বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সঙ্কট মোকাবিলায় বেশির ভাগ মানুষ ভরসা করেন ব্যাঙ্ক ঋণের উপর। সাধারণ ভাবে এর জন্য ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে থাকে চড়া সুদ। সেই চড়া সুদ গুনতে না পেরে অনেক ঋণগ্রহীতাই হাল ছেড়ে দেন মাঝপথে। আর তার জেরে ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ঋণখেলাপির সংখ্যা চড়চড় করে বাড়তে শুরু করে। সম্প্রতি রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)-র এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ঋণখেলাপি নিয়ে সতর্কীকরণ তথ্য।
কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে সব ঋণের জন্য কোনও জামানত প্রয়োজন হয় না সেই ধরনের ঋণগুলিই ব্যাঙ্কের মাথাব্যথার প্রধান কারণ। ব্যক্তিগত ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডে নেওয়া ধারবাকি এই তালিকার শীর্ষে। তথ্য বলছে, আরবিআই নিয়ন্ত্রিত সমস্ত ব্যাঙ্কের খুচরো ঋণখেলাপির মধ্যে ৫৩.১ শতাংশই হল অসুরক্ষিত বা অনিরাপদ, ব্যক্তিগত ঋণ। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির তুলনায় বেসরকারি ঋণদাতাদের উপর চাপ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি। আরবিআইয়ের তথ্য অনুসারে, বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিতে মোট ঋণখেলাপির ৭৬ শতাংশই অনিরাপদ ঋণের আওতায়। সেখানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ঋণ পরিশোধ না করার সংখ্যা ১৫.৯ শতাংশ।
ঋণ শোধ করতে না পারায় খেলাপির সংখ্যা যে বাড়ছে শুধু তা-ই নয়, এতে মাথা তুলছে ব্যাঙ্কিং শিল্পে খুচরো ঋণের অনুৎপাদক সম্পদও। সামগ্রিক ভাবে অসুরক্ষিত ঋণের জন্য অনুৎপাদক সম্পদ বা নন-পারফর্মিং অ্যাসেটের (এনপিএ) পরিমাণ প্রায় ১.৮ শতাংশ। আরবিআইয়ের প্রতিবেদন অনুসারে একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে অনিরাপদ ঋণ নেওয়া ঋণগ্রহীতারা ঋণ পরিশোধের চাপের ঝুঁকিতে থাকেন। এই ধরনের গ্রাহকদের ৫০ শতাংশেরও বেশি ২৫ থেকে ৩৫ বছরের বয়ঃসীমার। বিশেষ করে ২৫ বছরের কমবয়সিদের, ঋণখেলাপি হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে আরবিআই।