×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৪ এপ্রিল ২০২১ ই-পেপার

এ বার পর্ণশ্রী

ফের হামলা পুলিশের উপর, চিন্তিত লালবাজার

নিজস্ব সংবাদদাতা
০৭ জুলাই ২০১৪ ০৩:২০

আট দিনের মাথায় হরিদেবপুর-কাণ্ডের ছায়া পর্ণশ্রীতে। ফের আক্রান্ত পুলিশ।

এ বার অবশ্য পর্ণশ্রীতে পুলিশকর্মীদের তৎপরতায় দুষ্কৃতীদের হাত থেকে বেঁচে ফিরেছেন কর্তব্যরত দুই কনস্টেবল। কিন্তু ওই দুই পুলিশকর্মীর সহকর্মীরা ঠিক সময়ে ঘটনাস্থলে না পৌছলে কী হত, তা নিয়েই চিন্তিত লালবাজারের পুলিশ কর্তারা।

কয়েক দিনের ব্যবধানে হরিদেবপুর এবং পর্ণশ্রীর দুটি ঘটনায় পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের ওই মনোভাব নিয়ে উপর মানুষের সম্ভ্রম ও আস্থা কমে যাচ্ছে।” একই মত কিন্তু কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন থানার পুলিশকর্মীদের একাংশের। তাঁরা বলছেন, পুলিশ মানুষের বন্ধু হতে গিয়ে তার নিজের জায়গা থেকে সরে এসেছে। আর তার ফলেই সাধারণ মানুষ এখন আর পুলিশের উর্দি দেখলে ভয় পায় না। সেই কারণেই পুলিশকে আক্রমণ করার সাহস পায় দুষ্কৃতীরা। যদিও দু’টি ক্ষেত্রেই পুলিশকর্তারা দাবি করেছেন, আক্রমণকারীরা হয় মত্ত না হয় মানসিক ভারসাম্যহীন।

Advertisement

পুলিশ জানায়, হরিদেবপুরের পরে শনিবার রাতে পুলিশকর্মীদের আক্রান্তের ঘটনাটি ঘটেছে পর্ণশ্রী থানার জিঞ্জিরাবাজার এলাকায়। ওই দিন রাতে দুই কর্তব্যরত কনস্টেবলকে মারধর করে সার্ভিস রিভলভার ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন তিন যুবক। পরে থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে ওই পুলিশকর্মীদের উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলের পাশের একটি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় ওই তিন যুবককে। ঘটনায় আহত হয়েছেন দুই পুলিশকর্মী।

গত ২৭ জুন রাতেই হরিদেবপুর থানা এলাকায় পারিবারিক বিবাদ সামলাতে গিয়েছিলেন ওই থানার হোমগার্ড রাজু গোয়ালা। অভিযুক্ত আশিস দাস রাজুর কোমরে থাকা সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকেই গুলি করে। ঘটনাস্থলে মারা যান রাজু। সেই ঘটনার পর হোমগার্ডদের হাতে অস্ত্র দেওয়া নিয়ে নতুন করে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে লালবাজার।

পুলিশ সূত্রের খবর, শনিবার রাত ১টা নাগাদ জিঞ্জিরাবাজার এলাকায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করছিলেন পর্ণশ্রী থানার দুই কনস্টেবল উজ্জ্বল মজুমদার এবং মইনুদ্দিন মোল্লা। সেই সময় বেপরোয়া ভাবে মোটরবাইক চালিয়ে আসছিলেন তিন যুবক বিনোদ থাপা, শুভজিৎ নষ্কর এবং বিজয় মণ্ডল। বিনোদ ঘটনাস্থলের পাশের পাড়া বঙ্গশ্রী পল্লির বাসিন্দা। বাকি দু’জনের বাড়ি মহেশতলায়। অভিযোগ, ওই যুবকদের মাথায় হেলমেট ছিল না। পুলিশ জানিয়েছে, ওই সময় কর্তব্যরত উজ্জ্বল এবং মইনুদ্দিন বাইকটি আটকে লাইসেন্স দেখতে চান। পুলিশকর্মীরা কেন তাদের আটকেছেন, এই অভিযোগ তুলে ওই দুই পুলিশকর্মীর সঙ্গে বচসা শুরু করে দেয় বাইকআরোহী তিন যুবক।

অভিযোগ, গোলমালের মাঝে ওই যুবকেরা উজ্জ্বল এবং মইনুদ্দিনকে মারধর শুরু করে। কর্তব্যরত ওই পুলিশকর্মীরা তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, মারধরের মধ্যেই আচমকা ওই তিন জনের এক জন পুলিশকর্মীদের এক জনের কোমরে থাকা সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। রিভলভার ছিনতাইয়ের চেষ্টা হচ্ছে দেখে অন্য পুলিশকর্মী খবর দেন পর্ণশ্রী থানায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই মোটরবাইক নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান ওই থানারই সাব-ইনস্পেক্টর অরুণ সরকার এবং গ্রিন পুলিশকর্মী দেবাশিস দেবনাথ।

পুলিশ জানতে পেরেছে, ঘটনাস্থলে অরুণ এবং গ্রিন পুলিশকর্মী দেবাশিসকে দেখে ওই যুবকরা দুই কনস্টেবলকে ছেড়ে তাঁদের উপর চড়াও হয়। শুরু হয় মারধর। যুবকদের আঘাতে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন গ্রিন পুলিশকর্মী দেবাশিস। পুলিশকর্মীকে মাটিতে পড়ে যেতে দেখে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে ওই তিন যুবক। এর মধ্যেই থানার পুলিশকর্মীদের মারধর করার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশবাহিনী। পুলিশ জানায়, পরে বঙ্গশ্রী পল্লির একটি বাড়ি থেকে গ্রেফতার হয় ওই তিন যুবক।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে থাকা কনস্টেবলদের জন্যই হরিদেবপুরের মতো ঘটনা ঘটেনি। ধস্তাধস্তির সময় ওই যুবকরা কনস্টেবলদের সার্ভিস রিভলভার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও তাঁরা তা হাতছাড়া হতে দেননি।

এক পুলিশকর্তা জানান, কনস্টেবল থাকাতেই এ বার সার্ভিস রিভলভার ছিনতাই করতে পারেনি দুষ্কৃতীরা। তাঁর বক্তব্য, হরিদেবপুর কাণ্ডের পর পুলিশকর্মীরা এতটাই সতর্ক হয়েছেন যে মার খেয়েও সার্ভিস রিভলভারটি আঁকড়ে ধরে রেখেছিলেন। এ ক্ষেত্রে যদি হোমগার্ড থাকতেন, তা হলে হরিদেবপুরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারত বলেই মনে করছেন ওই পুলিশকর্তা।

Advertisement