আর্থিক প্রতারণার মামলায় ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি সুশান্ত ঘোষের ফের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল আলিপুরের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
রবিবার এই মামলায় পুলিশি হেফাজত থেকে সুশান্তকে আদালতে তোলা হলে অভিযুক্তের আইনজীবীর তরফে জামিনের আবেদন করা হয়। তবে সরকারি আইনজীবী শুভাশিস ভট্টাচার্য ফের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘‘সুশান্ত ঘোষ গরিব মানুষের কষ্টার্জিত টাকা লুটেছেন। গরিব হকারেরা পাকা দোকান পাওয়ার আশায় এক জন জনপ্রতিনিধিকে টাকা দিয়েছিলেন। শনিবার সুশান্ত ও তাঁর গাড়িচালকের বাড়ি থেকে পুলিশ কয়েক কোটি টাকার জমির দলিল, বিভিন্ন আর্থিক সংস্থার নথি ও আর্থিক লেনদেনের সূত্র উদ্ধার করেছে। নতুন নতুন সংস্থা খোলার নথি ও ল্যাপটপ উদ্ধার হয়েছে। অপরাধের গভীরতা বিচার করে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হোক।’’
সব শুনে বিচারক আগামী ২ জুলাই পর্যন্ত সুশান্তের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বলে আদালত সূত্রের খবর।
মামলার তদন্তকারী অফিসার লিখিত ভাবে জানিয়েছেন, অসহায়, গরিব মানুষদের দোকান ও ফুটপাতে ব্যবসা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সুশান্ত এবং তাঁর বাহিনী প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, সুশান্ত ঘনিষ্ঠ সাত জন পুলিশি হেফাজতে ছিল। তাদের সঙ্গে সুশান্তকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হয়েছে। তার পরেই ওই তথ্য উঠে এসেছে। এই সব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
এ দিন সুশান্তের আইনজীবী সুব্রত সর্দার জামিনের আবেদন করে বলেন, ‘‘কয়েক কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন তদন্তকারীরা। কিন্তু আমার মক্কেলের কাছে নগদে কিংবা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোনও বেআইনি আর্থিক লেনদেনের সূত্র পাওয়া যায়নি। ওই দুর্নীতি থেকে তিনি কোনও ভাবেই লাভবানহননি। অযথা পুলিশি হেফাজতে নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা হচ্ছে। অভিযুক্তের শর্তাধীন জামিনের আবেদন করা হচ্ছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)