পেটের সমস্যা নিয়ে একটি নার্সিংহোমে ভর্তি হয়েছিলেন এক মহিলা। অস্ত্রোপচারের পর কিছু সমস্যা দেখা দেয় এবং তাঁর মৃত্যু হয়। অভিযোগ, যখন ওই মহিলা গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন, সে সময় তাঁর স্বামীকে নার্সিংহোম থেকে প্রথমে টালিগঞ্জ থানায় এবং পরে তাঁকে গ্রেফতার করে ভবানীপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। অথচ নার্সিংহোমের দাবি, তারা পুলিশকে খবর দেয়নি। বুধবার কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে গোটা ঘটনাটি খতিয়ে দেখে তার একটি রিপোর্ট পেশ করার আর্জি জানাল স্বাস্থ্য কমিশন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে পেটের সমস্যার জন্য দেবনাথ ভট্টাচার্য তাঁর স্ত্রীকে টালিগঞ্জ থানার অধীনে একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করান। সেখানে ২৫ বছরের ওই মহিলার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অ্যানেস্থেশিয়া করে একটি অস্ত্রোপচার হয়। এর পর কিছু সমস্যা দেখা দেয়। তাতে তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি হয় এবং তাঁর মৃত্য হয়। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। অভিযোগ, যখন দেবনাথের স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ, তখন নার্সিংহোম পরিবারের উপস্থিতিতে দেবনাথকে টালিগঞ্জ থানার পুলিশ জোর করে থানায় নিয়ে যায়। রাতে তাঁকে সেখানে বসিয়ে রাখা হয়। এর পর ভোরবেলা দেবনাথকে গ্রেফতার করে ভবানীপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। পণ সংক্রান্ত অভিযোগে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
দেবনাথের স্ত্রী যখন নার্সিংহোমে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন, সেই সময় স্ত্রীয়ের পাশে তাঁকে থাকতে না-দিয়ে, বারবার তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্বাস্থ্য কমিশন। তাদের মতে, নার্সিংহোমের তরফে পুলিশে খবর দেওয়া হয়নি। অন্য দিকে মৃতার পরিবারের তরফ থেকেও এই সংক্রান্ত কোনও অভিযোগের নথি স্বাস্থ্য কমিশনের কাছে নেই বলে দাবি তাদের। স্ত্রীয়ের মৃত্যুর আগে দেবনাথকে কেন তাঁর পাশে থাকতে না-দিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হল, তা নিয়ে বুধবার কলকাতা পুলিশ কমিশনের কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়েছে স্বাস্থ্য কমিশন। গোটা ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করার আর্জি জানিয়েছে স্বাস্থ্য কমিশন।