Advertisement
E-Paper

নথির ভুলে মিলল না রক্ত, মৃত প্রসূতি

প্রসবের পরে রক্তক্ষরণ হওয়ায় রক্তের প্রয়োজন হয়েছিল এক প্রসূতির। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা রক্ত আনতে বলেন প্রসূতির পরিবারকে। তাঁদের লিখে দেওয়া ‘রিক্যুইজিশন স্লিপ’ নিয়েই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ব্লাড ব্যাঙ্কে গিয়েছিল ওই প্রসূতির পরিবার।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০০:১৪
রুকসানা বেগম

রুকসানা বেগম

প্রসবের পরে রক্তক্ষরণ হওয়ায় রক্তের প্রয়োজন হয়েছিল এক প্রসূতির। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা রক্ত আনতে বলেন প্রসূতির পরিবারকে। তাঁদের লিখে দেওয়া ‘রিক্যুইজিশন স্লিপ’ নিয়েই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ব্লাড ব্যাঙ্কে গিয়েছিল ওই প্রসূতির পরিবার। কিন্তু ওই পরিবারের অভিযোগ, স্লিপে প্রসূতি সম্পর্কে অসম্পূর্ণ তথ্য থাকায় রক্ত মেলেনি। রক্ত না পেয়ে মৃত্যু হয়েছে ওই প্রসূতির। শনিবার কলকাতার লেডি ডাফরিন হাসপাতালের এই ঘটনায় চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সুপারের কাছে গাফিলতির অভিযোগ দায়ের করে মৃতার পরিবার। ওই চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে মুচিপাড়া থানাতেও। তবে রাত পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতারের খবর মেলেনি।

ঠিক কী ঘটেছে এ দিন ডাফরিনে?

মৃতার স্বামী, ট্যাংরার বাসিন্দা মহম্মদ সামি জানান, সকাল ছ’টা নাগাদ তাঁর স্ত্রী রুকসানা বেগম (৩০) প্রসবযন্ত্রণা নিয়ে ডাফরিন হাসপাতালে ভর্তি হন। সকাল ন’টা নাগাদ তাঁর কন্যার জন্ম হয়। এর পরেই চিকিৎসক জানান, রুকসানার শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে পড়েছে। দ্রুত রক্তের প্রয়োজন। ডাফরিনে ব্লাড ব্যাঙ্ক না থাকায় ‘রিক্যুইজিশন স্লিপ’ নিয়ে মেডিক্যাল কলেজের ব্লাড ব্যাঙ্কে যান সামি ও তাঁর এক সঙ্গী। সামির দাবি, নথি অসম্পূর্ণ থাকায় রক্ত মেলেনি। ফের তিনি ডাফরিনে আসেন এবং তা সংশোধন করিয়ে নিয়ে যান। কিন্তু অভিযোগ, নথিতে সব তথ্য না থাকায় দ্বিতীয় বারেও রক্ত মেলেনি। আবার তিনি ডাফরিনে ফিরে এলে শোনেন, রুকসানার মৃত্যু হয়েছে। এ দিন বিকেলে হাসপাতালের সামনে সামি বলেন, ‘‘নথিতে ভুল না থাকলে রক্ত পেয়ে যেতাম। রুকসানাও এ ভাবে মারা যেত না। চিকিৎসকের ভুলেই আমি স্ত্রীকে হারালাম।’’ মেডিক্যাল কলেজের ব্লাড ব্যাঙ্ক সূত্রের খবর, রিক্যুইজিশন স্লিপে রোগীর একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখতে হয়। সেটি লেখা ছিল না। সামি অবশ্য দাবি করেছেন, স্লিপে রুকসানার রক্তের গ্রুপও লেখা ছিল না।

ব্লাড ব্যাঙ্কের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী রক্তের রিক্যুইজিশন স্লিপে সব তথ্য লেখা না থাকলে রক্ত দেওয়ার কথা নয়। কিন্তু রোগীর শারীরিক অবস্থার কথা ভেবে অতীতে নথিতে ভুল থাকলেও রোগীর পরিবারকে রক্ত দিয়ে দেওয়া হত। কিন্তু কিছু ঘটনায় ডাফরিন হাসপাতালের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, রক্ত দেওয়ার পরেও হাসপাতাল কোনও কারণে সেই রক্ত নেয়নি। ফেরত পাঠানো হত রোগীর পরিজনদেরও। সেই শিক্ষা থেকেই এ বারে নথি শুধরে নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। তবে ওই আধিকারিকের দাবি, ‘‘ওই প্রসূতির পরিবারের লোকেরা এক বারই এসেছিলেন।’’ ডাফরিন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে অবশ্য ব্লাড ব্যাঙ্কের ওই দাবি অস্বীকার করা হয়েছে।

এ দিন ডাফরিন হাসপাতালের সুপার নীলাঞ্জনা সেন জানান, গাফিলতির অভিযোগ পাওয়ার পরেই ছ’সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গড়া হয়েছে। যার শীর্ষে রয়েছেন সুপার নিজেই। পাঁচ দিনের মধ্যে এই কমিটি রিপোর্ট দেবেন বলেও সুপার জানান। পুলিশ জানিয়েছে, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ মিলেছে। এ ধরনের মামলায় মেডিক্যাল কাউন্সিল ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হয়। সেটাই করা হবে।

চিকিৎসক নিগ্রহ। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে এক চিকিৎসককে নিগ্রহের অভিযোগ উঠল রোগীর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে, টালিগঞ্জের এম আর বাঙুর হাসপাতালে। পুলিশ জানায়, নিউ আলিপুরের এক মহিলা ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁকে রক্ত দেওয়া নিয়ে এক চিকিৎসকের সঙ্গে বচসা হয়। অভিযোগ, এর পরেই ওই মহিলার পরিবারের চার জন ওই চিকিৎসককে মারধর করেন। যাদবপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে চার জনকে গ্রেফতার করেছে।

শনিবার আলিপুর আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পান তাঁরা। পুলিশ সূত্রের খবর, মারধরের সময়ে ওই চিকিৎসকের ডিউটি শেষ হয়ে গিয়েছিল। তার ফলেই এ ক্ষেত্রে কর্তব্যরত অবস্থায় সরকারি কর্মীকে মারধরের মতো জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা করা যায়নি।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy