তপসিয়ার এক বহুতলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। পাঁচতলার ওই বিল্ডিংয়ে আগুন লাগার ঘটনায় অন্তত দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও কয়েক জন অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে তপসিয়ার ৫০/১ জিজে খান রোডের ঠিকানায় এক বহুতলের দোতলায় এক চামড়ার কারখানায় আগুন লাগে। দ্রুত সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে আটকে পড়েন পাঁচ-ছ’জন। সকলেই ওখানে কাজ করছিলেন। আগুন লাগার বিষয়টি নজরে আসতেই স্থানীয়েরা খবর দেন দমকলে। সূত্রের খবর, পৌনে ২টো নাগাদ দমকলকে আগুন লাগার খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। আগুনের তীব্রতার কারণে আটকে থাকা ব্যক্তিরা বাইরে বার হতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। দমকলকর্মীরা তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুনের তেজ বেশি থাকায় তাঁদের বেগ পেতে হয়। পরে সকলকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন। আরও তিন গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
আরও পড়ুন:
কী কারণে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দমকল সূত্রে খবর, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনাই প্রাথমিক কাজ। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর আগুন লাগার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হবে।
সন্ধ্যার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পরে হাসপাতালে গিয়ে অগ্নিদগ্ধদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবরও নেন। তিনি জানান, যে বহুতলে আগুন লেগেছে সেটা বেআইনি। দমকলের অনুমতিপত্র ছিল না। ওই বহুতলে চামড়ার কাজ হত। তাঁর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ঘুষ নিয়ে এ ভাবে বিল্ডিং তৈরির অনুমতি দিয়েছে। মমতার সরকারে পুর নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। অগ্নিমিত্রা প্রশ্ন তোলেন, তাঁর দফতরের অনুমতি ছাড়া কি এ ভাবে ব্যবসা করছে কেউ? তিনি কি জানতেন না? উল্লেখ্য, তপসিয়ার ঘটনার তদন্তের জন্য উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।