×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৪ জুন ২০২১ ই-পেপার

ফল-সব্জির বাজার আগুন, হাত পুড়ছে শহরবাসীর

শিবাজী দে সরকার
১৫ অক্টোবর ২০১৬ ০০:৪০
স্বাদের খোঁজে। শুক্রবার। — সুমন বল্লভ

স্বাদের খোঁজে। শুক্রবার। — সুমন বল্লভ

ভিড় এড়াতে বৃহস্পতিবারই লক্ষ্মীপুজোর ফলমূল কিনতে বাজারে গিয়েছিলেন টালিগঞ্জের কিশোর দাস।

কিন্তু আপেল এবং পেয়ারা কিনতে গিয়ে তাঁর চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। দু’টি পেয়ারার দাম ফলওয়ালা হেঁকেছে ৩০ টাকা। আর সাধারণ আপেলের কেজি ১০০-১১০ টাকা। ভালো মানের আপেল ১৩০-১৫০ টাকা। মহানগরের বিভিন্ন বাজারে খেজুর ১০০-১২৫ টাকা প্রতি কেজি। মুসাম্বি বিক্রি হচ্ছে দু’টি ২০ টাকায়। ২০০ টাকার বেশি প্রতি কেজিতে বিকোচ্ছে বেদানা।

দুর্গাপুজো সবে গিয়েছে। তা ছাড়া দুর্গাপুজো সর্বজনীন। ভোগ থেকে শুরু করে ফল-প্রসাদের খরচ পুজো কমিটিগুলিই বহন করার জন্য সাধারণ মানুষকে বাজারের আঁচ টের পেতে হয় না। কিন্তু ধন আর যশের দেবী লক্ষ্মীর আবাহনের ব্যবস্থা করতে গিয়ে মধ্যবিত্তকে সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেতে হচ্ছে। আজ, শনিবার লক্ষ্মীপুজোর ফল-প্রসাদ থেকে শুরু করে কাঁচা সব্জী কিংবা খিচুড়ি ভোগের চাল, ডাল— সব কিছুরই দাম বেড়েছে গত বারের তুলনায়।

Advertisement

কলকাতার বিভিন্ন বাজার ঘরে দেখা গেল, ফলের বাজারে হাত দেওয়ার সাহস করে উঠতে পারছেন না অনেকেই। বিভিন্ন বাজারে আপেলের দাম ছুঁয়েছে ১০০ টাকার বেশি। পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে। লক্ষ্মীপুজোর জন্য নারকেল কিনছিলেন মানিকতলার অনিল রায়। অনেক দরদামের পরে দু’টি নারকেল পেলেন ৭০ টাকায়। বড় সাইজের নারকেলের দাম তো আরও বেশি। অগত্যা ছোট ওই দু’টি নারকেল দিয়েই লক্ষ্মী ঠাকুরের সামনে নাড়ু দেবেন বলে জানালেন তাঁরা। ৭০ টাকায় নারকেল এবং ৬০ টাকা কিলো দরে শসা কেনার পরে নাসপাতির দিকে হাত বাড়িয়েছিলেন রায় পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু নাসপাতি কেজি প্রতি ২০০-২৫০ টাকায় বিকোচ্ছে দেখে আর কিনতে সাহস করেননি। নারকেল-শসা নিয়েই সব্জি বাজারের দিকে হাঁটা লাগিয়েছেন।বর্ষা বিদায় নেয়নি এখনও। মাঝে মধ্যেই বৃষ্টিতে ভিজছে খেতের ফসল। তার মধ্যেও বাজারে চলে এসেছে শীতের সব্জি। স্থানীয়ের সঙ্গে ভিন্‌ রাজ্যের ফুলকপি মিলছে। সঙ্গে বাঁধাকপিও। ফলের দাম তুলনায় বেশি দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন, খিচুড়ি এবং সব্জি দিয়ে সেই খামতি মিটিয়ে দেবেন। কিন্তু তাতেও বাধ সেধেছে দাম। কলকাতার বিভিন্ন বাজারে শুক্রবার সকালে ফুলকপি বিক্রি হয়েছে জোড়া ৪০-৫০ টাকায়। তবে ভাল ফুলকপি বিকিয়েছে প্রতিটি অন্তত ৫০ টাকায়। বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, এ বার বেগুন এবং পটলের অঢেল উৎপাদন হওয়ায় সেগুলির দাম সে ভাবে বাড়েনি। তা-ও এ দিন বাজারে বেগুন এবং পটল বিক্রি হয়েছে ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে।

সল্টলেকের বাসিন্দা শ্রীমতী ঘোষের মতো অনেকেই খিচুড়ি ভোগ দেন ঠাকুরের কাছে। সব্জির মতো খিচুড়ির উপকরণের দাম অন্য বারের তুলনায় বেশি বলে তাঁর অভিযোগ। শুক্রবার শ্রীমতীদেবী উল্টোডাঙা বাজার থেকে গোবিন্দভোগ চাল কিনেছেন ৮০ টাকা কেজি দিয়ে। অবশ্য ভালো মানের ওই চালের দাম ১০০-১২৫ টাকা কেজি। তবে তাঁর অভিযোগ, ৮০ টাকা দিয়ে চাল কিনতে পারলেও মুগ ডালের দাম আকাশছোঁয়া। সাধারণ মুগডাল তিনি কিনেছেন কেজি প্রতি ১৬০ টাকায়।

Advertisement