Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৭ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

Durga Puja 2021: ঘূর্ণাবর্তের ভয়ে কাজ বন্ধ বহু পুজো মণ্ডপে

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১ ০৭:৩০
সতর্কতা: দুর্যোগের ভয়ে ঢাকা দিয়ে রাখা হয়েছে বালিগঞ্জ কালচারালের পুজো মণ্ডপ। মঙ্গলবার, দক্ষিণ কলকাতায়।

সতর্কতা: দুর্যোগের ভয়ে ঢাকা দিয়ে রাখা হয়েছে বালিগঞ্জ কালচারালের পুজো মণ্ডপ। মঙ্গলবার, দক্ষিণ কলকাতায়।
নিজস্ব চিত্র।

অন্যান্য বছর পুজোর কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে নাওয়া-খাওয়ার সময়ও থাকে না পুজোকর্তাদের। রীতিমতো ‘যুদ্ধং দেহি’ মেজাজে চলে মণ্ডপ তৈরির কাজ।

কিন্তু এ বছর? বৃষ্টির জমা জলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কোথাও লোহা দিয়ে তৈরি মণ্ডপের ওয়েল্ডিংয়ের কাজ বন্ধ করে দিতে হয়েছে। কোথাও বৃষ্টিতে বাঁশ বেয়ে উঠে কাজ করতে কর্মীরা ভয় পাওয়ায় আপাতত বন্ধ মণ্ডপ তৈরির প্রক্রিয়া। কোথাও আবার প্লাস্টিকবন্দি হয়ে পড়ে রয়েছে বাইরে থেকে তৈরি করিয়ে আনা মণ্ডপের অংশবিশেষ! জমা জলের ভয়ে কেউ আগেভাগেই প্রতিমা নিয়ে এসেছেন, কোনও পুজো কমিটি আবার মণ্ডপ কয়েক ফুট উঁচু করিয়েও বুঝে উঠতে পারছেন না, জল জমলে এই উচ্চতা যথেষ্ট হবে কি না।

দক্ষিণবঙ্গে নিম্নচাপ এবং ঘূর্ণাবর্তের টানা হামলার জেরে বর্তমানে এমনই অবস্থা শহরের বহু পুজো কমিটির। আবারও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় তাদের অনেকেই বুঝতে পারছে না, এ বছর সময়ের মধ্যে পুজো মণ্ডপ তৈরির কাজ আদৌ শেষ করা যাবে কি না।

Advertisement

বালিগঞ্জ কালচারালের পুজোকর্তা অঞ্জন উকিল যেমন জানালেন, তাঁদের মণ্ডপের বাইরের অংশটি হাতে আঁকা কাজে সাজিয়ে তোলার কথা ছিল। সেটাই ছিল এ বারের মূল আকর্ষণ। কিন্তু বৃষ্টির ভয়ে এখনও সেই আঁকার কাজ শুরুই করা যায়নি। তাঁর কথায়, ‘‘এমন আরও কয়েক দিন বৃষ্টির খেলা চললে পরিকল্পনায় বদল করার কথা ভাবতে হবে।’’ পাশের পুজো সমাজসেবী সঙ্ঘের কর্তা অরিজিৎ মৈত্র আবার বললেন, ‘‘আমাদের মণ্ডপের কাছে রাস্তায় আবার জল জমে। মণ্ডপ কয়েক ফুট উঁচু করলেও শেষ মুহূর্তে তাতে সুরাহা মিলবে কি না, বুঝতে পারছি না।’’

একডালিয়া এভারগ্রিনের কর্তা তথা রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় আবার জানালেন, তাঁদের মণ্ডপের কাজও বন্ধ করে দিতে হচ্ছে বৃষ্টি এলেই। কারণ, বৃষ্টির মধ্যে ভেজা বাঁশে উঠতে ভয় পাচ্ছেন কর্মীরা। ত্রিধারা সম্মিলনীর পুজোকর্তা দেবাশিস কুমার বললেন, ‘‘বেশ কয়েকটা ত্রিপল চাপিয়ে মণ্ডপ ঘিরে দিতে হয়েছে। এমন বৃষ্টি চলতে থাকলে সময়ে মণ্ডপ শেষ হবে কি না ভেবে পাচ্ছি না।’’ ‘ফোরাম ফর দুর্গোৎসব’-এর সাধারণ সম্পাদক তথা হাতিবাগান সর্বজনীনের পুজোকর্তা শাশ্বত বসুরও দাবি, ‘‘এ বার বৃষ্টির জন্য তৃতীয়াতেও পুজোর উদ্বোধন না হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’’

মুদিয়ালি ক্লাবের মণ্ডপের বেশির ভাগটাই এ বার তৈরি হয়েছে মেদিনীপুরের এক শিল্পীর গুদামঘরে। সেই সব অংশ কলকাতায় পৌঁছে গেলেও বৃষ্টির কারণে তা মণ্ডপের কাঠামোর গায়ে আর লাগিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। ওই পুজোর অন্যতম কর্তা মনোজ সাউ জানালেন, সে সবই প্লাস্টিকবন্দি হয়ে পড়ে আছে।

তেলেঙ্গাবাগান পুজো কমিটির কর্তা অমৃত সাউ বললেন, ‘‘আমাদের মণ্ডপে লোহার উপরে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ হচ্ছে। কিন্তু বৃষ্টির মধ্যে জল পড়ে যে কোনও মুহূর্তে শর্ট সার্কিট হয়ে বিপদ ঘটে যেতে পারে। সে কথা ভেবে কর্মীরাই ভয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।’’ বাগবাজার দুর্গোৎসব ও সম্মিলনীর পুজোকর্তা গৌতম নিয়োগীর দাবি, ‘‘শুধু তো মণ্ডপ তৈরিই নয়, বৃষ্টি মানে প্রতিমা তৈরির কাজেও বড় ক্ষতি। বাগবাজারের ক্ষেত্রে প্রতিমাই মূল। আলো জ্বেলে বা আলাদা করে পাখার ব্যবস্থা করেও কিছু হচ্ছে না।’’

কাশী বোস লেনের পুজোকর্তা সৌমেন দত্ত জানাচ্ছেন, বৃষ্টি হলে তাঁদের মণ্ডপের কাছে জল জমার ভয় রয়েছে। তাই গত রবিবারই তড়িঘড়ি করে প্রতিমা নিয়ে মণ্ডপে চলে এসেছেন তাঁরা। কিন্তু তবু ভয় পিছু ছাড়ছে না। সৌমেনের আশঙ্কা, ‘‘এ ভাবে ঝড়বৃষ্টি চলতে থাকলে শেষরক্ষা হবে তো?’’

হিন্দুস্থান পার্ক এবং বেলেঘাটা ৩৩ পল্লির পুজোকর্তাদের কাছে অবশ্য এই বৃষ্টি ‘শাপে বর’।
দু’জায়গাতেই লোহার কাঠামোর উপরে কাজ হচ্ছে। বৃষ্টির জলে সেই লোহায় যত মরচে পড়বে, ততই নাকি তাঁদের থিম খুলবে বলে জানাচ্ছেন পুজোর উদ্যোক্তারা।

আরও পড়ুন

Advertisement