Advertisement
E-Paper

বিদ্রোহীদের দখলেই মমতার পরিষদীয় দল, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত! স্পিকার স্বীকৃতি দিতেই খুলে দেওয়া হল বিধানসভার ঘর

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বিধানসভায় মুখ্যসচেতক করা হয়েছে আখরুজ্জামানকে। ডেপুটি লিডার হলেন চার জন। জাভেদ আহমেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা এবং সন্দীপন সাহা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬ ১৭:১৮
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। —নিজস্ব চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হলেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন বিরোধী দলনেতার জন্য বিধানসভার ঘর খুলে দেওয়া হল। চাবি দিয়ে দিলেন স্পিকার রথীন্দ্র বসু। ঋতব্রত জানালেন, তৃণমূলের টিকিটে জয় পাওয়া দুই-তৃতীয়াং‌শই ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তাঁরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। বিধানসভায় শাসক বিজেপির সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়াই করবেন।

জানা যাচ্ছে, তৃণমূলের ৮০ বিধায়কের মধ্যে ৬০ বিধায়ক ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছেন। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বলেন, ‘‘আপাতত ৫৮ জন। আরও দু’জন আছেন। তাঁরা এখন রাজ্যের বাইরে আছেন। তাঁদের সম্মতি রয়েছে। তাঁদের সমর্থন এলে এই সংখ্যা ৬০ হবে।’’ পাশাপাশি, তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শদাতা হওয়ার আবেদন করলেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁদের দূর-দূরান্তের সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করলেন তিনি।

ঋতব্রত জানিয়েছেন, বিধানসভায় মুখ্যসচেতক করা হয়েছে আখরুজ্জামানকে। ডেপুটি লিডার করা হয়েছে চার জনকে— জাভেদ আহমেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা এবং সন্দীপন সাহা। তাঁদের সমর্থনের চিঠি বিধানসভার স্পিকারকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঋতব্রতের কথায়, ‘‘মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠক ডেকেছিলেন। তাঁকে ধন্যবাদ যে, বিরোধীদের নিয়ে তিনি বৈঠক করেছেন। কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনার বিরোধী বিধায়কেরা উপস্থিত ছিলেন। আমরা দায়িত্বশীল, সদর্থক বিরোধীর ভূমিকা পালন করব। সরকারের চোখে চোখ রেখে লড়াই হবে। তাদের সদর্থক পদক্ষেপের প্রশংসাও করব।’’ ঋতব্রত আরও বলেন, ‘‘বাংলার মাটিতে মানুষ রায় দিয়েছেন আমাদের বিরোধী আসনের জন্য। সেটা মেনে নিতে হবে। আমি ‘বস্’ নই। আমি বসিংয়ে বিশ্বাসী নই। আমি আমরায় বিশ্বাস করি। সব সিদ্ধান্ত আলোচনা করে নেব আমরা।’’

উল্লেখ্য, বিধানসভার সই-কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর থেকে তৃণমূলে ফাটল চওড়া হতে শুরু করে। বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসাবে বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবের চিঠিকে কেন্দ্র করে সেই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ ওঠে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে যে প্রস্তাব পাঠান, তাতে অনেক তৃণমূল বিধায়কের সই ‘জাল’ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঋতব্রত এবং সন্দীপনই সই জাল করার বিষয়টি বিধানসভাকে জানান। তার পরেই হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয়। তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তে নেমে ১৩ জন বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছে তারা। এই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিধানসভার স্পিকারকে আবার চিঠি দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। তিনি বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা করার সাম্প্রতিক ইতিহাস টেনে শোভনদেবকেই স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন করেছিলেন।

বুধবার ঋতব্রত যখন বিধানসভায় ঘোষণা করছেন, তৃণমূলের পরিষদীয় দলকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য মমতাকে তিনি আবেদন করবেন, সেই সময় কালীঘাটে অভিষেক-কুণাল-চন্দ্রিমাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন তৃণমূলনেত্রী।

Ritabrata Banerjee
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy