বিছানা, এসি, আধুনিক শৌচালয়— কী নেই সেই ঘরে! সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুমে টাকা হদিস মেলার পাশাপাশি বিলাসবহুল কক্ষেরও খোঁজ পাওয়া গেল। আদ্যোপান্ত একটি সাধারণ ঘরকে স্বাচ্ছন্দ আর বিনোদনের কেন্দ্র বানিয়ে তোলা হয়েছিল। সেখানে মিলেছে গর্ভনিরোধকের প্যাকেটও। শহরের এ রকম একটি নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই বিলাসবহুল ঘরের খোঁজ মেলায় হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে।
কলেজের দু’টি ঘরকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। ঝাঁ-চকচকে দেওয়াল। সুন্দর করে রং করা। ফলস সিলিং। এসি, শোয়ার খাট, আলমারি, বিছানা এমনকি অত্যাধুনিক শৌচালয়ও। কলেজের ভিতরে এমন দু’টি বিলাসবহুল ঘর রয়েছে, তা দেখেই তাজ্জব হয়ে গিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। দু’টি ঘরকে এমন ভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে, দেখে মনে হতে পারে যেন কোনও বিলাসবহুল হোটেলের ঘর। অভিযোগ উঠেছে, এই ঘরে তৃণমূলের ছাত্রনেতাদের অবাধ যাতায়াত ছিল। কলেজের ভিতরে এমন বিলাসবহুল ব্যবস্থা কিসের জন্য করা হয়েছিল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার কলেজের তালাবন্ধ ইউনিয়ন রুম খুলতেই উদ্ধার হয় দু’টি ট্রলিভর্তি উইপোকায় খাওয়া বান্ডিল বান্ডিল টাকা উদ্ধার হয়। এ ছাড়াও ওই ঘর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই দুই তৃণমূল নেতা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরিতোষ দত্তের বিরুদ্ধে মুচিপাড়া থানায় অস্ত্র আইনে মামলা রুজু হয়েছে। ইউনিয়ন রুমে যখন তল্লাশি চলছিল, সেই সময় কলেজের আরও দু’টি তালাবন্ধ ঘর খোলা হয়। তখনই ওই দু’টি ঘরে ভিতরে বিনোদন আর স্বাচ্ছন্দ্যের সব রকম ব্যবস্থার হদিস মেলে। বরাহনগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের উপস্থিতিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ ওই তালাবন্ধ ঘরগুলি খোলেন।
বিধায়ক সজল মঙ্গলবারই অভিযোগ করেন, সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তির বিনিময়ে তৃণমূলের ছাত্রনেতারা কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন। কলেজের ছাত্র সংসদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে গত সপ্তাহেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। তার পরই মঙ্গলবার কলেজে ব্যাগভর্তি টাকা উদ্ধার হয় এবং বিলাসবহুল ঘরের হদিস পাওয়া যায়।