E-Paper

শহরে দু’টি দুর্ঘটনা প্রাণ কেড়ে নিল দুই কলেজপড়ুয়ার

পুলিশ জানিয়েছে, সাগ্নিক কলকাতার একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাঁর বাড়ি নিমতা থানা এলাকার বিরাটিতে। এ দিনের ঘটনার কথা জেনে তাঁর আত্মীয়-পরিজন এবং কলেজের বন্ধুরা চলে আসেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:২২

—প্রতীকী চিত্র।

শহরে দু’টি পৃথক দুর্ঘটনায় মারা গেলেন দুই কলেজপড়ুয়া। প্রথমটি ঘটে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ, ফুলবাগান থানা এলাকার ই এম বাইপাসের কাদাপাড়ায়। বাবার সঙ্গে স্কুটারে চেপে কলেজে যাচ্ছিলেন বছর একুশের সাগ্নিক দত্ত। স্কুটার নিয়ন্ত্রণ হারালে রাস্তায় পড়ে গুরুতর জখম হন তিনি। এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে সাগ্নিককে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। তাঁর বাবা সুদীপ্ত অল্পবিস্তর চোট পেয়েছেন। দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ, হেস্টিংস থানা এলাকার এ জে সি বসু রোডের টার্ফ ভিউয়ের কাছে। তাতে মারা যান অভিজিৎ পাসোয়ান (২১)। তাঁর বাড়ি ধানবাদে। কলেজছাত্র অভিজিৎ বন্ধুর সঙ্গে স্কুটারে চেপে বেড়াতে বেরিয়েছিলেন। একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই স্কুটারে ধাক্কা মারে। এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, সাগ্নিক কলকাতার একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাঁর বাড়ি নিমতা থানা এলাকার বিরাটিতে। এ দিনের ঘটনার কথা জেনে তাঁর আত্মীয়-পরিজন এবং কলেজের বন্ধুরা চলে আসেন। সাগ্নিকের বাবা সুদীপ্ত বলেন, ‘‘ছেলে যে কলেজে পড়ত, সেখানেই আমি টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টের কাজ করি। রোজকার মতো এ দিনও ছেলেকে নিয়ে বিরাটির বাড়ি থেকে বেরিয়ে চিংড়িঘাটা হয়ে কলেজে যাচ্ছিলাম। স্কুটার আমিই চালাচ্ছিলাম। বেশি গতিও তুলিনি। সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ কাদাপাড়ার সিগন্যালের কাছে উল্টো দিক থেকে একটি সাইকেল চলে আসে। সেটিকে বাঁচাতে গিয়ে জোরে ব্রেক কষতেই চাকা পিছলে আমাদের স্কুটার উল্টে যায়। আমি আর ছেলে ছিটকে রাস্তায় পড়ি। দেখি, ছেলে অচেতন হয়ে গিয়েছে। স্থানীয়দের সাহায্যে ওকে ঘটনাস্থলের প্রায় উল্টো দিকেই বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু তত ক্ষণে সব শেষ।’’

সুদীপ্ত জানান, তাঁরা দু’জনেই হেলমেট পরে ছিলেন। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, ‘‘গত ১১ বছর ধরে ওই রাস্তা দিয়ে স্কুটার চালিয়ে কলেজে যাচ্ছি। মাথায় দু’জনেরই হেলমেট ছিল। তা সত্ত্বেও এমন কী করে ঘটল?’’ সাগ্নিকের বন্ধুরাও এই ঘটনায় শোকে বিহ্বল। তাঁরা জানান, খবর পেতেই কলেজ থেকে সবাই চলে এসেছেন। সুদীপ্তের এক সহকর্মী অনুপ বিশ্বাস বললেন, ‘‘তেমন রক্তপাত হয়নি। মনে হল, মাথায় আর বুকে আঘাত লেগেছে। ওকে তো কোনও গাড়ি পিছন থেকে ধাক্কাও মারেনি। তা হলে কি পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর চোট পেয়েছিল? যেখানে ঘটনা ঘটেছে, তার উল্টো দিকেই হাসপাতাল। সাগ্নিককে হাসপাতালে নিয়ে যেতেও দেরি হয়নি। সুদীপ্তের একমাত্র ছেলে সাগ্নিক। ওর মা হাসপাতালে এসেছেন। তাঁকে সামলানো যাচ্ছে না।’’ পুলিশ জানিয়েছে, দেহ ময়না তদন্তের জন্য এন আর এস হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

অন্য দিকে, ধানবাদের বাসিন্দা ও সেখানকার কলেজের ছাত্র অভিজিৎ কলকাতায় কিছু কাজ সারতে ও ঘুরতে এসেছিলেন। আনন্দপুরে এক বন্ধুর বাড়িতে উঠেছিলেন। এ দিন বিকেলে তাঁর বন্ধু স্নেহাশিস মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে স্কুটারে চেপে প্রিন্সেপ ঘাটে বেড়াতে যাচ্ছিলেন অভিজিৎ। স্কুটার চালাচ্ছিলেন স্নেহাশিস। বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ হেস্টিংস থানা এলাকার এ জে সি বসু রোডের টার্ফ ভিউয়ের কাছে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্কুটারে ধাক্কা মারে।

এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ারের সামনে দাঁড়িয়ে স্নেহাশিস বলেন, ‘‘স্কুটার আমি রাস্তার ধার দিয়ে আস্তে আস্তে চালাচ্ছিলাম। ভেবেছিলাম, দুই বন্ধু প্রিন্সেপ ঘাটে গিয়ে একটু সময় কাটাব। হঠাৎ একটি বাস এসে আমাদের স্কুটারের গা ঘেঁষে চলতে গিয়ে ধাক্কা মারে। স্কুটার উল্টে যায়। আমি রাস্তার ধারে ছিটকে পড়ি। অভিজিৎকে বাসের পিছনের চাকা পিষে দেয়।’’

স্নেহাশিসও হাতে ও পায়ে চোট পেয়েছেন। তবে, তাঁর আঘাত তেমন গুরুতর নয়। এ দিন এসএসকেএম হাসপাতালে চলে আসেন স্নেহাশিসের কলেজের বন্ধুরা। তাঁরা সবাই অভিজিৎকেও চিনতেন। বন্ধুদের কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁরা জানান, অভিজিতের ধানবাদের বাড়িতে খবর দেওয়া হয়েছে। তাঁর বাড়ির লোকজন কলকাতায় ছুটে আসছেন। অভিজিতের এক বন্ধু বলেন, ‘‘ওর মা, বাবা হাসপাতালে‌ এলে কী ভাবে ওঁদের সামলাব, ভাবতে পারছি না। সব ওলট-পালট লাগছে।’’ পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনা ঘটানো বাসটি গড়িয়া-গোপীগঞ্জ রুটের। সেটিকে আটক করা হয়েছে। বাসটি রেষারেষি করছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Accidental Deaths Road accidents College Students

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy