একটা সময় ছিল বাংলা ধারাবাহিকের টিআরপি আসত দুই অঙ্কে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নম্বর এখন যেন তলানিতে। কোনও রকমে মাঝে মাঝে দেখা যায় নয়ের কোঠায়। চলতি সপ্তাহে এক ধাক্কায় প্রায় সব ধারাবাহিকের নম্বর কমেছে। চ্যানেল নির্বিশেষে সব কাহিনির নম্বরই কমেছে। নেপথ্যে কি রয়েছে কোনও বিশেষ কারণ? কী বলছেন পরিচালকেরা?
রাজেন্দ্রপ্রসাদ দাস, বাবু বণিক এবং অনুপম হরি—ছোটপর্দার পরিচিত তিন পরিচালক। প্রথম সারির বহু ধারাবাহিক পরিচালনা করেছেন তাঁরা। বাবু এখন পরিচালনা করছেন ‘জোয়ার ভাঁটা’ ধারাবাহিক। অনুপমের পরিচালনায় নতুন ধারাবাহিক ‘শুধু তোমারই জন্য’ শুরু হবে শীঘ্রই। আর রাজেন্দ্রপ্রসাদ সদ্য শেষ করেছেন ‘ফুলকি’। ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁদের অনেক দিন হয়ে গেল। গত ১০ বছরে ধারাবাহিকের ধারা, গল্প বলার ধরন অনেকটাই বদলেছে। টিআরপি কমার প্রেক্ষিতে তাঁদের অভিজ্ঞতা কী বলছে?
পরিচালক রাজেন্দ্রপ্রসাদের মতে, এই সময়টা বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষা চলে। ফলে অনেকের বাড়িতেই সন্ধ্যাবেলা টেলিভিশন বন্ধ থাকে, যা প্রভাব ফেলে টিআরপি-তে। এইটা মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিকের সময়। ফলে টিআরপি কম আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
তবে পরিচালক বাবু তা মানতে নারাজ। তিনি মনে করেন না পরীক্ষা বলে কেউ টিভি বন্ধ করে বসে থাকে। তিনি বলেন, “চ্যানেলের মার্কেটিং টিম ভাল করে বলতে পারবে কেন টিআরপি কমছে। আমরা অন্য দিকে বসে আলোচনা করতে পারি। কিন্তু সঠিক কারণ বলতে পারব না। পড়াশোনার জন্য কোনও বাড়িতে টিভি চলবে না, তা হয় না। কারণ, মার্কেটিং টিম তো সারা ক্ষণ পরীক্ষানিরীক্ষা চালাচ্ছে, কত নতুন ভাবে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করা যায় ছোটপর্দার কাহিনিগুলোকে।”
একটা সময়ে টিআপি অনেক বেশি থাকত। এখন সাধারণত ১০-এর মধ্যেই তা দেখা যায়। এ দিকে এই সপ্তাহে প্রথম হয়েছে যে দুটো ধারাবাহিক, তাদের প্রাপ্ত নম্বর ৬.৬। পরিচালক অনুপম বললেন, “অনেকগুলো বিষয় এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এখন কিন্তু অ্যাপেও অনেক দর্শক ধারাবাহিক দেখেন। টেলিভিশন না খুলেও তাঁরা দেখে ফেলছেন কাহিনিগুলো। সেই প্রভাব টিআরপি-তে পড়েছে কিছুটা। তবে সঠিক কারণ এ ক্ষেত্রে খুঁজে বার করা খুবই কঠিন।” গত কয়েক মাসের নম্বরের নিরিখে পরিচালকদের অনুমান, নির্বাচনের সময়, আইপিএল চলাকালীন বা মাধ্যমিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা শুরু হলে তা প্রভাব ফেলে টিআরপি-তে।
বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ৫ফেব্রুয়ারির টিআরপি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।