Advertisement
E-Paper

কর্মী বাড়ন্ত, শিকেয় পুর-ট্রাইব্যুনালের কাজ

সাত বছর আগে মিউনিসিপ্যাল অ্যাসেসমেন্ট ট্রাইব্যুনালে মামলা করেও পুর-করের গোলমাল নিষ্পত্তি হয়নি দক্ষিণ কলকাতার বাসব মজুমদারের। এ বার শুনানিতে এসে বাসববাবু শুনলেন, ট্রাইব্যুনালের কাজই বন্ধ হয়ে রয়েছে! ফের কবে শুনানি হবে, তা-ও জানতে পারেননি তিনি।

মেহবুব কাদের চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:১১

সাত বছর আগে মিউনিসিপ্যাল অ্যাসেসমেন্ট ট্রাইব্যুনালে মামলা করেও পুর-করের গোলমাল নিষ্পত্তি হয়নি দক্ষিণ কলকাতার বাসব মজুমদারের। এ বার শুনানিতে এসে বাসববাবু শুনলেন, ট্রাইব্যুনালের কাজই বন্ধ হয়ে রয়েছে! ফের কবে শুনানি হবে, তা-ও জানতে পারেননি তিনি।

১৬ জন কর্মী নিয়ে বকেয়া ২৩ হাজার মামলার চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন কলকাতার মিউনিসিপ্যাল ট্রাইব্যুনালের কর্তারা। তার উপরে রেশন কার্ড বিলির জন্য ট্রাইব্যুনালের কর্মীদের খাদ্য দফতরের কাজে পাঠানোয় মাথায় হাত পড়েছে তাঁদের। পরিস্থিতি এমনই যে ট্রাইব্যুনালের দৈনন্দিন কাজই বন্ধ। ফাঁপরে পড়েছেন বাসববাবুর মতো লোকেরা। এই পরিস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হারানচন্দ্র ময়রা পুর-কমিশনার খলিল আহমেদকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, কর্মীদের অবিলম্বে ফিরিয়ে না আনলে ট্রাইব্যুনালের বিচার ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সেই চিঠি দেওয়ার দু’সপ্তাহ পরেও ট্রাইব্যুনালের কাজ শুরু হয়নি।

ধার্য করের অতিরিক্ত টাকার বিল করদাতাকে পাঠালে ওই বর্ধিত কর মকুবের জন্য সংশ্লিষ্ট করদাতারা মিউনিসিপ্যাল অ্যাসেসমেন্ট ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। পুরসভা সূত্রের খবর, বছরে প্রায় চার হাজার মামলা দায়ের হয় ট্রাইব্যুনালে। কিন্তু পর্যাপ্ত কর্মীর অভাবে দশ বছরের পুরনো মামলার এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে খবর, অ্যাসেসমেন্ট ট্রাইব্যুনালে দু’টি কোর্ট। দিনে প্রায় ১৬টি করে মামলার শুনানি হয়। পাঁচ বছর আগে কর্মী ছিলেন ২৭ জন। এখন তা এসে দাঁড়িয়েছে ১৬-তে। এ কারণেই শুনানি শেষ করে রায় দিতে সময় লাগছে। পুরসভা থেকেও অনেক ক্ষেত্রে নথি আসতে দেরি হচ্ছে। উপরন্তু, রেশন কার্ড বিলির জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আদালতের তিন গুরুত্বপূর্ণ কর্মীকে অন্য দফতরে অস্থায়ী ভাবে বদলি করায় কাজ থমকে আছে। কারণ, মামলার শুনানি ও রায়ের কপি তৈরি করতেন ওই তিন জনই। ক্যালকাটা মিউনিসিপ্যাল ট্রাইব্যুনাল্স বার অ্যাসোসিয়েশন-এর সাধারণ সম্পাদক জয়ন্তকুমার মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘ওই তিন জন ছাড়া ট্রাইব্যুনাল চালানো অসম্ভব। আমরা ইতিমধ্যেই পুর-কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।’’

মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘বিষয়টি জানি না। তবে ট্রাইব্যুনাল থেকে কর্মী তুলে নিলে সমস্যা হবেই। দ্রুত অ্যাসেসমেন্ট ট্রাইব্যুনালে কর্মীদের কাজে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে পদক্ষেপ করব।’’ পুরসভার যুগ্ম কমিশনার (কর রাজস্ব) শাহজাদ সিবলি বলেন, ‘‘আশা করছি, চলতি সপ্তাহ থেকেই ট্রাইব্যুনালের কাজ স্বাভাবিক হবে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy