জুন মাসে বর্ষার শুরুতেই কলকাতা পুরসভা এলাকার একাধিক অংশে জল জমার সমস্যা প্রকাশ্যে আসতেই এ নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী অরূপকুমার দাস। তাঁর বক্তব্য, মহানগরের দীর্ঘদিনের জল জমার সমস্যার নেপথ্যে প্রধানত দায়ী শহরের পুরনো নিকাশি ব্যবস্থা এবং নাগরিকদের একাংশের সচেতনতার অভাব। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কলকাতা পুরসভা ও সেচ দফতর সমন্বয় রেখে কাজ করছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। কলকাতার মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিম ইস্তফা দেওয়ার পর কলকাতা পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করেছে রাজ্য সরকার। এমতাবস্থায় কলকাতার জমা জলের সমস্যা মেটাতে পদক্ষেপ করতে হচ্ছে সেচ দফতরকে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এই মন্তব্য করেন তিনি।
সেচমন্ত্রী বলেন, ‘‘কলকাতার বর্তমান নিকাশি ব্যবস্থা বা সুয়ারেজ নেটওয়ার্কের মূল কাঠামো তৈরি হয়েছিল ১৯৩০-এর দশকে। সেই সময়কার জনসংখ্যা, বসতি এবং শহরের পরিধি মাথায় রেখে যে আউটলেট পাইপলাইন বসানো হয়েছিল, আজকের কলকাতার চাহিদার সঙ্গে তার কোনও তুলনাই চলে না। গত কয়েক দশকে জনসংখ্যা ও নগরায়ণের ব্যাপক বৃদ্ধি ঘটলেও নিকাশি ব্যবস্থার মূল কাঠামো প্রায় একই রয়ে গিয়েছে। ফলে অল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টির জল বের করে দেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’
উদাহরণ হিসাবে তিনি গত বছরের দুর্গাপুজোর সময়ের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। মন্ত্রীর দাবি, এক রাতে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল। এত বিপুল পরিমাণ জল স্বল্প সময়ে নিষ্কাশন করা সম্ভব হয়নি বলেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় জল দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। তাঁর মতে, জল নামার ক্ষেত্রে শুধু খাল বা পাম্পিং স্টেশনের সক্ষমতা নয়, গোটা নিকাশি ব্যবস্থার ধারণক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আদিগঙ্গা ও শহরতলির খালগুলির রক্ষণাবেক্ষণ প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন সেচমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘আদিগঙ্গার সোনারপুর সংলগ্ন একটি অংশ বর্তমানে আর সেচ দফতরের অধীনে নেই। সেই অংশ কলকাতা পুরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে আদিগঙ্গার বাকি অংশ পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত ড্রেজিংয়ের দায়িত্ব সেচ দফতরই পালন করে।’’ পাশাপাশি বাগজোলা খাল-সহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলিও নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে। যদিও বর্ষাকালে নতুন করে ড্রেজিংয়ের কাজ করা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান। আগামী বছর আবার বৃহত্তর পরিসরে সেই কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। জল জমার আর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসাবে তিনি মানুষের সচেতনতার অভাকে তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, পলিথিন ও বিভিন্ন আবর্জনা নর্দমা ও ম্যানহোলে গিয়ে জমা হওয়ায় বৃষ্টির জল দ্রুত নেমে যেতে পারে না। বিশেষ করে রাতে ভারী বৃষ্টির সময় ম্যানহোলের মুখ বন্ধ হয়ে গেলে তাৎক্ষণিক ভাবে সব জায়গায় পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। ফলে জল জমে থাকার সমস্যা বাড়ে।
আরও পড়ুন:
মন্ত্রী বলেন, ‘‘খাল পর্যন্ত জল পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব কলকাতা পুরসভার, আর খাল ও জলনিকাশি চ্যানেলগুলিকে সচল রাখার দায়িত্ব সেচ দফতরের। বর্তমানে পুরসভায় নির্বাচিত কাউন্সিলর বোর্ড না থাকলেও প্রশাসনিক স্তরে দুই দফতরের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখেই কাজ চলছে।’’ শহরবাসীর স্বার্থে জল জমার সমস্যা কমাতে সরকার সব রকম ভাবে উদ্যোগী হচ্ছে বলেও তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েছেন, ডিসেম্বর মাসের ৭ তারিখের মধ্যে কলকাতা পুরসভাকে নবনির্বাচিত বোর্ডের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তার আগে যাতে কলকাতার মানুষের যাবতীয় সমস্যার সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগী হতে হচ্ছে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরকে।