মত্ত অবস্থায় মাত্রাতিরিক্ত গতিতে গাড়ি বা মোটরবাইক চালানোর জন্য দুর্ঘটনার সংখ্যা কমছেই না। শনিবার সরস্বতী পুজোর দিন তিনটি পৃথক ঘটনায় দু’জনের মৃত্যুর পরে, রবিবার ভোরেও আড্ডা থেকে ফেরার পথে এক স্কুটারআরোহীর মৃত্যুর খবর মিলেছে। পুলিশের দাবি, ওই চালক মত্ত অবস্থায় ছিলেন। সঙ্গে হেলমেট থাকলেও স্কুটার বা মোটরবাইক চালকদের একটি বড় অংশের ঠিক নিয়মে সেটি ব্যবহার না করার বিষয়টিও ভাবাচ্ছে পুলিশকে। এই ঘটনায় হেলমেটটি মিলেছে দুর্ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছুটা দূরে। পুলিশের অনুমান, হেলমেট সঙ্গে থাকলেও সেটি ঠিক ভাবে বাঁধা ছিল না। ফলে জরুরি সময়ে সেটি চালককে রক্ষাই করতে পারেনি।
পুলিশ সূত্রের খবর, ওই মৃত স্কুটারচালকের নাম অরিজিৎ রায় (৩১)। অরিজিতেরা কয়েক বছর হল সোনারপুর এলাকার রবীন্দ্রপল্লিতে বাড়ি করেছেন। সেখানেই স্ত্রী, দুই ছেলেকে নিয়ে বাবা-মার সঙ্গে থাকেন অরিজিৎ। সোনারপুরেই তাঁদের পৈতৃক লোহার গ্রিলের কারখানা। অরিজিতের পরিবারের থেকে পুলিশ জেনেছে, সরস্বতী পুজোর সন্ধ্যায় কসবা থানার বেদিয়াডাঙা এলাকার পুরনো পাড়ায় গিয়েছিলেন তিনি। সেই রাতে আর বাড়ি ফেরেননি। পুলিশ জানতে পারে, সেখানে একটি পুজো মণ্ডপের কাছে রাতভর মদ্যপান করেন তিনি। তার পরে এ দিন ভোরে ওই অবস্থাতেই স্কুটার চালাতে যাওয়ায় ঘটে বিপত্তি।
রাজডাঙা মেন রোডে স্কুটারটি রাস্তার ধারের রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা মারে। ওই রাস্তা দিয়েই যাওয়ার পথে এক গাড়িচালক বিষয়টি দেখে পুলিশে খবর দেন। দ্রুত অরিজিৎকে নিয়ে যাওয়া হয় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তবে সেখানকার চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ এর পরে মৃতদেহের ময়না-তদন্তের ব্যবস্থা করেছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় স্কুটারটির ডান দিক দুমড়ে গিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছুটা দূরে গড়াগড়ি খাচ্ছে অরিজিতের হেলমেট। প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসকেরা পুলিশকে জানিয়েছেন, বাইরে সে ভাবে রক্তপাত না হলেও অরিজিতের মৃত্যু হয়েছে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের জেরে। ভাল ভাবে হেলমেট পরা থাকলে যা হওয়ার কথা নয় বলেই পুলিশ সূত্রের খবর।
এ নিয়েই চিন্তিত তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায় কেবলমাত্র জরিমানার হাত থেকে বাঁচতেই ভাঙা হেলমেট পরে রাস্তায় নেমে পড়েছেন মোটরবাইক বা স্কুটারচালকেরা। চোখ ঢাকা কাচ বা অন্য সুরক্ষার ব্যবস্থা তো নেই-ই, বহু ক্ষেত্রে দেখা যায় হেলমেট বাঁধার ফিতেও নেই। অনেকে আবার ফিতে ঠিক ভাবে বাঁধেন না। যদিও গত বছরের জুন মাসেই কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক এক নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে দিয়েছে, বাইক বা স্কুটার-আরোহীদের বুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (বিআইএস) স্বীকৃত এবং ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড মার্ক (আইএসআই) দেওয়া হেলমেট ব্যবহার করতে হবে। এই বিধি না মানলে পুলিশ ট্র্যাফিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা বা জরিমানা করার পাশাপাশি, ওয়েস্ট বেঙ্গল মোটর ভেহিকলস্ অ্যাক্ট অনুযায়ী ব্যবস্থাও নিতে পারবে।
এর পরেও এই পরিস্থিতি কেন? লালবাজারের ট্র্যাফিক পুলিশের কর্তারা বলছেন, প্রত্যেককে ধরে হেলমেট পরখ করে দেখা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে স্কুটার ও মোটরবাইক চালকদেরই সতর্ক হতে হবে। কিন্তু সতর্ক না হওয়ারই লক্ষণ দেখা গিয়েছে দিন কয়েক আগের যাদবপুরের একটি ঘটনাতেও। ৮বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে এক বয়স্ক দম্পতির মোটরবাইকে পিছন থেকে ধাক্কা মারে একটি বাস। রাস্তায় পড়ে বয়স্ক বাইকচালকের হেলমেট ভেঙে যায়। অথচ তাতে ছিল আইএসআই মার্ক! পুলিশি তদন্তে জানা যায়, হেলমেটটি বহু কাল আগে কেনা। সেটির যে কার্যক্ষমতা পেরিয়ে গিয়েছে, সে দিকে দম্পতির নজরই ছিল না।