Advertisement
E-Paper

ভোটের ফল প্রকাশের পর হিংসা রুখতে রাজ্যে ২০ হাজার আধাসেনা

এ রাজ্যে ভোট মেটার পর থেকেই বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া এলাকা। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতেও মঙ্গলবার রাতে এক তৃণমূল নেতা আক্রান্ত হয়েছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ মে ২০১৯ ২০:৫১
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

নির্বাচন মেটার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক হিংসা। ফলপ্রকাশের পরবর্তী সময়ে সেই রাজনৈতিক হানাহানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মুখ্যসচিব এবং পুলিশ প্রধানকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

এ রাজ্যে ভোট মেটার পর থেকেই বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া এলাকা। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতেও মঙ্গলবার রাতে এক তৃণমূল নেতা আক্রান্ত হয়েছেন।

সেই পরিস্থিতিতে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং রাজনৈতিক হিংসা রুখতে মূলত কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপরই নির্ভর করছে কমিশন। রাজ্যের ৫৮টি গণনাকেন্দ্রের প্রহরার জন্য মোতায়েন ৮২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়াও ফলপ্রকাশ পরবর্তী হিংসা রুখতে আরও ২০০ কোম্পানি আধা সেনা মোতায়েন করল কমিশন।

রাজ্যের এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) সিদ্ধনাথ গুপ্ত ইতিমধ্যেই সব জেলাশাসক এবং জেলার পুলিশ সুপারদের সতর্ক করে চিঠি দিয়েছেন। সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে নদিয়া এবং মালদহ জেলায়— ১০ কোম্পানি করে। রাজ্য পুলিশের আশঙ্কা, ফল প্রকাশের পরই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। সেখানে থাকছে ৯ কোম্পানি আধাসেনা। শহর কলকাতার জন্যও বরাদ্দ ১০ কোম্পানি।

আরও পডু়ন: ক্যাম্প অফিস করা নিয়ে মন্ত্রী-এসপি বচসা, মন্ত্রীর হুমকিতেও অনড় পুলিশকর্তা

আরও পড়ুন: ইভিএম ইস্যুতে মুখ খুললেন অমিত শাহ, এক গুচ্ছ প্রশ্ন তুলে পাল্টা আক্রমণ বিরোধীদের

রাজ্য পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি থানায় কমপক্ষে দুই সেকশন (১৬ জন) করে আধাসেনার দল রাখা হচ্ছে। রাজ্য বা জেলা পুলিশের তদারকিতে তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মোকাবিলা করবে।

সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দেওয়া রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই আশঙ্কিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এ রাজ্যে ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে। গোয়েন্দাদের দাবি, নির্বাচনী প্রচার ঘিরেও এ রাজ্যে বড় ধরনের একাধিক অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা কলকাতায় অমিত শাহ-র রোড শো প্রসঙ্গও উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি, এ রাজ্যে নির্বাচনের দিন একাধিক প্রার্থী হিংসার মুখোমুখি হয়েছেন। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটেছে কেশপুরে।

ফল প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই উত্তেজনা আরও বাড়বে এবং গোয়েন্দাদের ধারণা, বিকেল গড়ানোর আগেই জায়গায় জায়গায় তা সংঘর্ষের চেহারা নিতে পারে।

ইভিএমে কারচুপি বা ইভিএম বদল হতে পারে, এই অভিযোগ ইতিমধ্যেই তুলেছে তৃণমূল-সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল একাধিক বার সেই কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এবং দলগত ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা কেন্দ্রে পালা করে পাহারা দিচ্ছেন তাদের কর্মী-সমর্থকেরা। পাল্টা রাস্তায় নেমেছে বিজেপিও। ফলে বেশ কিছু জায়গায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। সংঘাত তৈরি হচ্ছে কমিশনের আওতাধীন প্রশাসনের সঙ্গেও। এ দিন কোচবিহারে গণনাকেন্দ্রের পাশে তৃণমূলের ক্যাম্প অফিস তৈরি করা নিয়ে জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে প্রকাশ্যে বচসা হয় রাজ্যের মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষের। গোয়েন্দাদের আশঙ্কা, এ ধরনের ঘটনা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তেই হচ্ছে। এই ঘটনাগুলিই পরবর্তী সময়ে অশান্তির জ্বালানি হয়ে উঠতে পারে। সে কারণেই গণনা চলাকালীন এবং তার পরবর্তী সময়ে হিংসা ঠেকাতে সব রকম ব্যবস্থা নিতে রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।

Lok Sabha Election 2019 BJP TMC Clash Election Results 2019 Central Force
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy