E-Paper

অধিকাংশ শিক্ষক ভোটের প্রশিক্ষণে, পরীক্ষা নেওয়া নিয়ে আতান্তরে স্কুল

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ জুড়ে চলবে ওই শিক্ষকদেরভোটের প্রশিক্ষণ। আবার, প্রথম পর্যায়ক্রমিক পরীক্ষা নেওয়ার কথা পয়লা এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিলের মধ্যে।

আর্যভট্ট খান

শেষ আপডেট: ৩০ মার্চ ২০২৬ ০৯:২০
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

কোনও স্কুল থেকে প্রায় অর্ধেক। কোনও স্কুলের তিন-চতুর্থাংশ। কোথাও আবার খোদ প্রধানশিক্ষক থেকে শুরু করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী। ভোটের প্রশিক্ষণনিতে ছোটার ধাক্কায় প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন কী ভাবে নেওয়া হবে, তা নিয়ে দিশাহারাসব স্কুল।

উল্লেখ্য, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ জুড়ে চলবে ওই শিক্ষকদেরভোটের প্রশিক্ষণ। আবার, প্রথম পর্যায়ক্রমিক পরীক্ষা নেওয়ার কথা পয়লা এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিলের মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে প্রধান শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, তাঁরা কেউ পরীক্ষার সূচি পিছিয়ে, কেউ বা চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের কাজে লাগিয়ে পরীক্ষা-পর্ব উতরোতে চাইছেন। তাঁদের বক্তব্য, ভোটের কাজের জন্য স্কুলশিক্ষকদেরনেওয়া নতুন নয়। কিন্তু এ বার সেই সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় সমস্যা তীব্র হয়েছে।

বাটানগরের জগতলা সূর্যকুমার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমন মজুমদার জানাচ্ছেন, তাঁদের ১৫ জন শিক্ষকের মধ্যে প্রায় সকলের, এমনকি স্কুলের একমাত্র চতুর্থশ্রেণির কর্মীরও ভোটের ডিউটি পড়েছে। ইতিমধ্যে প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে। সুমন বলেন, ‘‘এমন দিনে প্রশিক্ষণ পড়েছে, যে দিন পরীক্ষাও রয়েছে। স্কুলে শিক্ষক কম থাকলেকী ভাবে পরীক্ষা নেব? তাইরুটিনে কিছু রদবদল করতেই হবে।’’ সেই সঙ্গে তিনি জানান, স্কুলের একমাত্র চতুর্থ শ্রেণির কর্মী যে দিন প্রশিক্ষণে যাবেন, সে দিন স্কুল খোলা, ঘণ্টা বাজানো এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ কে করবেন, তা নিয়েও সমস্যা হবে।

বাঘা যতীন বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শম্পা ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলের ৪৬ জন শিক্ষিকার মধ্যে ৩১ জনকে ভোটের জন্য নেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় প্রথম পর্যায়ক্রমিক পরীক্ষা নেওয়া তো রীতিমতো সমস্যার। সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাদের প্রশিক্ষণ এবং পরীক্ষা একইদিনে পড়লে যাঁরা স্কুলে থাকবেন, তাঁদের উপরে চাপ পড়বে। তাঁরা রাজি না হলে পরীক্ষার তারিখ পিছোতে হবে।’’

মিত্র ইনস্টিটিউশন, ভবানীপুর শাখার প্রধান শিক্ষক রাজা দে জানান, তাঁদের স্কুলের ২২ জন শিক্ষকের ভোটের ডিউটি পড়েছে। এঁদের মধ্যে বেশির ভাগের প্রশিক্ষণ ৪ এপ্রিল। তাই সেই দিনের পরীক্ষা পিছোতেই হবে। রাজা বলেন, ‘‘ভোটের ডিউটি তো প্রতি বারই পড়ে। কিন্তু, এ বার প্রায় সব শিক্ষককে নেওয়ায় ভীষণ সমস্যা হচ্ছে। শুধু তো প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন নয়। তার সঙ্গে রয়েছে উচ্চ মাধ্যমিকের দ্বিতীয় সিমেস্টারের ফল প্রকাশ। দ্বিতীয় সিমেস্টারে যারা অনুত্তীর্ণ হবে, তাদের আবার সাপ্লিমেন্টারি নিতে হবে। অধিকাংশ শিক্ষক ভোটের প্রশিক্ষণে গেলে কী ভাবে এই কাজ করা সম্ভব?’’

যাদবপুর বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক পার্থপ্রতিম বৈদ্য বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলের ৪০ জন শিক্ষকের ভোটের ডিউটি পড়েছে। ২ এবং ৩ এপ্রিল তাঁদের প্রশিক্ষণ। ওই দু’দিন চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক ও পার্শ্ব শিক্ষকদের দিয়ে পরীক্ষার কাজ চালানো ছাড়া উপায় নেই।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

West Bengal Assembly Election

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy