Advertisement
E-Paper

ব্রিগেড থেকে এ বার নতুন সরকারের ডাক বামেদের

তৃণমূল জমানার সাড়ে চার বছরের মাথায় নতুন আক্রমণাত্মক ভূমিকায় আত্মপ্রকাশ করল সিপিএম। এত দিন পর্যন্ত তাদের মুখে ছিল শাসক দলের ‘সন্ত্রাস’ মোকাবিলা করে টিঁকে থাকার কথা। এ বারই প্রথম লড়াইয়ে জয়ের কথা সরাসরি বললেন সিপিএম নেতৃত্ব। ভিড় উপচে পড়া ব্রিগেড সমাবেশ থেকে রবিবার ডাক দেওয়া হল রাজ্যে নতুন সরকার গড়ার।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ ডিসেম্বর ২০১৫ ১৬:৫২
—নিজস্ব চিত্র।

—নিজস্ব চিত্র।

তৃণমূল জমানার সাড়ে চার বছরের মাথায় নতুন আক্রমণাত্মক ভূমিকায় আত্মপ্রকাশ করল সিপিএম। এত দিন পর্যন্ত তাদের মুখে ছিল শাসক দলের ‘সন্ত্রাস’ মোকাবিলা করে টিঁকে থাকার কথা। এ বারই প্রথম লড়াইয়ে জয়ের কথা সরাসরি বললেন সিপিএম নেতৃত্ব। ভিড় উপচে পড়া ব্রিগেড সমাবেশ থেকে রবিবার ডাক দেওয়া হল রাজ্যে নতুন সরকার গড়ার।

রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর এর আগেও কয়েকটা ব্রিগেড সমাবেশ হয়েছে বামেদের। তাতে ভিড়ও হয়েছে। কিন্তু, কোনও ভাবে সমাবেশে হাজির হয়ে নিজেদের এলাকায় ফিরে যাওয়াটাই তখন লক্ষ্য ছিল বাম কর্মী-সমর্থকদের। কিন্তু, এ বার ব্রিগেডমুখী মিছিল দেখা গেল তৃণমূল বিরোধী স্লোগানে মুখর। বিভিন্ন জেলা থেকে বাসে চেপে বা সাধারণ ট্রেনে-বাসে কলকাতা পৌঁছে যাঁরা মিছিল করে ব্রিগেডের দিকে এগিয়েছেন, তাঁরা সকলেই রবিবার তারস্বরে স্লোগান দিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে চেয়েছেন। এমনকী, দল বেঁধে মেট্রোয় চেপে যাঁরা সমাবেশে এসেছেন, তাঁরাও স্টেশন চত্বর ভরিয়ে দিয়েছেন স্লোগানে।

আরও পড়ুন: সমাবেশে যোগ দিতে ব্রিগেডমুখী সিপিএম কর্মী-সমর্থকেরা

Advertisement

গ্যালারির পাতায় দেখুন: বাম-ব্রিগেডে জমাটি রবিবার

জনতার এই মনোভাব বুঝে নিয়েই ব্রিগেডের মঞ্চ থেকে সিপিএম নেতৃত্ব কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূল এবং বিজেপিকে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন, “নতুন দায়িত্ব আপনাদের পালন করতে হবে। রাজ্যে একটা নতুন সরকার আনতে হবে। সিঙ্গুরে আবার আমরাই পারব কারখানা গড়তে। সকলের জন্য কাজ, গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা— এটাই হবে বামপন্থীদের লক্ষ্য।” ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেছেন, “প্রায় পাঁচ বছর আগে মানুষ বামফ্রন্ট সরকারকে সরিয়ে পরিবর্তন এনেছিলেন। এখন নিজেদের অভিজ্ঞতায় তারা বুঝতে পারছেন, পরিবর্তনে তারা কী পেয়েছেন। তৃণমূল বা বিজেপি বিকল্প নয়। নীতির প্রশ্নে বিকল্প হতে পারে একমাত্র সম্প্রসারিত বামফ্রন্ট।”

বুদ্ধবাবুকে ঘিরে উৎসাহী জনতার ভিড়।

সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন করেন, তৃণমূল সরকারকে হারানোর চ্যালেঞ্জ তারা নিচ্ছেন কি না? জবাব একটু ক্ষীণ হচ্ছে শুনে তিনি পাল্টা বলেন, “আমার কানেই আওয়াজ পৌঁছচ্ছে না, তো নবান্নে কী ভাবে পৌঁছবে!” এর পরই গর্জন করে ওঠে জনতা। সভার সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। একেবারে শেষলগ্নে সংক্ষিপ্ত ভাষণে তাঁর বক্তব্য, “দেশকে বিজেপি-র হাত থেকে উদ্ধার করতে হবে। রাজ্যটা সর্বনাশের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে। তৃণমূলের হাত থেকে এ রাজ্যকে বাঁচাতে হবে। লড়াই লড়তে হবে তো বটেই, এ লড়াই জিততেও হবে।” সভার শেষে স্লোগানের সূত্রধর হিসাবে সম্পূর্ণ অচেনা ভূমিকায় দেখা গিয়েছে বুদ্ধবাবুকে। মঞ্চ থেকে তিনি নামামাত্রই তাঁকে ছেঁকে ধরে জনতা। বেশ কয়েক জন তরুণ-তরুণী বুদ্ধবাবুকে প্রশ্ন করেন, কেন তাঁকে আরও বেশি করে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বলেন, “আপনারই আমাদের শক্তি। আপনারা লড়াই করছেন, আমরা সঙ্গে আছি।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy