ভুয়ো নথি দিয়ে এবং বাবা সেজে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে সাহায্য করার অভিযোগ উঠল হাঁসখালির দু’জনের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তেরা হলেন ময়ূরহাট ১ পঞ্চায়েত এলাকার এক বুথ লেভেল অফিসার এবং তাঁর ভাই। জেলা প্রশাসনের কাছে ইতিমধ্যেই এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই পঞ্চায়েতের সদস্য, তৃণমূলের প্রদীপ কর্মকার।
হাঁসখালি ব্লকের ময়ূরহাট ১ পঞ্চায়েতের শিবচন্দ্রপুর এলাকায় ‘বুথ লেভেল অফিসার’ (বিএলও) হিসাবে আছেন কৃষ্ণধন বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি। তিনি আগে সিআইএসএফ-এ চাকরি করতেন। ২০১৭ সালে তিনি সেখান থেকে অবসর নেন। বছরখানেক আগে তিনি এখানে ‘বুথ লেভেল অফিসার’ হিসাবে নিযুক্ত হন। বুথস্তরে ভোটার তালিকায় নতুন নাম তোলা, সংশোধনী ইত্যাদি কাজের জন্য যে ফর্ম পূরণ করে জমা দেন ভোটারেরা, সেই কাজে নিযুক্ত থাকেন এই বুথ লেভেল অফিসারেরা। সাধারণত স্থানীয় গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে থেকেই এঁদের নিয়োগ করা হয়। এ ভাবেই কৃষ্ণধন বিশ্বাসকে নিয়োগ করা হয়েছিল। আর তাঁর বিরুদ্ধেই ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে অনৈতিক কাজের অভিযোগ উঠেছে।
ময়ূরহাট ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য প্রদীপ মজুমদারের অভিযোগ, কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভা এলাকার ২১১ নম্বর অংশের শিশির বিশ্বাস (ভোটার তালিকার ক্রমিক নং ৫১৯) এবং মৌসুমী বিশ্বাসের (ভোটার তালিকার ক্রমিক নং ১০৬০) বাবা হিসাবে কৃষ্ণধনের ভাই প্রহ্লাদ বিশ্বাসের নাম দেওয়া হয়েছে। আবার, একই অংশে ১০৬১ ক্রমিক নম্বরে বিধান বিশ্বাসের ক্ষেত্রে বাবার নাম দেওয়া হয়েছে কৃষ্ণধন বিশ্বাস।
দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯
প্রদীপের অভিযোগ, “প্রহ্লাদ নানা অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকে। প্রহ্লাদ আর কৃষ্ণধন দু’জনেরই এক ছেলে, এক মেয়ে। কিন্তু যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় তাঁদের ছেলেমেয়ে হিসাবে আছে, তাঁরা আসলে এঁদের সন্তান নন। বাংলাদেশের বাসিন্দাদের ভোটার তালিকায় ঠাঁই করে দিতে ওঁরা এই কাজ করেছেন। ভুয়ো নথি দিয়ে নিজেরা বাবা সেজেছেন!” এ ক্ষেত্রে তাঁরা যে শংসাপত্র জমা দিয়েছেন তা-ও জাল বলে অভিযোগ। ময়ূরহাট ১ পঞ্চায়েতের প্রধান রামপদ ঘোষ দাবি করেছেন, “ওঁরা যে শংসাপত্র জমা দিয়েছেন, তা আমাদের পঞ্চায়েতের নয়। আমাদের পঞ্চায়েত থেকে এগুলো দেওয়া হয়নি।”
অভিযুক্ত কৃষ্ণধন শনিবার বলেন, “শিশিরেরটা আমি বলতে পারব না, তখন আমি দায়িত্বে ছিলাম না। বিধান আমার ছেলের মতো। ও আমাদের আত্মীয়। বাবা-মা বাংলাদেশে থাকে। আমার কাছেই এ দেশেই ছোটবেলা থেকে মানুষ হয়েছে। এখানে সে দিনমজুরের কাজ করে। সে আমার ছেলের মতোই। ভোটার তালিকায় ওর নাম তোলার দরকার ছিল। তাই ছেলে বলে পরিচয় দিয়েছি।”
প্রহ্লাদ আবার বলেন, “যা বলার, বিডিও সাহেবকে বলেছি।” কিন্তু তাঁর মেয়ের নাম তো কল্পনা বিশ্বাস, এই ‘মৌসুমী বিশ্বাস’ কে? প্রহ্লাদের জবাব, “কল্পনা আমার মেয়ে, মৌসুমী আমার মেয়ে। আরও অনেকে হতে পারে!” কৃষ্ণধন এবং প্রহ্লাদ দুজনেরই দাবি, তাঁরা তৃণমূল করেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁদের ফাসানো হচ্ছে।
প্রহ্লাদ বলেন, “যিনি অভিযোগ করেছেন, তিনি তো আমার গ্রামেরই নন। আগে বিজেপি করতেন, এখন তৃণমূলে এসেছেন। আমরা আগে থেকে তৃণমূল করি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে।”
তবে তাঁদের সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেছেন হাঁসখালি ব্লক তৃণমূলের সভাপতি কল্যান ঢালি। তিনি বলেন, “প্রহ্লাদ বা কৃষ্ণধন কেউই তৃণমূল করে না। এখন বিপাকে পড়ে তৃণমূল সাজছে। এদের সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই।” আর, হাঁসখালির বিডিও উৎপল পাতসা বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শুরু হয়েছে। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”