Advertisement
E-Paper

ঠিক কোথায় কী ভাবে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয় কেতনকে? লোহাগড় দুর্গে সিয়াকে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ পুলিশের

পুলিশের একটি সূত্র বলছে, রবিবার ভোরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সিয়াকে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। দুর্গের ভিতরে তখন পর্যটকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে জানা গিয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ১৩:৪৩

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

লোহাগড় দুর্গে ১৮ জুন ঠিক কী ঘটেছিল? কেতন অগ্রবালকে কী ভাবে ঠেলে ফেলে দিয়েছিলেন সিয়া গোয়ল? কী ভূমিকা ছিল চেতন চৌধরীর— এ সব খতিয়ে দেখতেই রবিবার সকালে অন্যতম অভিযুক্ত সিয়াকে নিয়ে লোহাগড় দুর্গে গেল পুলিশ। সেখানে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করাল পুণে পুলিশ। পুণে থেকে অদূরে লোহাগড় দুর্গে ঘটনার দিন যে বাইকে চেপে গিয়েছিলেন চেতন, তা-ও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দুর্গে সিয়া-কেতনকে অনুসরণ করে হুডি পরে ঘুরতে দেখা গিয়েছিল চেতনকে। তা দেখেই সন্দেহ হয়েছিল পুলিশের। চেতন কী ভাবে অনুসরণ করেছিলেন, তা-ও পুনর্নির্মাণ করায় পুলিশ।

পুলিশের একটি সূত্র বলছে, রবিবার ভোরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সিয়াকে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। দুর্গের ভিতরে তখন পর্যটকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে জানা গিয়েছে। জেরায় দু’জন যে কথা বলেছেন, তার সঙ্গে প্রকৃত ঘটনার কতটা মিল রয়েছে, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে বলে খবর। কী ভাবে কেতনকে মারার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করেছিলেন, সিয়াকে ঘটনাস্থলে দাঁড় করিয়ে তদন্তকারীরা তা-ই দেখেছেন।

পুণের লোহাগড় দুর্গে ঘুরতে গিয়ে মৃত্যু হয় কেতনের। ৪৫০ ফুট গভীর খাদের নীচ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের মনে হয়েছিল, ঘুরতে ঘুরতে পাহাড়ের কিনারায় নিজস্বী তুলতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যান কেতন। যদিও মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে প্রকাশ্যে আসে আসল তথ্য।

তদন্তের সূত্র ধরে লোহাগড় দুর্গ যাওয়ার পথে সমস্ত সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করেন তদন্তকারীরা। আর সেই ফুটেজই রহস্য উন্মোচন। পুলিশ সূত্রে খবর, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় কেতন-সিয়ার গাড়ি অনুসরণ করছেন একজন যুবক। তাঁর গতিবিধি সন্দেহজনক ছিল। বিশেষ করে ঘটনার দিন খুব গরম থাকা সত্ত্বেও ওই যুবকের গায়ে ছিল হুডি। কেন গরমে ওই যুবক হুডি পরেছিলেন, তা ভাবায় তদন্তকারীদের। তাতেই সন্দেহ হয় পুলিশের। সিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে থাকেন। এতে ভেঙে পড়ে চেতনের নাম জানান তিনি। স্বীকার করে নেন, ছক কষে খুন করা হয়েছিল কেতনকে। এ বার সেই লোহাগড় দুর্গে গিয়েই ঘটনার পুনর্নির্মাণ করাল পুলিশ।

অভিযুক্তদের জেরা করে পুলিশ প্রাথমিক ভাবে মনে করছে, বাগ্‌দত্ত কেতনকে খুন করার জন্য সিয়াকে কিছুটা বাধ্য করেছিলেন চেতন। পুলিশের দাবি, আগে দু’বার ব্যর্থ হয়েছিলেন তাঁরা। পরে লোহাগড় দুর্গে তাঁদের পরিকল্পনা সফল হয়েছিল। সিয়ার বেকারির ব্যবসা ছিল। সেখানে শুকনো ফল জোগাত চেতনের সংস্থা। সেই সূত্রেই দু’জনের আলাপ বলে প্রাথমিক ধারণা পুলিশের। একটি ক্রিকেট ম্যাচে দু’জনের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পেয়েছিল বলে খবর।

তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, চেতনের সঙ্গে সিয়ার এই সম্পর্কের কথা তাঁর পরিবারের সকলেই জানতেন। সেই সম্পর্কের কথা জানার পরেই তাতে আপত্তি জানিয়েছিল সিয়ার পরিবার। সূত্রের খবর, আর্থিক অবস্থার দিক থেকে চেতন তাঁদের সমতুল্য নন, সে কারণে সিয়াকে চেতনের থেকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু গোপনে দু’জনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তবে সিয়ার দাদা সাহিল গোয়ল সে কথা মানতে চাননি। তিনি দাবি করেছেন, এ সব কিছুই জানতেন না তাঁরা। জানলে চেতনের সঙ্গেই সিয়ার বিয়ে দিতেন। কেতনের সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করতেন না। তবে সিয়া জেরায় দাবি করেছেন, পরিবারকে চেতনের সঙ্গে সম্পর্কের কথা জানানোর চেয়ে কেতনকে খুন করা অনেক সহজ মনে হয়েছিল তাঁর কাছে।

গত ১৮ জুন কেতনকে লোণাবলার লোহাগড় দুর্গ থেকে ঠেলে ফেলে খুন করার অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগে সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক চেতনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কেন খুন করা হয়েছিল ২৬ বছরের কেতনকে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy