লকডাউনের রাশ আলগা হতেই বিধাননগরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। বিধাননগর পুরসভা এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ২৬০ পেরিয়ে গিয়েছে। প্রতিদিনই গড়ে আট-দশ জন নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন বলে খবর। এখনও পর্যন্ত ১১৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
পুরকর্তাদের দাবি, বিধাননগরে সংক্রমণ বৃদ্ধির হার কমতে শুরু করেছিল। কিন্তু অফিস-কাছারি, বাজার-দোকান সব খুলে যেতেই ফের সংক্রমণের হার বাড়ছে। মোট ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে কয়েকটি বাদে অধিকাংশ ওয়ার্ডেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। ফলে চিন্তা বেড়েছে প্রশাসনের।
পুরসভা সূত্রের খবর, নির্দিষ্ট কয়েকটি এলাকাতেই সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে। যেমন, বাগুইআটি, নারায়ণপুর, বিধাননগর উত্তর ও বিধাননগর দক্ষিণ থানা এলাকা।
করোনার উপসর্গ দেখা দেওয়ায় সোমবার বিধাননগরের এক পুলিশকর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে খবর। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তির রিপোর্ট পজ়িটিভ এসেছে। তাঁর সংস্পর্শে আসা কয়েক জন কর্মীকে হোম কোয়রান্টিনে থাকতে বলা হয়েছে। এর আগে করোনা আক্রান্ত সন্দেহে এক মহিলা কনস্টেবলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
সম্প্রতি বিধাননগরের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়ে দমদমের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি, ৩৪ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুই বাসিন্দাও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে বাসিন্দাদের একাংশ নিজেরাই এলাকা জীবাণুমুক্ত করার কাজ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, পাড়ায় কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে দ্রুত এলাকা জীবাণুমুক্ত করা প্রয়োজন। আক্রান্তের বাড়ি সংলগ্ন রাস্তাঘাটও ঘিরে ফেলা দরকার। পুরসভা ওই কাজ শুরু করতে দেরি করছিল বলে তাঁরা নিজেরাই তা করে নেন। যদিও অভিযোগ মানতে নারাজ পুরসভা। তাদের দাবি, খবর পাওয়ার পরে প্রথমে স্থানীয় ওয়ার্ড কমিটি এবং পরে পুরসভা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছে।
মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) প্রণয় রায় জানান, করোনা ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছিল। কিন্তু ‘আনলক-১’ শুরু হতেই ফের সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে। এর পরে পরিস্থিতি কী হবে, সেটাই চিন্তায় রেখেছে তাঁদের।