E-Paper

রাস্তায় পুলিশের উপস্থিতি জরুরি, বাহিনীকে নির্দেশ নগরপালের

বাহিনীর অন্দরে স্পষ্ট নির্দেশ, রাস্তায় যাতে পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়ে, তা দেখতে হবে। মঙ্গলবারই নগরপাল আনন্দপুর থানা, সাউথ সাবার্বান ডিভিশন, সাউথ ওয়েস্ট ডিভিশন ও ইস্ট ডিভিশনে পরিদর্শনে যান।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:১৭
সুপ্রতিম সরকার।

সুপ্রতিম সরকার। — ফাইল চিত্র।

পুলিশ কোথায় ছিল? জরুরি সময়ে রাস্তায় কেন পুলিশকে দেখা যায় না? কখনও হাইট বারের ধাক্কায় লরির মাথায় বসে থাকা তরুণের মৃত্যুর পরে, কখনও চলন্ত গাড়িতে তরুণীকে জোর করে তুলে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে আসার জেরে, কখনও আবার বড়সড় পথ দুর্ঘটনা ঘটলে, গত কয়েক মাসে একাধিক ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে পথে পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে। অনেকেরই অভিযোগ, উৎসব বা বড় কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি ছাড়া এখন আর ট্র্যাফিক পুলিশকর্মীদের রাস্তায় তেমন ভাবে দেখা যায় না। সবটাই চলে স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থায়। তাঁদের প্রশ্ন, এই পথে জরিমানা হয় ঠিকই, কিন্তু আইন মানতে বাধ্য করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় কি? সূত্রের খবর, দায়িত্ব পাওয়ার পরে সর্বাগ্রে এই পরিস্থিতিই বদলাতে উদ্যোগী হয়েছেন কলকাতার নবনিযুক্ত নগরপাল সুপ্রতিম সরকার। তিনি বাহিনীর অন্দরে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, রাস্তায় যাতে পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়ে, তা দেখতে হবে। মঙ্গলবারই নগরপাল আনন্দপুর থানা, সাউথ সাবার্বান ডিভিশন, সাউথ ওয়েস্ট ডিভিশন ও ইস্ট ডিভিশনে পরিদর্শনে যান।

বাহিনীর অন্দরের একাংশ মনে করছেন, এতে আদতে পুলিশের ভাবমূর্তিই উজ্জ্বল হবে। দ্রুত অপরাধীকে ধরা যেমন যাবে, তেমনই নিশ্চিন্ত বোধ করবেন কলকাতার নাগরিকেরা। প্রথম দিন থেকে পুলিশ নাগরিকদের পাশে আছে, বোঝাতেই নতুন নগরপালের এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। এর সঙ্গেই নতুন নগরপাল ট্র্যাফিক পুলিশ কর্মীদের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন বলেও সূত্রের খবর। কলকাতার রাস্তায় বেআইনি পার্কিং তিনি বরদাস্ত করবেন না বলে জানিয়েছেন। সাত দিনের মধ্যে কলকাতার রাস্তায় যান চলাচল যাতে মসৃণ হয়, সে দিকটি বিশেষ ভাবে দেখার জন্য তিনি ট্র্যাফিক পুলিশের কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রের খবর, এর পাশাপাশি নগরপালের নির্দেশ, কাজের সময়ে পরিচ্ছন্ন এবং পরিপাটি ইউনিফর্মে থাকতে হবে। আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জোর দিতে হবে। ট্র্যাফিক পুলিশকর্মীদের মোটরবাইক ভাল অবস্থায় রাখতে বলা হয়েছে। এর পরেই সোমবার রাত থেকে বিশেষ সক্রিয়তা চোখে পড়ছে ট্র্যাফিক পুলিশকর্মীদের মধ্যে। ইতিমধ্যেই শহরের নানা জায়গা থেকে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা গাড়ি ও মোটরবাইক রেকার ভ্যানের মাধ্যমে সরিয়ে নিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। মানিকতলা গড়পারের কাছে কর্তব্যরত ট্র্যাফিক পুলিশের এক কর্মী বলেন, ‘‘এমন গাড়ির জেরে পাড়ার লোকের সমস্যা হয়, মসৃণ যান চলাচল বাধা পায়। বর্ষায় এই ধরনের পড়ে থাকা গাড়িতেই মশার লার্ভা হয়।’’ এমন যে সমস্ত গাড়ির জন্য মসৃণ যান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে, সেগুলিকে আগে সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন নগরপাল। নানা স্তরে কোন কোন এলাকায় কী কারণে যানজট হয়, সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট তৈরি করে লালবাজারে দেখা করতেও বলা হয়েছে।

পুলিশের একাংশের দাবি, আগে যুগ্ম নগরপাল (ট্র্যাফিক) এবং অতিরিক্ত নগরপাল হিসাবে ট্র্যাফিক সংক্রান্ত বিষয়ের দায়িত্ব সামলেছেন সুপ্রতিম। ফলে তিনি কলকাতাকে হাতের তালুর মতো চেনেন। গত কয়েক বছরে ট্র্যাফিক সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ যে নাগরিকদের তরফে আসছে, সে বিষয়টিও জানা রয়েছে আজন্ম কলকাতার বাসিন্দা নগরপালের। ফলে প্রথমেই তিনি এই দিকটিতেই বিশেষ নজর দিয়েছেন। কিন্তু এর মধ্যেও প্রশ্ন উঠছে, গত বেশ কয়েক মাস ধরে পূর্ব ট্র্যাফিক গার্ড ও দক্ষিণ পূর্ব ট্র্যাফিক গার্ডের ওসি-র পদ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। এই পদে থাকা অফিসারেরা পদোন্নতি পেয়ে গিয়েছেন। আগের পুলিশ কর্তাদের যুক্তি ছিল, এখন ট্র্যাফিক গার্ডগুলিতে একাধিক অতিরিক্ত ওসি থাকায় কাজে সমস্যা হয় না। নতুন নগরপাল এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ করেন, সে দিকেও নজর থাকছে সংশ্লিষ্ট মহলের।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

police Kolkata Police

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy