ব্যাগভর্তি টাকার পর কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে এ বার আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হল। কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে ওই আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই মুচিপাড়া থানায় দুই তৃণমূল নেতা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরিতোষ দত্তের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু হয়েছে।
কী ভাবে ওই অস্ত্র ইউনিয়ন রুমে এল, কেন আনা হয়েছিল, এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, দুই তৃণমূল নেতাকে এই বিষয়ে জেরা করা হবে। পুলিশ সূত্রে খবর, কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ছিলেন দেবাশিস। অভিযোগ, দেবাশিস এবং আর এক নেতা পরিতোষ কলেজের একতলার একাধিক ঘর তালাবন্ধ করে রেখেছিলেন। এমনকি ইউনিয়ন রুমও। সেখানে কারও প্রবেশাধিকার ছিল না। দুই নেতা নিজেদের কাজে ওই ঘর ব্যবহার করতেন। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টেয় যখন কলেজ কর্তৃপক্ষ একতলার একটি ঘর খোলেন, তখন সেই ঘরে দু’টি ট্রলির ভিতরে টাকা উদ্ধার হয়। তার পর রাত পৌনে ৯টা নাগাদ কলেজের অধ্যক্ষ এবং অন্য পড়ুয়ারা ইউনিয়ন রুমে আগ্নেয়াস্ত্র দেখতে পান। তার পরই দুই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু হয়। কলেজের অধ্যক্ষের অভিযোগ, দুই তৃণমূল নেতার কাছে একতলার ওই ঘরগুলির চাবি চাইলে তাঁরা হুমকি দিতেন।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার দুপুরে কলেজের ইউনিয়ন রুমের আলমারি থেকে টাকাভর্তি দু’টি ব্যাগ উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। ব্যাগের ভিতর থেকে যে বান্ডিল বান্ডিল টাকা উদ্ধার হয়েছে, দেখা যায় সেগুলি উইপোকা খেয়ে নিয়েছে। টাকা উদ্ধারের খবর পেয়েই কলেজে পৌঁছে গিয়েছিল মুচিপাড়া থানার পুলিশ।
বরাহনগরের বিধায়ক সজল ঘোষ মঙ্গলবারই অভিযোগ করেন, সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তির বিনিময়ে তৃণমূলের ছাত্রনেতারা কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন। সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ছাত্র সংসদের কোটি কোটি টাকার আত্মসাতের অভিযোগ তুলে গত সপ্তাহেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিয়ে তদন্তে দাবি জানিয়েছিলেন বিজেপি বিধায়ক সজল। তার পরই মঙ্গলবার কলেজে ব্যাগভর্তি টাকা উদ্ধার হওয়ায় হুলস্থুল পড়ে যায়। সজল দাবি করেন, এগুলি সব দুর্নীতির টাকা। তৃণমূলের ছাত্রনেতাদের গ্রেফতার করলেই এই টাকার উৎসের হদিস পাওয়া যাবে।
ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের তথ্য তুলে মঙ্গলবার সজল বলেন, “ছাত্র সংসদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের তহবিলে দেড় কোটি টাকা জমা রয়েছে। কলেজের ছাত্র সংসদের জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে সাধারণত ৫০-১০০ টাকা নেওয়া হয়। সেই কালেকশন থেকে কখনও বছরে দেড় কোটি টাকা ছাত্র সংসদের তহবিলে আসতে পারে না।”