কেন্দ্রীয় সরকারের ‘পিএম সেতু’ প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের ৫১টি আইটিআই কলেজ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। এর ফলে কলেজগুলির দায়িত্ব বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বামেরা। মন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়ায় পঠনপাঠনের খরচে হেরফের হবে না। অন্য রাজ্যে এই ব্যবস্থায় কর্মসংস্থানের প্রশ্নে সুফলও মিলেছে।
তবে আরএসপি-র রাজ্য সম্পাদক তপন হোড় রবিবার বলেছেন, “এই সিদ্ধান্ত আসলে কেন্দ্রের নতুন জাতীয় শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন, যেখানে শিক্ষার যাবতীয় দায়-দায়িত্ব রাষ্ট্র নিতে নারাজ। শিক্ষার বেসরকারিকরণ শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণকেই উৎসাহিত করে।” আরএসপি-র প্রস্তাব, ৫১টি আইটিআই কলেজের শিক্ষার্থীদের স্থায়ী কর্মসংস্থান ও শিল্পের জন্য উপযুক্ত শ্ৰম-বাহিনী গড়ার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে মউ সই করা জরুরি। কিন্তু পাঠক্রম থেকে আধুনিকীকরণ, পরিকাঠামোর প্রশ্নে সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে। সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই এই সিদ্ধান্তকে ‘সরকারি কলেজের উপরে বুলডোজ়ারগিরি’ বলে উল্লেখ করে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। সরব হয়েছে সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের ছাত্র সংগঠন আইসাও। এ দিকে, ডিজিটাল রেশন কার্ড নিয়ে আপত্তি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিয়েছে আরএসপি। দলের রাজ্য সম্পাদক তপন সেই আর্জিতে বলেছেন, “সরকারের জনকল্যাণ শিবিরে গিয়ে মানুষ আশাহত। রাজ্য সরকার ডিজিটাল রেশন কার্ড ও অন্য অনেক কারণকে আর্থিক সামর্থ্যের মাপকাঠি করে নানা প্রকল্পের সুযোগ দিতে চাওয়ায় বিপত্তি ঘটছে।” আরএসপি-র দাবি, আয়কর রিটার্ন দিতে হয় না, এমন সব পরিবারকেই সরকার প্রকল্পগুলির সুবিধা পৌঁছে দিক।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)