Advertisement
E-Paper

ফোন এক্সচেঞ্জে ফের দৌরাত্ম্য ব্যাটারি গ্যাং-এর

গুলাব গ্যাং নয়, ব্যাটারি গ্যাং। এবং ফের তাদের আবির্ভাব।দলের সদস্য জনা চার-পাঁচ। হাতিয়ার ওয়ান শটার বন্দুক এবং একটা ছোট গাড়ি। লক্ষ্য, কলকাতা লাগোয়া বিভিন্ন টেলিফোন এক্সচেঞ্জ। রাতের অন্ধকারে সেখানে হামলা চালাচ্ছে ওরা।

শুভাশিস ঘটক

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:১২

গুলাব গ্যাং নয়, ব্যাটারি গ্যাং। এবং ফের তাদের আবির্ভাব।

দলের সদস্য জনা চার-পাঁচ। হাতিয়ার ওয়ান শটার বন্দুক এবং একটা ছোট গাড়ি। লক্ষ্য, কলকাতা লাগোয়া বিভিন্ন টেলিফোন এক্সচেঞ্জ। রাতের অন্ধকারে সেখানে হামলা চালাচ্ছে ওরা।

এমন নয়, ওই সব এক্সচেঞ্জে নগদ টাকা থাকে। দুষ্কৃতীদের লক্ষ্য টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ব্যাটারি হাতানো। বছর দুয়েক পরে দক্ষিণ শহরতলি ও লাগোয়া এলাকায় ফের সক্রিয় এই ব্যাটারি গ্যাং।

পুলিশ তো বটেই, কপালে ভাঁজ বিএসএনএল-কর্তাদেরও। সংস্থা সূত্রে খবর, একটি টেলিফোন এক্সচেঞ্জ থেকে তার এক্তিয়ারভুক্ত এলাকায় সংযোগ দিতে বিদ্যুতের পাশাপাশি ‘ইউপিএস’ হিসেবে থাকে ব্যাটারি। এক্সচেঞ্জে বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্যাটারি দিয়েই ফোনে সংযোগ বজায় রাখা হয়। কলকাতা লাগোয়া বিএসএনএল-এর বহু এক্সচেঞ্জে এখন ব্যাটারির অভাব। তেমন লোডশেডিং না হওয়ায় ব্যাটারি ব্যবহার না হয়ে অনেক এক্সচেঞ্জেই পড়ে থেকে বসে গিয়েছে। বদলে নতুন ব্যাটারি আসেনি। ফলে, কখনও কেব্‌ল ফল্ট হলে গোটা এক্সচেঞ্জই কার্যত বসে যাচ্ছে। এই অবস্থায় যে সব এক্সচেঞ্জে ব্যাটারি আছে, সেগুলিও লুঠের ঘটনায় সমস্যায় পড়েছে বিএসএনএল।

সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানা এলাকায় জুলপিয়া টেলিফোন এক্সচেঞ্জে হামলা চালায় ব্যাটারি-গ্যাং। রক্ষীদের তারা মারধর করে। এক জনকে পিস্তলের বাট দিয়েও আঘাত করা হয়। কিন্তু ঘটনাস্থলে টহলদারি পুলিশ ভ্যান পৌঁছে যাওয়ায় চম্পট দেয় দুষ্কৃতী-দল। এক্সচেঞ্জের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘এ যাত্রায় জোর বেঁচে গিয়েছি।’’ তবে এখনও পর্যন্ত দুষ্কৃতীরা কেউ ধরা পড়েনি।

বিএসএনএল সূত্রের খবর, ৪৮ ভোল্টের এই ব্যাটারি ওই সব এক্সচেঞ্জে ১৫০-২০০টি ব্যবহার করা হয়। এক-একটি ব্যাটারির দাম প্রায় তিন-চার হাজার টাকা। পুলিশ সূত্রের খবর, এমন একাধিক গ্যাংকে ২০১১ সালে ধরা হয়েছিল। উদ্ধার হয় বেশ কিছু চোরাই ব্যাটারি। মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ওই দুষ্কৃতীরা হাওড়া, ডোমজুড় ও সালকিয়ায় ওই ব্যাটারি বিক্রি করেছিল অর্ধেক দামে। বিএসএনএল-এর চোরাই ব্যাটারি কেনার অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকেও পুলিশ তখন গ্রেফতার করেছিল।

তদন্তকারী এক অফিসার জানান, এক-একটি ব্যাটারির তামার পাত হাজার দুয়েক টাকায় বিক্রি হয়। তা ছাড়া আরও কিছু ধাতব পদার্থ রয়েছে। সব মিলিয়ে এক-একটি চোরাই ব্যাটারি থেকে মুনাফা হাজার তিনেক টাকা।

এক পুলিশকর্তা জানাচ্ছেন, সব চেয়ে বড় দলটিকে ২০১১-তে মহেশতলা থেকে ধরা হয়েছিল। দলটি এক রাতে মহেশতলা টেলিফোন এক্সচেঞ্জে হানা দিয়ে ৬০টি ব্যাটারি লুঠ করে। জুলপিয়া টেলিফোন এক্সচেঞ্জে হামলা সেই দলেরই কাজ কি না, তদন্তকারীরা তা খতিয়ে দেখছেন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy