অযোধ্যার রামমন্দিরের প্রণামী নিয়ে অনিয়মের ঘটনায় ধৃত আট জনের বাড়িতে রবিবার তল্লাশি চালাল পুলিশ। এই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের সরকারের দিকে আঙুল তুলেছে বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টি। সেই নিয়ে রাজনৈতিক তরজা চলছেই।
অযোধ্যার ঘটনায় আট জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ২৯ জুন পর্যন্ত তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছে অযোধ্যার আদালত। সূত্রের খবর, সোমবার তাঁদের আদালতে হাজির করিয়ে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ। তার আগে রবিবার আট জন অভিযুক্ত— অবিনাশ শুক্ল, অনুকল্প মিশ্র, লবকুশ মিশ্র, মণীশকুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব, রামশঙ্কর ওরফে টিনু যাদবের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট। একটি সূত্র বলছে, এখন পর্যন্ত প্রণামী দুর্নীতি মামলায় ৭৯.৮৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবারই ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর তরফে জানানো হয়েছে, সাধারণ সম্পাদকপদ থেকে চম্পত রায় এবং ট্রাস্টিপদ থেকে অনিল মিশ্রের দেওয়া ইস্তফাপত্র তাদের হাতে এসেছে। তারা আরও জানিয়েছে, পরবর্তী বৈঠকে এই ইস্তফার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্দিরে জমা পড়া প্রণামী নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরে প্রথম বার বিবৃতি দিয়ে ট্রাস্ট জানায়, স্বচ্ছ তদন্ত যাতে হয়, তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর তারা। ভক্তদের আস্থা পুনরুদ্ধার করা হবে। ভক্তেরা প্রণামী বাবদ যে গয়নাগাটি, রুপোর ইট দিয়েছিলেন, তা ‘সুরক্ষিত’ বলেও বিবৃতিতে জানিয়েছে ট্রাস্ট।
আরও পড়ুন:
রামমন্দিরে জমা পড়া প্রণামী নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিট মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছিল। তার পরে ‘সিট’-এর সুপারিশ মেনে বৃহস্পতিবার ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর তরফে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক ভাবে আট জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন অন্যতম ট্রাস্টি কৃষ্ণ মোহন। তার ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে রাতেই আট অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের কয়েক জনের ঠিকানা থেকে ‘হিসাব-বহির্ভূত’ ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাচক্রে, ধৃতদের একাংশের সঙ্গে চম্পত, অনিল, দু’জনেরই ‘যোগাযোগ’ সম্পর্কিত তথ্য মিলেছে।