Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

৩০ নভেম্বর ২০২১ ই-পেপার

অস্ত্রই রাতে ট্যাক্সিচালকের নিরাপত্তা: ইউনিয়ন নেতা

নিজস্ব সংবাদদাতা
১৪ নভেম্বর ২০১৪ ০১:৪০
হাসপাতালের শয্যায় বিশাল আনন্দ। —নিজস্ব চিত্র।

হাসপাতালের শয্যায় বিশাল আনন্দ। —নিজস্ব চিত্র।

ট্যাক্সিচালকের নয়া গুন্ডামির নিদর্শন দেখল রাতের কলকাতা। যাত্রীর সঙ্গে ভাড়া নিয়ে বচসার জেরে ক্ষুর চালিয়ে দিল এক ট্যাক্সিচালক। আর তাতে জখম হলেন কলকাতায় ঘুরতে আসা ঝাড়খণ্ডের এক যুবক।

ট্যাক্সির এমন গুন্ডামির পরেও প্রশাসন ভাবলেশহীন। চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের মতো ব্যস্ততম রাস্তার ঘটনা হওয়া সত্ত্বেও কোনও সিসিটিভি-র ফুটেজ মেলেনি। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কেটে যাওয়ার পরেও গ্রেফতার হয়নি অভিযুক্ত ওই ট্যাক্সিচালক। বরং, কলকাতা শহরের বড় একটি ট্যাক্সিমালিক ইউনিয়ন কার্যত অভিযুক্ত ট্যাক্সিচালকের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছে, রাতের কলকাতায় আত্মরক্ষার্থে ট্যাক্সিচালকদের এমন অস্ত্র সঙ্গে রাখতেই হয়।

কী হয়েছে বুধবার রাতে?

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, ধানবাদের হিল কলোনির রেল আবাসনের বাসিন্দা বিশাল আনন্দ (২৯) গত মঙ্গলবার এই শহরে তাঁর এক পরিচিতের বাড়িতে ঘুরতে আসেন। বুধবার সন্ধ্যায় বিশালরা তিন বন্ধু মিলে শহরে ঘুরতে বের হন। তাঁরা প্রথমে বালিগঞ্জ এলাকার একটি হোটেলে খেতে যান। সেখান থেকে বেরিয়ে তাঁরা পার্ক ষ্ট্রিট ঘুরে শোভাবাজারে যান। তদন্তকারী পুলিশকর্মীদের অনুমান, সেখান থেকে ফেরার পথেই ট্যাক্সিচালকের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে বিবাদ শুরু হয় বিশালদের। ট্যাক্সিচালক বিশালদের কাছ থেকে গন্তব্যে যেতে অতিরিক্ত ভাড়া চেয়েছিল। কিন্তু তা দিতে অস্বীকার করেন বিশালেরা। এর পরেই তাঁদের সঙ্গে ট্যাক্সিচালকের বচসা শুরু হয়। বচসার মধ্যেই আচমকা বিশালের পেটে ক্ষুর চালিয়ে দেয় ওই চালক। এর পরেই পরিস্থিতি বেগতিক দেখে চম্পট দেয় অভিযুক্ত চালক।

বৃহস্পতিবার ভোরে গুরুতর জখম অবস্থায় বিশালকে উদ্ধার করা হয় মহাত্মা গাঁধী মেট্রো স্টেশনের সামনে থেকে। সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর পেটের আঘাত গুরুতর। অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এ দিন বিশালের এক বন্ধু পুলিশের কাছে ওই ট্যাক্সিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। খবর দেওয়া হয় বিশালের ঝাড়খণ্ডের বাড়িতে। যদিও পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর সময়ে ওই যুবক ট্যাক্সির নম্বর দিতে পারেননি। আর এই অজুহাত দেখিয়েই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরেও ওই চালককে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। প্রশ্ন উঠেছে, কলকাতাকে যেখানে সিসিটিভি ক্যামেরায় মুড়ে দেওয়ার দাবি করেন কলকাতা পুলিশের কর্তারা, সেখানে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের মতো শহরের অন্যতম ব্যস্ত রাস্তায় ওই ঘটনার কেন কোনও সিসিটিভি ফুটেজই মিলল না? শহর জুড়ে সম্প্রতি ক্লোজ্‌ড সার্কিট ক্যামেরা ছাড়াও রাতে পুঙ্খানুপুঙ্খ ঘটনার বিবরণ পেতে নাইট ভিশন বা ইনফ্রা রেড ক্যামেরা লাগানো হয়েছে বলেও দাবি পুলিশের। কিন্তু ওই সব ক্যামেরা কোথায় লাগানো হয়েছে, তারও সদুত্তর নেই পুলিশকর্তাদের কাছে। কলকাতা পুলিশের ডিসি ট্রাফিক ভি সোলেমান নিশাকুমার কবুল করেছেন, “কলকাতার সব জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। যেখানকার ঘটনা সেখানেও সিসিটিভি নেই বলেই জানি।”

কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাপ্রধান পল্লবকান্তি ঘোষের অবশ্য দাবি, “আমরা নির্দিষ্ট কিছু সূত্র হাতে পেয়েছি। সেই সব সূত্র ধরে খুব শীঘ্রই ওই চালককে গ্রেফতার করা যাবে বলে আশা করছি।”

অন্য দিকে, কলকাতার অন্যতম বড় ট্যাক্সিমালিক সংগঠন বেঙ্গল ট্যাক্সি অ্যাসোসিয়েশন অভিযুক্ত চালকেরই পাশে দাঁড়াচ্ছে। সংগঠনের নেতা বিমল গুহ বলেন, “ঘটনাস্থলটি মোটেই ভাল নয়। ওই সব জায়গায় ঝামেলা হলে চালকদের পুুলিশ রক্ষা করে না। তাই বাধ্য হয়েই ওই সব চালকদের আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র সঙ্গে রাখতে হয়।” একই সঙ্গে বিমলবাবুর দাবি, “পুলিশের তদন্তেই তো গাফিলতি আছে। আমরা আগ বাড়িয়ে কিছু করতে চাই না। তবে পুলিশ সাহায্য চাইলে অবশ্যই করব।”

তবে বিরোধী সিটু এবং শাসক দলের ট্যাক্সি ইউনিয়ন এই ঘটনার নিন্দা করেছে। সিটু সমর্থিত ট্যাক্সিচালক ইউনিয়নের নেতা প্রমোদ ঝা বলেন, “লজ্জাজনক ঘটনা। অভিযুক্ত চালককে ধরতে পুলিশকে সব রকমের সাহায্য করব। দোষীর উপযুক্ত শাস্তি চাই। আমি শুক্রবার সকালেই ওই যাত্রীকে দেখতে যাব।” তৃণমূল সমর্থিত প্রোগ্রেসিভ ট্যাক্সিমেনস্‌ ইউনিয়নের নেতা শম্ভুনাথ দে বলেন, “এই ধরনের ঘটনা এড়াতে আমরা ইতিমধ্যেই পুলিশি নজরদারি আরও জোরদার করার আবেদন জানিয়েছি।”

এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবহণমন্ত্রী মদন মিত্র। তিনি বলেন, “এটা কোনও ভাবেই হাল্কা ঘটনা নয়। এটা ট্যাক্সি তো বটেই, কলকাতা শহরকেই কলঙ্কিত করেছে। এমন ঘটনা আমরা বরদাস্ত করব না। পুলিশকে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে নির্দেশ দিয়েছি।”

আরও পড়ুন

Advertisement