রিজেন্ট পার্ক থানার একটি আর্থিক প্রতারণার মামলা এবং নিউ আলিপুর থানার একটি অস্ত্র মামলায় অভিযুক্ত স্বরূপ বিশ্বাসকে রিজেন্ট পার্ক থানারই আর একটি দুর্নীতি মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’ করল পুলিশ। মঙ্গলবার ওই মামলায় স্বরূপকে ২৭ জুন পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক। তবে এ দিন স্বরূপের আইনজীবী আদালতকক্ষে বিচারক, সরকারি আইনজীবী ও মামলার তদন্তকারী অধিকারিককে শাসানি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আর্থিক প্রতারণা ও অস্ত্র আইনের ধারায় নিউ আলিপুর থানায় রুজু হওয়া একটি মামলায় স্বরূপের জেল হেফাজত হয়েছে। রিজেন্ট পার্ক থানার একটি আর্থিক দুর্নীতির মামলায় পুলিশি হেফাজত থেকে স্বরূপকে এ দিন আলিপুরের অতিরিক্ত মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তোলা হলে জেল হেফাজত হয়। ওই মামলায় গুরুতর আর্থিক দুর্নীতির হদিস মিলেছে। স্বরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বয়ান দিয়েছেন বলে দাবি, যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাই স্বরূপকে জেল হেফাজতে রাখার আবেদন করা হয়। তদন্তকারী আধিকারিকের আরও দাবি, রিজেন্ট পার্ক থানায় দায়ের হওয়া আর্থিক প্রতারণার মামলায় স্বরূপকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন।
এর পরে সরকারি আইনজীবী শুভাশিস ভট্টাচার্য দ্বিতীয় মামলায় ‘শোন অ্যারেস্টের’ আবেদন করেন। তিনি কোর্টে বলেন, ‘‘রিজেন্ট পার্ক থানার আনন্দপল্লি (পশ্চিম) এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ শামসুজ্জামান প্রতারণার অভিযোগ এনেছেন। তিনি টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রির সিনে প্রোডাকশন ম্যানেজার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি। অভিযোগ, ২০২০ সালে করোনার প্রতিষেধক ও সুরক্ষা বাবদ প্রায় ২৩ লক্ষ টাকা সংস্থার নামে তোলেন স্বরূপ। তার হিসাব রাখা হয়নি। ২০২৫ সাল পর্যন্ত সেই তহবিল তছরুপ হয়েছে। স্বরূপকে প্রশ্ন করেও সদুত্তর মেলেনি। স্বরূপের কয়েক জন ঘনিষ্ঠও এতে জড়িত বলে অভিযোগ। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। সূত্র খুঁজতে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তাই ধৃতের পুলিশি হেফাজতের প্রয়োজন।’’
এর পরেই জামিনের দাবি জানিয়ে স্বরূপের আইনজীবী গোপাল হালদার আদালতকক্ষে চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘‘অভিযুক্ত নির্দোষ। কোনও দুর্নীতিতে জড়িত নন। তাঁর জামিন মঞ্জুর করা হোক।’’ বিচারক মেহজ়বিন আরফিন পরভিনের আসনের কাছে ছুটে চলে এসে, তাঁর দিকে আঙুল তুলে গোপাল চিৎকার করে বলেন, ‘‘আপনি পুলিশের হয়ে কাজ করছেন। এ সব বন্ধ করুন। কোনও পুলিশি হেফাজত দেওয়া যাবে না।’’ সরকারি আইনজীবী শুভাশিস ভট্টাচার্য এবং সাজ্জাদ আলি খানের দিকেও তেড়ে যান গোপাল। বলেন, ‘‘আদালতে মামলা করতে এসেছেন কেন? আপনারা আদালতে আসবেন না।’’ মামলার তদন্তকারী অফিসার দেবব্রত সাহাকে কার্যত শাসানি দিয়ে গোপাল বলেন, ‘‘সব দেখে নেব। আমরা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছি বলে মামলা হচ্ছে। মিথ্যা তদন্ত বন্ধ করে দেব সব।’’
আদালতকক্ষে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও ৫০-৬০ জন আইনজীবীর সামনেই প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে এই চিৎকার চলতে থাকে। তবে ভারপ্রাপ্ত বিচারক, সরকারি আইনজীবী এবং তদন্তকারী অফিসার কোনও মন্তব্য করেননি। আইনজীবীদের একাংশের বক্তব্য, আদালতে সমাজবিরোধীদের মতো আচরণ করেছেন গোপাল। তাঁদের একাংশের কথায়, ‘‘বিগত সরকারের সর্বোচ্চ প্রভাবশালী পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ গোপাল। এখন বিচার ব্যবস্থাকে শাসানি দেওয়া শুরু করেছেন।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)