অপহরণের পরে জোর করে আটকে রেখে এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধর্ষণের ফলে ওই নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে বলেও অভিযোগ।
দক্ষিণ শহরতলির একটি থানার পুলিশ বুধবার অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে। তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আলিপুরের বিশেষ পকসো আদালত।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম বিশ্বজিৎ বিশ্বাস। নাবালিকার পরিবারের অভিযোগ, তাকে আটকে রেখে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই যুবক দেড় বছর ধরে ধর্ষণ করেছে। কোনও ভাবেই বিশ্বজিতের খপ্পর থেকে মেয়েকে উদ্ধার করতে পারেননি তার অভিভাবকেরা। শেষ পর্যন্ত শিশু কল্যাণ সমিতি ওই যুবকের বাড়ি থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে হোমে পাঠায়।
বৃহস্পতিবার পুলিশ ধৃত বিশ্বজিৎকে আলিপুরের বিশেষ পকসো আদালতে পেশ করে। সরকারি আইনজীবী মাধবী ঘোষ বলেন, ‘‘বিচারক অভিযুক্তকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি, নির্যাতিতা এবং তার মায়ের গোপন জবানবন্দি গ্রহণ করার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারক। অভিযুক্তের মেডিকো-লিগ্যাল পরীক্ষার আবেদন করা হয়েছিল। তা মঞ্জুর করেছে আদালত।’’
আদালত সূত্রের খবর, ওই নাবালিকা নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের। তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের বাড়িতে আটকে রেখেছিল বিশ্বজিৎ। নাবালিকার মা একাধিক বার মেয়েকে ফিরিয়ে দিতে অনুরোধ করলেও বিশ্বজিৎ তা করেনি বলে অভিযোগ। এর পরেই নাবালিকার মা শিশু কল্যাণ সমিতির কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
শিশু কল্যাণ সমিতি নাবালিকাকে উদ্ধার করে হোমে পাঠায়। পরে সেখানে শারীরিক পরীক্ষায় তার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার বিষয়টি সামনে আসে। তদন্তকারীরা জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার বিশ্বজিৎকে গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে, পুলিশ অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের লোকজনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁদের লিখিত বয়ান নিয়েছে।
তদন্তকারীরা জানান, দীর্ঘদিন এক নাবালিকাকে বাড়িতে রাখা সত্ত্বেও বিশ্বজিৎকে বাধা দেয়নি তার পরিবার। বাড়িতে কী ঘটছে, তা অভিযুক্তের পরিজনেরা কেন দেখলেন না, তা নিয়েও সন্দিহান পুলিশ। কেন পরিবারের তরফে বিশ্বজিৎকে বাধা দেওয়া হয়নি, কেনই বা পুলিশকে কিছু জানানো হয়নি, সে সব খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আপাতত বিশ্বজিতের পরিবারের সদস্যদের লিখিত বয়ানের উপরে ভিত্তি করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)