Advertisement
E-Paper

রাতে তারাতলা থেকেই পাকড়াও গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরা, সকালেও উদ্ধারকাজ চলছে, মৃত ৫, জীবিত উদ্ধার ২৪ জনকে

তারাতলা বিপর্যয়ে গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরাকে পাকড়াও করল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার মধ্যরাতে তারাতলা এলাকারই একটি আবাসন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ০৮:৩১
গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ার পর চলছে উদ্ধারকাজ। বুধবার তারাতলায়।

গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ার পর চলছে উদ্ধারকাজ। বুধবার তারাতলায়। —নিজস্ব চিত্র।

তারাতলা বিপর্যয়ে গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরাকে পাকড়াও করল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার মধ্যরাতে তারাতলা এলাকারই একটি আবাসন থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে পুলিশ শম্ভুনাথের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করেছে। রাতেই গুদামের সুপারভাইজ়ার-সহ প্রায় ন’জনকে আটক করে তারাতলা থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করছিল পুলিশ। তার পর শম্ভু-সহ মোট পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতেরা হলেন পেশায় স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার কমল সামন্ত, সুপারভাইজ়ার সৈয়দ মহম্মদ গুলজ়ার, গুদামে কর্মী জোগান দেওয়া (লেবার সাপ্লায়ার) মহম্মদ আতাউল এবং সুভাষ সরকার।

বৃহস্পতিবার সকালেও তারাতলায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন জাতীয় এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যেরা। ভিতরে এখনও বেশ কয়েক জন আটকে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। হাইড্রলিক ক্রেন দিয়ে গুদামের ভেঙে পড়া কাঠামোকে টেনে ধরে রাখা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে মোট ২৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর ২৪ জন জখম অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, মৃতদের মধ্যে চার জন নদিয়ার বাসিন্দা আর এক জন উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়ার বাসিন্দা।

তারাতলাকাণ্ডের তদন্তে ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করেছে পুলিশ। তদন্তকারী দলের মধ্য়ে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার এক আধিকারিক, হোমিসাইড শাখার ওসি-সহ গোয়েন্দা বিভাগের চার জন ও তারাতলা পুলিশ স্টেশনের দু’জন সাব-ইন্সপেক্টর। তদন্ত প্রক্রিয়ার তত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকছেন গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি কমিশনার।

বুধবার বেলা ১২টা ৭ মিনিটে তারাতলায় আচমকাই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে নির্মীয়মাণ ওই গুদামের ছাদ। লোহার কাঠামো, কংক্রিটের স্তূপের নীচে চাপা পড়ে যান অন্তত ৪০ জন শ্রমিক। পুলিশ, দমকলের সঙ্গে রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যেরা উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছিলেন। পরে রাজ্য সরকারের অনুরোধে ভারতীয় সেনা এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী তাতে যোগ দেয়। একাধিক ক্রেন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ঘটনাস্থলে। হাইড্রোলিক ক্রেন দিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ শুরু হয়। ভারী ভারী লোহার বিম ওই ক্রেনের সাহায্যে তুলে নীচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের বার করার চেষ্টা চলে। এ ছাড়া, বিভিন্ন দিক থেকে গ্যাস কাটার দিয়ে লোহা কেটে ফাঁকা অংশ তৈরি করে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। কাউকে কাউকে সেখান দিয়ে বার করা সম্ভব হয়। লোহার বিমের গায়ে লেগে ছিল রক্ত ও মাংসপিণ্ড।

কলকাতা পুরসভা সূত্রে জানা যায়, যে জমিতে গুদাম তৈরির কাজ চলছিল, সেটি বন্দর কর্তৃপক্ষের। ২০২৪ সালের অগস্টে তাঁরা ‘বেহরা ব্রাদার্স’ নামের একটি সংস্থাকে জমিটি ৩০ বছরের জন্য লিজ় দিয়েছিলেন। এই সংস্থা মূলত চা-পাতা গুদামজাত করা এবং প্যাকেজিংয়ের কাজ করে। বেহরা ব্রাদার্সের অন্যতম মালিকই হলেন শম্ভুনাথ । জমি লিজ় নিয়ে তিনিই নির্মাণের কাজ করাচ্ছিলেন।

Taratala

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy