E-Paper

লেনিনের মূর্তি ভেঙে রাতে উড়ল গেরুয়া পতাকা

সিপিএমের মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা বলেন, ‘‘গড়বেতায় হোক বা জিয়াগঞ্জে, যারা মূর্তি ভাঙছে তারা ভাঙার রাজনীতিতেই বিশ্বাসী, গড়ার রাজনীতিতে নয়।’’

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২৬ ০৮:৫৭
ভাঙা মূর্তিতে বিজেপির পতাকা।

ভাঙা মূর্তিতে বিজেপির পতাকা। — নিজস্ব চিত্র।

ফের আক্রমণের শিকার লেনিন। এ বারে পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায়। প্রথম বার ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার বছরে। তার পরে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ক্ষমতায় আসার পরে।

গড়বেতার আমলাগোড়ায় শুক্রবার গভীর রাতে লেনিনের মূর্তির মাথা ভেঙে তা বিজেপির পতাকায় মুড়ে দেওয়া হয়। মূর্তির ঘেরাটোপে উড়তে দেখা যায় গেরুয়া পতাকা। মূর্তির মাথাটি শনিবার রাত পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

সদ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পরে ৫ মে সন্ধ্যায় মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের শ্রীপৎ সিং কলেজের সামনে লেনিনের মূর্তি ভাঙা হয়। সেই ঘটনায় পুলিশ কয়েক জনকে ধরে। তবে এক দিনের মধ্যে পাঁচ জন জামিনে মুক্তি পান। যদিও ঘটনার ভিডিয়োয় বহু মানুষকে দেখা গিয়েছিল। সিপিএমের মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা বলেন, ‘‘গড়বেতায় হোক বা জিয়াগঞ্জে, যারা মূর্তি ভাঙছে তারা ভাঙার রাজনীতিতেই বিশ্বাসী, গড়ার রাজনীতিতে নয়।’’

শনিবার সকালে আমলাগোড়ায় বাসিন্দারা ভাঙা মূর্তি দেখেন। দেখা যায়, পাশে সিপিএম কার্যালয়েও হামলা হয়েছে। সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য তথা গড়বেতায় দলের প্রার্থী তপন ঘোষ বলেন, ‘‘পুলিশে অভিযোগ করেছি। দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছি।’’ জেলা পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলছে।’’

১৯৮৬ সালে মে দিবসের শতবর্ষে আমলাগোড়ায় লেনিনের আবক্ষ মূর্তিটি বসানো হয়। আবরণ উন্মোচন করেন প্রয়াত কমিউনিস্ট নেতা সুকুমার সেনগুপ্ত। পরে মূর্তিটি লোহার গ্রিল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়। গড়বেতা ও ময়রাকাটা যাওয়ার রাস্তা সংযোগস্থলের নাম হয়ে যায়লেনিন মোড়।

২০১১ সালে রাজ্যে তৃণমূল সরকার আসার পরে এই মূর্তির মাথা ভেঙে নিয়ে গিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। ২০১৪ সালে স্থানীয় সিপিএম নেতৃত্ব মূর্তিটি আবার তৈরি করান। এ বার ভাঙা মূর্তিতে দলীয় পতাকা থাকায় অস্বস্তিতে বিজেপি। যদিও গড়বেতার জয়ী বিজেপি প্রার্থী প্রদীপ লোধা বলেন, ‘‘এই ঘৃণ্য কাজ নিশ্চয়ই দুষ্কৃতীদের। ব্যক্তিগত ভাবে ও বিজেপি আন্তর্জাতিক স্তরের কোনও রাজনৈতিক আদর্শবাদী নেতার মূর্তি ভাঙাকে সমর্থন করে না। প্রশাসন তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নিক।’’

শনিবার দুপুরে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ শহরের বাটারমোড়ে যশোর রোডের পাশে নীল বিদ্রোহের ভাস্কর্যও ভাঙচুর হয়। অভিযোগ, বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পরে, এক দল লোক এসে ভাস্কর্যটি ভেঙে দেয়। তারা কারা জানা যায়নি। তবে এলাকায় অভিযোগ ছিল, ব্যস্ত যশোর রোডের ধারে ভাস্কর্যটি তৈরি হওয়ায় যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছিল। অশোক কীর্তনিয়া বলেন, ‘‘ভাস্কর্য নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ছিল। খবর পেয়েছি, তাঁরা ভেঙেছেন।’’ সিধো-কানহুর মূর্তি: দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারিতেও এ দিন সকালে সিধো-কানহুর মূর্তির একাংশ ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। তার পাশে বিজেপির পতাকা বাঁধা ছিল। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় বিজেপি নেতা দেবব্রত মজুমদার বলেন, ‘‘তৃণমূল-আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বিজেপির বিরুদ্ধে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছে।’’ অভিযোগ মানেনি তৃণমূল।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Vladimir Lenin Left BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy