আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পরেও রেড রোডে গাড়ির ধাক্কায় বায়ুসেনার অফিসারের মৃত্যুর মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত মহম্মদ সোহরাব আত্মসমর্পণ করেননি বা গ্রেফতার হননি। এই অবস্থায় ওই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত, সোহরাবের ছোট ছেলে সাম্বিয়ার জামিনের আবেদনও শুক্রবার নাকচ হয়ে গিয়েছে। তাঁর দুই বন্ধু শাহনওয়াজ খান (শানু) ও নুর আলমের (জনি) জামিনের আর্জিও খারিজ হয়ে যায়। তিন জনকেই ফের ১৪ দিন জেল-হাজতে রাখার নির্দেশ দেন কলকাতা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের মুখ্য বিচারক সঞ্জয়রঞ্জন পাল।
এ দিন আদালতে শুনানির শুরুতেই সাম্বিয়ার আইনজীবী রানা মুখোপাধ্যায় তাঁর সওয়ালে বলেন, টিআই বা শনাক্তকরণ প্যারেডের আগেই সংবাদমাধ্যমে তাঁর মক্কেলের ছবি দেখানো হয়েছে। তাই তাঁকে চেনানোর জন্য শনাক্তকরণ প্যারেড ভিত্তিহীন। তদন্তে নতুন কোনও অগ্রগতি নেই। ধৃতকে যে-কোনও শর্তে জামিন দেওয়ার আবেদন জানান তিনি। শানুর আইনজীবী ফজলে আহমেদ খান জানান, শনাক্তকরণের সময় ১৬ জনের মধ্যে ১৪ জনই শানুকে চিহ্নিত করতে পারেননি। বাকি দু’জন কনস্টেবল চিহ্নিত করলেও শানু ছিলেন ঘাতক গাড়িটির থেকে অনেক দূরে। তিনি ওই গাড়ি-দুর্ঘটনার সঙ্গে কোনও ভাবেই যুক্ত নন। জনির আইনজীবী দানিশ হকও বিচারককে জানান, তাঁর মক্কেল ঘটনার সময় অকুস্থলে ছিলেন না।
সরকারি আইনজীবী তমাল মুখোপাধ্যায় বলেন, রেড রোড কাণ্ডে চতুর্থ অভিযুক্ত মহম্মদ সোহরাবের আগাম জামিনের আবেদন আদালতে ইতিমধ্যেই খারিজ হয়ে গিয়েছে। এর থেকেই বোঝা যায়, অভিযুক্তেরা কতটা প্রভাবশালী। ওই ঘটনার আরও তদন্ত প্রয়োজন। মূল অভিযুক্ত সাম্বিয়া এবং তাঁর দুই সঙ্গী জামিন পেয়ে গেলে তদন্ত ব্যাহত হতে পারে। জেলে গিয়ে সাম্বিয়া-শানু-জনিকে জেরা করার জন্য পুলিশের তরফে আর্জি জানানো হয়েছিল। বিচারক তা মঞ্জুর করেন।
১৩ জানুয়ারি রেড রোডে মহড়া কুচকাওয়াজের সময় একটি অডি গাড়ি পুলিশের একাধিক ব্যারিকেড ভেঙে অভিমন্যু গৌড় নামে বিমানবাহিনীর এক কর্পোরালকে পিষে দেয়। সেই গাড়ির মালিক সাম্বিয়া প্রথমে পালিয়ে যান। পরে তাঁকে এবং তাঁর দুই বন্ধু শানু-জনিকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু বড় ছেলে আম্বিয়াকে নিয়ে সাম্বিয়ার বাবা সোহরাব সেই যে গা-ঢাকা দিয়েছেন, এখনও তাঁর টিকির নাগাল পায়নি পুলিশ। আড়ালে থেকেই আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। দিন তিনেক আগে আদালত সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছে।