গত সপ্তাহে খিদিরপুরের অরফ্যানগঞ্জের একটি বাড়ির মাটি খুঁড়ে ১১টি অস্ত্র উদ্ধার করেছিল পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছিল এক জনকে। সেই ঘটনায় এ বার বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহকে জেরা করতে চায় পুলিশ। কসবা থানা এলাকায় এক ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়ার পরে বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছে ওই বিজেপি নেতা। পুলিশ সূত্রের খবর, খুব দ্রুত জেলে গিয়ে রাকেশকে জেরা করার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে। পরে প্রয়োজনে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েও জেরা করতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে অস্ত্র উদ্ধারের ওই ঘটনায় আলিপুর থানার পুলিশ রাজেশকুমার সাউ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছিল। ওই যুবক সেই বাড়িতেই থাকত। আদালতে তোলা হলে বিচারক তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। সেই হেফাজত শেষে আজ, মঙ্গলবার ফের তাকে আদালতে তোলা হবে। অভিযোগ, রাজেশ বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহের ঘনিষ্ঠ। তবে সূত্রের খবর, পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন সে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে। এমনকি, রাজেশ পুলিশি তদন্তে অসহযোগিতা করছে বলেও সূত্রের দাবি।
প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানিয়েছে, যে এলাকা থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল, সেই এলাকার নিয়ন্ত্রক রাকেশ সিংহ। তার অঙ্গুলিহেলন ছাড়া কার্যত ওই এলাকায় মশা-মাছিও গলতে পারে না। তাই পুলিশের দাবি, রাকেশ ওই অস্ত্রের বিষয়ে সব জানে। প্রাথমিক অনুমান, রাকেশের নির্দেশেই তার সঙ্গীরা ওই অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছিল। কী উদ্দেশ্যে সেগুলি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল এবং কোথা থেকে ওই এলাকায় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আসা হয়েছিল, তা জানতেই রাকেশকে জেরা করা প্রয়োজন বলে পুলিশের দাবি। সেই মতো সব প্রক্রিয়া এগোচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ইতিমধ্যে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে আলিপুর থানায়। তাতে রাকেশ ও তার সঙ্গীদের নাম রয়েছে।
অন্য দিকে, কসবায় একটি সম্পত্তি দখল করতে গিয়ে জমির মালিক-সহ কয়েক জনকে মারধর ও খুনের চেষ্টার অভিযোগে কয়েক মাস আগে ধরা পড়ে রাকেশ ও তার এক ছেলে। তার পর থেকে সে জেলেই রয়েছে। উল্লেখ্য, রাকেশের আর এক ছেলের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)