ইউনিয়নের অধিকার হারিয়েছেন কারাকর্মীরা। তাই ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ ঘরেরও প্রয়োজন ফুরিয়েছে। সেই ঘরগুলিকে বন্দিশালার কাজে ব্যবহারের ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে কারা দফতর। ঘরগুলি খালি করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশও জেল-কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছেছে। কোথাও কর্মীদের বিনোদন বা ইন্ডোর গেমসের জন্য, আবার কোথাও বন্দিদের সামগ্রী তৈরিতে সেই সব ঘর ব্যবহার করতে পারে কারা দফতর।
ইউনিয়নের ঘরগুলি চলতি মাসেই বন্ধ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে কারা দফতর। সেই অনুযায়ী দু’-একটি ছাড়া রাজ্যের সব সংশোধনাগারের ইউনিয়ন ঘরে তালা পড়েছে। ঘরের মাথায় থাকা ইউনিয়নের সাইনবোর্ডও নামিয়ে দিয়েছেন জেল-কর্তৃপক্ষ।
কারা দফতরের খবর, কেন্দ্রীয় বা জেলা সংশোধনাগারে গামছা, পাটজাত সামগ্রী, বিস্কুটের উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করেন বন্দিরা। কিন্তু জেলা বা মহকুমা স্তরের অনেক বন্দিশালায় স্থানাভাবে সেই ইউনিট চালু করা যায়নি। ইউনিয়নের বন্ধ ঘরে উৎপাদন সামগ্রীর ইউনিট বসাতে পারে কারা দফতর। আবার কারাকর্মীদের বিনোদনের কাজেও ওই ঘরগুলি ব্যবহারের কথা ভাবছে কারা দফতর। এক কর্তার কথায়, ‘‘অধিকাংশ জেলে ইউনিয়ন ঘরকে রিক্রিয়েশনের কাজে ব্যবহার করা হবে।’’ তা নিয়ে দফতরের একাংশের ব্যাখ্যা, সব কর্মী তো ইউনিয়ন করতেন না। ওই সব ঘরে বিনোদনের ব্যবস্থা হলে তা সকলের কাজে লাগবে। কাজের পাশাপাশি সকলেরই অবসর কাটানোর তাগিদ থাকে। তাই ওই সব ঘরে তার ব্যবস্থা করা হতে পারে। এ বিষয়ে মুখ খোলেননি কর্তারা।
কারাকর্মীরা ইউনিয়ন করার অধিকার হারালেও তাঁদের ভাল-মন্দ দেখার দায়িত্ব ওয়েলফেয়ার বোর্ড বা কল্যাণ পর্ষদকে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য স্তরে কল্যাণ পর্ষদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহকুমা জেলেও একই ধরনের পর্ষদ গড়া হয়েছে। ওই সব পর্ষদের সদস্য বাছাইয়ের কাজও শেষ। পর্ষদগুলি মাসে এক বার বৈঠকে বসবে। সেখানে গৃহীত সিদ্ধান্ত পাঠাতে হবে রাজ্য স্তরে। ওই সব পর্ষদ কর্মীদের বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারলেও পদোন্নতি বা বদলির ক্ষেত্রে কিছু করতে পারবে না।
ইউনিয়নের ঘর বন্ধের বিষয়ে সাত দফা নির্দেশিকা দিয়েছিলেন ডিজি (কারা) অরুণ গুপ্ত। ইউনিয়নের ঘর মূলত কর্মীদের জিমন্যাসিয়াম এবং বিনোদনের কাজে ব্যবহার হবে। তবে এই ব্যাপারে সংশোধনাগারগুলিতে এখনও সরকারি নির্দেশিকা যায়নি। আজ, মঙ্গলবার ইউনিয়ন ঘর খালি করার শেষ দিন। তার পরে নতুন পর্যায়ে ঘরগুলির ব্যবহারের বিষয়ে সংশোধনাগারে নির্দেশ যেতে পারে বলে জানান কিছু কারাকর্তা।