বেলঘরিয়ায় আদর্শ নগরে ডাকাতির ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজন দুষ্কৃতীকে বিরাটি থেকে গ্রেফতার করল পুলিশ। উত্তর চব্বিশ পরগনার পুলিশ সুপার তন্ময় রায় চৌধুরী বলেন, ‘‘আদর্শ নগরে ডাকাতির ঘটনায় তিনজনকে রবিবার সকালে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে দু’জন ডাকাতি করতে এসেছিল। বাকি একজন লুঠ হওয়া সামগ্রী কিনেছিল। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।’’
শুক্রবার রাতে বেলঘরিয়ার আদর্শ নগরে সাত জনের ডাকাত দল উমা বর্মনের একতলা বা়ড়িতে ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়। ওই বাড়ির বাসিন্দা উমাদেবী ছাড়াও থাকেন তাঁর পুত্রবধূ গীতা বর্মন ও গীতাদেবীর শিশুকন্যা ঋতরাজ্ঞী। বছর খানেক আগে কিডনির অসুখে মারা গিয়েছেন গীতাদেবীর স্বামী। একই অসুখে তিন মাস আগে পুত্র রাজীবকে হারিয়েছেন গীতাদেবী। বাড়িতে
শুক্রবার রাতে ডাকাতরা বাড়ির কোলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে প্রথমে এক দুষ্কৃতী উমাদেবীর গলা টিপে ধরে, মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে আলমারির চাবি দিতে বলে। তিনি দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে মাঝের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন ডাকাতরা। প্রবল আওয়াজ শুনে দরজা খুলে দেন গীতাদেবী। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা আলমারি থেকে সর্বস্ব লুঠ করে উমা ও গীতাদেবীর গলা ও হাতের গয়না খুলে নেয়। এমনকি শিশুকন্যার আঙুল থেকে ইমিটেশনের আংটিও ছিনিয়ে নেয় তারা। ডাকাতরা পাশের বাড়িতে ঢুকে গীতাদেবীর একরত্তি কন্যা ঋতরাজ্ঞীকেও মারতেও ছাড়েনি। নিজের ছোট্ট মেয়ের গলায় ডাকাতদের ভোজালি চেপে ধরায় প্রতিবাদ করেন মা গীতা। এরপরেই দুষ্কৃতীরা গীতাদেবীর গালে সজোরে থাপ্প়ড় কষিয়ে দেন।
গীতাদেবীর শত অনুরোধ সত্ত্বেও ছোট্ট মেয়ে উপর অত্যাচার করতে ছাড়েনি দুষ্কৃতীরা। ততক্ষণে এক ডাকাতের নজরে এসেছে ঋতরাজ্ঞীর মধ্যমায় নতুন আংটির দিকে। সোনার আংটি ভেবে শিশুকন্যার উপর চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা। চিৎকার করে কেঁদে উঠলে তাকে চড় মারে দুষ্কৃতীরা। এরপর ছোট্ট ঋতরাজ্ঞী বলে ওঠে, ‘‘আমার বাবা থাকলে এরকমা করতে পারতে না তোমরা!’’ অভিযোগ, বাবার কথা বলে উঠতেই ডাকাতরা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। কান্নার আওয়াজ চাপা দিতে ছোট্ট মেয়ের মুকে বালি চেপে ধরে হাত মুচড়ে নিয়ে তার আঙুল থেকে ইমিটেশনের আংটি খুলে নিয়ে ডাকাতরা। শুক্রবার গভীর রাতের আতঙ্ক এখনও তাড়া করে নিয়ে বেড়াচ্ছে বৃদ্ধা উমা বর্মন (৭০) ও গীতা বর্মনদের (৩৮)। পঁয়তাল্লিশ মিনিটের বিভীষিকার ঘটনায় সব থেকে বেশি অসুস্থ হয়ে প়ড়েছে ছোট্ট মেয়েটি। চুপচাপ, ভাবলেশহীন ন’বছরের মেয়েটি এখন কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। একেই তিন মাস আগে আদরের বাবাকে হারানোর যন্ত্রণা এখনও ভুলতে পারেনি। তার উপর শুক্রবার রাতে দুষ্কৃতীরা যেভাবে ছোট্ট মেয়েটির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল তা ভুলতে পারছেন না দিদা-মা’রা। একটাই কথা তাঁরা বারবার বলছিলেন, ‘‘বেঁচে থাকতে বাবার হাতে কোনও দিন গায়ে আঘাত পড়েনি। আর ডাকাতরাই কিনা তাকে এভাবে আক্রমণ করল!’’।