Advertisement
E-Paper

ফাঁসানোর চাপ ছিল শানুকে, আবারও দাবি

এক দাদা আশঙ্কা করেছিলেন আগেই। এ বার একই কথা বললেন আর এক দাদা। প্রথম জন, সাম্বিয়া সোহরাবের ঘনিষ্ঠ শাহনওয়াজ খান ওরফে শানুর দাদা খালিদ। গত শুক্রবার যিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, রেড রোডে বায়ুসেনার কর্পোরালকে চাপা দেওয়া অডি গাড়িটা তাঁর ভাই চালাচ্ছিলেন— এমন একটা প্রমাণের চেষ্টা হয়তো হবে।

শিবাজী দে সরকার ও মেহবুব কাদের চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০১৬ ০৩:১২
সাম্বিয়া সোহরাবের বন্ধু জনি

সাম্বিয়া সোহরাবের বন্ধু জনি

এক দাদা আশঙ্কা করেছিলেন আগেই। এ বার একই কথা বললেন আর এক দাদা।

প্রথম জন, সাম্বিয়া সোহরাবের ঘনিষ্ঠ শাহনওয়াজ খান ওরফে শানুর দাদা খালিদ। গত শুক্রবার যিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, রেড রোডে বায়ুসেনার কর্পোরালকে চাপা দেওয়া অডি গাড়িটা তাঁর ভাই চালাচ্ছিলেন— এমন একটা প্রমাণের চেষ্টা হয়তো হবে। আর রবিবার সাম্বিয়ার আর এক বন্ধু জনির দাদা হানি দাবি করলেন, শানুকে ফাঁসানোর জন্য তাঁর উপরে সরাসরি চাপ এসেছিল। বুধবার ভোরের ঘটনার পর থেকে শানুর মতো জনিরও খোঁজ নেই। তবে তাঁর দাদাদের দাবি, জনি হোয়াটসঅ্যাপে নিজের একটি ভিডিও রেকর্ড করে পাঠিয়েছেন। বুধবারের ঘটনা সম্পর্কে বেশ কিছু কথা সেখানে বলেছেন তিনি, যা শানুর পরিবারের বক্তব্যের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যাচ্ছে।

জনির দুই দাদা— হানি ও সানি। সেই হানি এ দিন বলেছেন, ‘‘সাম্বিয়া নিজে ও তার ম্যানেজার রাজ আমায় ফোন করে বলেছিল, আমি যেন পুলিশকে বলি, অডি গাড়িটা শানুই চালাচ্ছিল। আর যেন বলি, ওই সময়ে সাম্বিয়া আমাদের বাড়িতে ছিল।’’ এই দাবি নিয়ে অবশ্য সাম্বিয়ার পরিবারের কারও সঙ্গে কথা বলা যায়নি। আর রাজের ফোন দিনভর বন্ধ ছিল।

হানির দাবি, বুধবার ভোরে শানু ও জনি অন্য একটি গাড়িতে (অডি নয়) চেপে এসেছিলেন সানির বাড়িতে। সেখানেই তাঁরা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এর পর সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সেই বাড়িতে আসেন সাম্বিয়া। হানির কথায়, ‘‘সাম্বিয়া এসেই বলে, রেড রোডে ও একটা বড় দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছে। এর পরে জনিকে সঙ্গে নিয়ে সাম্বিয়া চলে যায়। সেই থেকে জনির খোঁজ নেই।’’

জনি ভিডিও পাঠালেন কোথা থেকে? হানির দাবি, ‘‘কোনও গোপন জায়গা থেকেই হয়তো পাঠিয়েছে। সানিও ফুটেজটা পেয়েছে।’’ দাদাদের দাবি, মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত ঠিক যা যা হয়েছিল, সবই জনি বলেছেন ওই ফুটেজে। বলেছেন, মঙ্গলবার রাতে তাঁরা ৮-১০ জন মিলে দইঘাটের একটি রেস্তোরাঁয় বসেছিলেন। দেদার সুরাপান চলছিল। রাত ১২টার কিছু পরে অডি গাড়ি চেপে ওই রেস্তোরাঁয় পৌঁছন সাম্বিয়া ও শানু। জনির দাবি, সাম্বিয়া অতিরিক্ত মদ্যপান করে ফেলায় তাঁকে গাড়ি নিয়ে ফিরতে বারণ করেছিলেন সকলেই। শানুও বারণ করেছিলেন। উল্টে সাম্বিয়া শানুকে চ়়ড় মারেন।

তার পর কী হয়? ফুটেজে জনির দাবি, ‘‘ওখান থেকে আলাদা আলাদা গাড়িতে বেরিয়ে যাই আমরা। সাম্বিয়া মদ্যপ অবস্থায় অডি নিয়ে একাই বেরিয়ে যায়। আমি আর শানু অন্য একটা গাড়িতে ছিলাম। সাম্বিয়া রেড রোডের দিকে যায়। সাম্বিয়ার পিছন পিছন আমি রেড রোডে ঢুকতে গেলে বাধা দেয় পুলিশ। বলে, রেড রোডে কুচকাওয়াজের মহড়া চলছে, যাওয়া যাবে না। আমরা বলি, একটা গাড়ি তো এক্ষুনি আমাদের আগে গেল! পুলিশ বলে, ওই গাড়িটাকেও মাঝপথে আটকে দেওয়া হবে। তখন আমি আর শানু গাড়ি ঘুরিয়ে খিদিরপুরের দিকে চলে যাই।’ জনি বলেছেন, এর পর তাঁরা সানির বাড়ি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুম ভাঙলে জানতে পারেন সাম্বিয়ার কাণ্ড!

জনি ও শানুর একসঙ্গে অন্য গাড়িতে সাম্বিয়ার পিছন পিছন যাওয়া, রেড রোডে ঢুকতে না পেরে অন্য পথে চলে যাওয়া— এই সবই শুক্রবার শানুর নামে নিখোঁজ ডায়েরি করার সময় লিখেছিলেন তাঁর বৌদি প্রিয়ঙ্কা। এক তদন্তকারী অফিসার বলেন, ‘‘শানুর বৌদির জমা দেওয়া অভিযোগপত্র এবং জনির ভিডিও ফুটেজ আমাদের সাহায্য করবে। জনি, শানু এবং সাম্বিয়ার সঙ্গে মঙ্গলবার রাতে আর যাঁরা ছিলেন, তাঁদের সবাইকেই জেরা করলে বোঝা যাবে, কে সত্যি বলছেন আর কে মিথ্যে!’’

পুলিশ সূত্রের খবর, বুধবার দুর্ঘটনা ঘটার পরে সাম্বিয়া-জনি-শানু পালিয়েছিলেন কলকাতা থেকে। এখনও বেপাত্তা সাম্বিয়ার বাবা মহম্মদ সোহরাব ও দাদা আম্বিয়া। শনিবার রাতে কলকাতায় ঢুকে পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন সাম্বিয়া। কিন্তু জনি ও শানু বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত চিন্তা যাচ্ছে না দুই পরিবারের।

নয়না যাননি সাম্বিয়ার বিয়েতে, দাবি সুদীপের

নিজস্ব সংবাদদাতা

রেড রোড কাণ্ডের পর মহম্মদ সোহরাবের সঙ্গে যাবতীয় সম্পর্ক ঝেড়ে ফেলতে চেয়েছে তৃণমূল। দলের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, সোহরাবের ছেলে সাম্বিয়ার বিয়েতে তাঁর স্ত্রী তথা বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় যানইনি! গত পুরভোটে নয়নার হয়ে সোহরাব কাজ করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে কোনও কোনও মহল থেকে। তার প্রতিবাদ করে নয়না বলেছেন, ‘‘আমি তো গত পুরভোটে লড়িইনি!’’ সুদীপবাবু উল্টে জানিয়েছেন, সিপিএম সাংসদ মহম্মদ সেলিম সোহরাবের ছেলের বিয়েতে গিয়েছিলেন। এ ব্যাপারে সেলিমের বক্তব্য, ‘‘সামাজিক অনুষ্ঠান বলে পার্টিতে আলোচনা করেই ওই বিয়েতে গিয়েছিলাম। আরও অনেকের সামাজিক আমন্ত্রণেই গিয়েছি। কিন্তু ওঁদের যা খুশি করার লাইসেন্স আমরা দিইনি।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy