বস্তুত, আজ থেকেই পুরোদমে ভিড় সামলাতে মাঠে নামছে লালবাজার। তাই পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আশা করছেন উর্দিধারীরা।

অন্য দিকে, প্রবল যানজট হচ্ছে যশোর রোডেও। তাতে ট্রাকের সংখ্যাই বেশি। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের একাংশ ট্রাক থেকে টাকাও নিচ্ছেন। যানজটের কথা স্বীকার করে বারাসতের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘পুলিশের বিরুদ্ধে টাকা তোলার অভিযোগের সত্যতা নেই।’’

পরিস্থিতি কেমন হবে, তা সময়ই বলবে। তবে উৎসব-কাপের ‘কিক-অফ’ ম্যাচে লড়াই ভিড়-যানজট বনাম পুলিশের!

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement