E-Paper

বাসে অগ্নিকাণ্ড ঠেকাতে এক গুচ্ছ নির্দেশিকা পরিবহণ দফতরের

রাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে যাত্রিবাহী বাসে পরপর এই ধরনের ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে প্রশাসনের। সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলিতে কেউ হতাহত না হলেও সমস্যার শিকড়ে যাওয়ার পাশাপাশি যাত্রী-সুরক্ষার উপরে বিশেষ ভাবে জোর দিতে চাইছেন কর্তারা।

ফিরোজ ইসলাম

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৪১

—প্রতীকী চিত্র।

গত অক্টোবরে প্রথমে রাজস্থানের থিয়াট এবং তার কয়েক দিনের ব্যবধানে অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুল। পর পর দু’টি বাতানুকূল যাত্রিবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৪৫ জন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছিল। মাস দুয়েক আগে বিমানবন্দরের এক নম্বর গেটের কাছে আসানসোল থেকে করুণাময়ীগামী দক্ষিণবঙ্গ পরিবহণ নিগমের একটি বাসে আচমকা আগুন ধরে যায়। কয়েক মাসের ব্যবধানে রাস্তায় চলার সময়ে আগুন লেগে ভস্মীভূতহয়েছিল রাজ্য পরিবহণ নিগমের দু’টি বাস। গত বছরের এপ্রিল মাসে বিদ্যাসাগর সেতু থেকে নেমে সাঁতরাগাছির দিকে যাওয়ার সময়ে পুরুলিয়াগামী একটি বাস আচমকা আগুনে পুড়ে যায়। এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন গত রবিবার বাগুইআটি এলাকায় ৪৬ নম্বর রুটের একটি বেসরকারি বাসে আচমকা আগুন লাগার ঘটনা।

রাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে যাত্রিবাহী বাসে পরপর এই ধরনের ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে প্রশাসনের। সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলিতে কেউ হতাহত না হলেও সমস্যার শিকড়ে যাওয়ার পাশাপাশি যাত্রী-সুরক্ষার উপরে বিশেষ ভাবে জোর দিতে চাইছেন কর্তারা। তারই প্রথম ধাপ হিসাবে বাসের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রগুলি পর্যালোচনা করে আদর্শ আচরণবিধি (এস ও পি) তৈরির জন্য সরকারি এবং বেসরকারি বাসের ক্ষেত্রে পৃথক সেল খোলার নির্দেশ জারি করেছে রাজ্য পরিবহণ দফতর।

দফতর সূত্রের খবর, আদর্শ আচরণবিধি তৈরির সঙ্গে বিভিন্ন ঘটনা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করার সুপারিশও করবে ওই সেল। গত সোমবার পরিবহণ দফতরের জারি করা এই নির্দেশিকায় সরকারি পরিবহণ নিগমগুলিকে দ্রুত সংশ্লিষ্ট সেল তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবহণ দফতর বিভিন্ন বাস এবং যানবাহনের উপকরণ নির্মাণ সংস্থার প্রতিনিধি, বাসমালিক সংগঠন এবং মোটর ভেহিক্‌ল ইনস্পেক্টরদের সঙ্গে বৈঠক করে ওই নির্দেশিকা জারি করেছে বলে খবর।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বেসরকারি বাসের ক্ষেত্রে জেলা পথ নিরাপত্তা কমিটির (ডিস্ট্রিক্ট রোড সেফটি কমিটি) তত্ত্বাবধানে ওই সেল তৈরি করতে হবে। সরকারি এবং বেসরকারি উভয় ধরনের বাসে সিসি ক্যামেরা বসানো ছাড়াও বাসের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ জোর দিতে হবে। যে কোনও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিপদ আঁচ করা মাত্র যাত্রীদের কী ভাবে দ্রুত এবং নিরাপদে বাস থেকে নামিয়ে আনা যায়, তা দেখার জন্য বাসকর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং মহড়ার উপরে জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মূলত ভারত স্টেজ-৪ মাপকাঠির বাসে পরপর এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বাসের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত দিক নিয়েও আশঙ্কা তৈরি করেছে। সুরক্ষা বজায় রাখতে নিরন্তরনজরদারি চালানো ছাড়াও স্বাস্থ্যের মাপকাঠিতে পাশ করে না, এমন বাস দ্রুত বদল করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

পরিবহণ দফতরের এই নির্দেশিকা প্রসঙ্গে ‘অল বেঙ্গল বাস মিনিবাস সমন্বয় সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘সেন্সর-যুক্ত, হাইব্রিড প্রযুক্তির নতুন বাসে ইদানীং এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি উদ্বেগের। সরকারি উদ্যোগে পরিবহণ-কর্মীদের উপযুক্ত সতর্কতামূলক পরামর্শ দেওয়া গেলে ভালই হবে। তবে, সেই সঙ্গে প্রযুক্তিগত বিষয়গুলি সম্পর্কেও নিবিড় ভাবে জানা জরুরি।’’

‘সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিস’-এর সাধারণ সম্পাদক টিটু সাহা বলেন, ‘‘পরিবহণ দফতরের উদ্যোগ এই সমস্যা নিয়ে বাসকর্মী এবং মালিকদের সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করবে বলে আশা করা যায়। যাত্রী-স্বার্থে এইপ্রয়াস জরুরি।’’

তবে একই সঙ্গে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ এ-ও জানাচ্ছে, অগ্নিকাণ্ডের নানা সম্ভাব্য কারণ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে এর নেপথ্যে থাকছে বাসের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থারত্রুটি বা শর্ট সার্কিট। আবার, কিছু ক্ষেত্রে আগুনের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকে যাচ্ছে। তাই প্রযুক্তিগত ভাবে আসল কারণ চিহ্নিত করা নাগেলে নিছক সরকারি নির্দেশিকা জারি করে এই সমস্যার সমাধান করাযাবে না।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Transport Bus

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy