Advertisement
E-Paper

ত্রিফলার পরে এলইডি, বরাত নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

এর আগে ত্রিফলা আলোর বরাত দেওয়া নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েছিল পুর প্রশাসন। ফের এলইডি আলো নিয়ে নতুন ভাবে প্রশ্ন ওঠায় স্বাভাবিক ভাবেই অস্বস্তিতে পুর কর্তৃপক্ষ।

দেবাশিস ঘড়াই

শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০১৮ ০২:২৩
এর আগে ত্রিফলা আলোর বরাত দেওয়া নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েছিল পুর প্রশাসন।  —ফাইল চিত্র।

এর আগে ত্রিফলা আলোর বরাত দেওয়া নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েছিল পুর প্রশাসন। —ফাইল চিত্র।

শহর জুড়ে এলইডি আলো লাগানোর পরিকল্পনা করেছে কলকাতা পুরসভা। কিন্তু সেই এলইডি আলোর বরাত দেওয়া নিয়েই প্রশ্ন উঠে গেল পুরসভার অন্দরে। বরাত দেওয়ার প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ, তা জানতে চেয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তোলা হয়েছে খোদ পুর অর্থ দফতরের তরফেই।

প্রসঙ্গত, এর আগে ত্রিফলা আলোর বরাত দেওয়া নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েছিল পুর প্রশাসন। ফের এলইডি আলো নিয়ে নতুন ভাবে প্রশ্ন ওঠায় স্বাভাবিক ভাবেই অস্বস্তিতে পুর কর্তৃপক্ষ। এমনকী, এলইডি আলো কেনা নিয়ে মেয়র পরিষদের বৈঠকে প্রস্তাব গ্রহণের আগেই কী ভাবে দরপত্র আহ্বান হয়ে গেল, সে প্রশ্নও তুলেছেন পুরকর্তাদের একাংশ। কারণ দেখা যাচ্ছে, গত মার্চে মেয়র পরিষদের এক বৈঠকে এলইডি আলো সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। অথচ, তার দু’মাস আগেই এলইডি আলোর দরপত্র আহ্বান করা হয়ে যায়! যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি, বরাত দেওয়া নিয়ে স্বাভাবিক ভাবেই কয়েকটি ‘সঙ্গত’ প্রশ্ন তোলা হয়েছিল অর্থ দফতরের তরফে। সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ায় সন্তুষ্টও হয়েছে অর্থ বিভাগ।

পুরসভা সূত্রের খবর, গ্রিন সিটি মিশন প্রকল্পের অধীনে কিছু দিন আগে প্রায় সাড়ে ২৫ কোটি টাকার এলইডি আলো কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আধিকারিকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বরাত দেওয়ার আগে ওই সাড়ে ২৫ কোটি টাকার কাজকে দু’টি ফাইলে ভাগ করা হয়। একটি ফাইলে ১৯ কোটি ৭৩ লক্ষ ৫৩৫০ টাকা এবং অন্যটিতে ৫ কোটি ৮২ লক্ষ ৪১৩৭০ টাকার বরাত দেওয়ার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়।

কিন্তু আধিকারিকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দরপত্র প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত দু’টি সংস্থা নিয়েই একাধিক প্রশ্ন তোলে অর্থ বিভাগ। কারণ, একটি সংস্থা নিজেরা ওই এলইডি আলোর উৎপাদক নয়। বরং পুরসভার নথি বলছে, সংশ্লিষ্ট সংস্থাটিকে মশা মারার বিষের মার্কেটিং সংস্থা হিসেবে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, যার সঙ্গে কোনও ভাবেই আলো তৈরির বিষয়টি যুক্ত নয়! শুধু তা-ই নয়, তথ্য এ-ও বলছে যে, ওই সংস্থাটি আর একটি সংস্থার থেকে এলইডি আলো ‘আউটসোর্স’ করবে, যাদের ফ্যাক্টরি দমন-দিউতে। অথচ, পুরসভার সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ফ্যাক্টরির লাইসেন্সের বৈধতা ছিল ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ফলে ওই সংস্থার কাছ থেকে কী ভাবে এলইডি আলো নেওয়া হবে, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠে যায়।

একই ভাবে প্রশ্ন ওঠে দরপত্রে নির্বাচিত হওয়া আর একটি সংস্থা নিয়েও। অর্থ বিভাগ জানায়, এলইডি আলো দেওয়ার জন্য নির্বাচিত আর একটি সংস্থা হরিয়ানার। কিন্তু শহরে তাদের কোনও সার্ভিস সেন্টার রয়েছে কি না, সে সম্পর্কে পুরসভার কাছে কোনও তথ্য নেই। শহরে উপস্থিতি নেই, এমন কোনও সংস্থাকে বরাত দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। ফলে তা নিয়ে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয় পুরসভায়। প্রসঙ্গত, এর আগে পুর ইঞ্জিনিয়ারদের একাংশ এলইডি আলোর দামের পার্থক্য নিয়ে সরব হয়েছিলেন। কিন্তু পুর অর্থ বিভাগই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই পুরো বিষয়টি আলাদা মাত্রা পায়।

এলইডি আলো কেনার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট দফতরের তরফে জানানো হয়, জানুয়ারিতে প্রথম বার নয়, সে বার রি-টেন্ডার করা হয়েছিল এবং তা পুরসভার নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই। দরপত্রে নির্বাচিত একটি সংস্থার শুধু মশা মারার বিষই নয়, ‘ফাস্ট মুভিং কনজিউমার গুডস’ (এফএমসিজি)-এরও ছাড়পত্র রয়েছে। এলইডি আলো ওই এফএমসিজি-র মধ্যে পড়ে। ফলে তা নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। দফতরের তরফে এ-ও জানানো হয়, যে হেতু সংস্থা দু’টির মূল কারখানা শহরে নয়, তাই তাদের ট্রেড লাইসেন্সের বৈধতার উপরেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংস্থাগুলির ‘ম্যানুফ্যাকচারিং লাইসেন্স’-এর বৈধতাও যাচাই করে দেখা হচ্ছে। এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘সব প্রশ্নেরই উত্তর দেওয়া হয়েছে। অর্থ দফতর তাতে সন্তুষ্ট। এলইডি আলোর ওয়ার্ক অর্ডারও দেওয়া হয়েছে।’’

Trident Corruption LED Light
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy