ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে তৃণমূলের করা মামলায় নির্বাচন কমিশনকে নোটিস দিল সুপ্রিম কোর্ট। কমিশনের কাছে জবাব তলব করা হয়েছে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল। তৃণমূলের রাজ্যসভার দুই সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেন এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তুলে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই মামলায় তাঁদের হয়ে শীর্ষ আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী কপিল সিব্বল। আদালতে তিনি দাবি করেন, কমিশন যাবতীয় নির্দেশ সমাজমাধ্যমে দিচ্ছে। হোয়াট্সঅ্যাপের মাধ্যমে এসআইআর সংক্রান্ত কাজের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে বুথ স্তরের আধিকারিকদের (বিএলও)। কমিশনের তথ্যগত অসঙ্গতির (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) তালিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে প্রশ্ন তোলে তৃণমূল। সিব্বলের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের বহু ভোটারকে অযৌক্তিক ভাবে চিহ্নিত করে শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে।
ডেরেকেরা তাঁদের আবেদনে এসআইআর নিয়ে কমিশনের স্বেচ্ছাচারিতা এবং পদ্ধতিগত অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। সেই আবেদনেও ‘হোয়াট্সঅ্যাপ বার্তা’র প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ, কমিশন আইনবিরুদ্ধ কাজ করছে। সোমবারের শুনানিতে কমিশনের তরফে জবাব দেওয়ার জন্য দু’সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়। তবে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ কমিশনকে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে। আগামী ১৯ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, গঙ্গাসাগরে এক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর নিয়ে সরব হয়েছিলেন। তিনি জানান, এসআইআরের শুনানিতে মানুষ হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের হয়ে সওয়াল করবেন তিনি। আইনজীবী হয়ে নয়, সাধারণ নাগরিক হিসাবে কথা বলবেন। নেত্রীর এই বক্তব্যের পরেই সুপ্রিম কোর্টে এসআইআরের শুনানিতে মানুষের হেনস্থা নিয়ে মামলা রুজু করে তৃণমূল।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তুলে বার বার সরব হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল। মমতা জনসভা থেকে এ নিয়ে কমিশনকে লাগাতার তোপ দাগছেন। শুধু তা-ই নয়, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ইতিমধ্যেই পাঁচটি চিঠি দিয়েছেন তিনি। কখনও এসআইআর শুনানিতে মানুষের হয়রানির কথা তুলে ধরেছেন, কখনও আবার ‘এসআইআর আতঙ্কে’ মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন। সোমবার সর্বশেষ চিঠিতে দিয়েছেন মমতা। শেষ চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোটারদের অনেকে কাগজ জমা দিয়েছেন। তার পরেও তাঁদের নাম কাটা হচ্ছে। এসআইআরের শুনানিতে ভোটাররা নথি জমা দিলেও কোনও রসিদ বা প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগও করেন তিনি।