গাড়ির নম্বর প্লেট পাল্টালেও, পাল্টানো যায়নি ইঞ্জিনের স্যাশে নম্বর। সেটাই কাল হল গাড়ি পাচার চক্রের চাঁই লালবাবুর। সেই চোরাই গাড়ি করে যাওয়ার পথেই পাচার চক্রের পাণ্ডা লালবাবুকে হাতেনাতে ধরল পুলিশ। তবে এই গাড়ি চুরির অভিযোগে লালবাবুকে ধরা হয়নি। তার খোঁজ চলছিল কালীঘাট থেকে চুরি যাওয়া অন্য একটি গাড়ি চুরির ঘটনায়।
শনিবার কেওড়াতলা শ্মশানের কাছ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছে আগ্নেয়াস্ত্রও মিলেছে। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের সময়ে লালবাবু যে গাড়িতে যাচ্ছিল সেটি কয়েক মাস আগে লেক থানা এলাকা থেকে চুরি হয়েছিল। চুরি যাওয়া গাড়িটির নম্বর এবং লালবাবুর গাড়ির নম্বর আলাদা হলেও দু’টি গাড়িরই ইঞ্জিন নম্বর এক হওয়ায় পুলিশ নিশ্চিত হয়, যে সেটি লেক অঞ্চল থেকে চুরি যাওয়া গাড়ি।
পুলিশ জানায়, শনিবার কালীঘাট এলাকার একটি স্ট্যান্ড থেকে ট্যাক্সি চুরির অভিযোগ এসেছিল। তদন্তে নেমে বেগুন ও কার্তিক নামে দুই দুষ্কৃতীর সন্ধান পায় পুলিশ। গাড়ি চুরির অভিযোগে শুক্রবার কালীঘাট রোড এবং বাস্তুহারা বাজার থেকে ওই দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জেরায় তারা চুরির কথা স্বীকার করে। উদ্ধার হয় চুরি যাওয়া ট্যাক্সিটিও। তাদের কাছেই এই চক্রের পাণ্ডা লালবাবুর খোঁজ পায় পুলিশ। জানতে পারে, লেক থানা থেকে চুরি করা একটি গাড়ির নম্বর পাল্টে সেটিকে ব্যবহার করছে লালু। গাড়িটির নতুন নম্বর নিয়ে শুরু হয় তল্লাশি।
পুলিশের অনুমান, এই গাড়ি পাচার চক্রের সঙ্গে আরও অনেকে যুক্ত রয়েছে। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। এই দলটি কালীঘাট, লেক-সহ কলকাতার বিভিন্ন এলাকা থেকে গাড়ি চুরি করে থাকে।
কী ভাবে চুরি করা হয় গাড়িগুলি? পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ি চুরির নেপথ্যে রয়েছে একটি ‘মাস্টার কি’। সুযোগ বুঝে সেই তা দিয়েই গাড়ির তালা খুলে চম্পট দেয় তারা। তার পরে নম্বর প্লেট খুলে নকল একটি নম্বর প্লেট লাগানো হয়। কিন্তু এর পরে গাড়িগুলিকে অন্য রাজ্যে নিয়ে গিয়ে বেচে দেওয়া হয় না কি যন্ত্রাংশগুলি খুলে বিক্রি করা হয়, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না পুলিশ। তা জানতে জেরা করা হচ্ছে ধৃতদের।