নির্বাচন-নির্ঘণ্ট ঘোষণার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করেছে শাসকদল। শুক্রবার রাজ্যের ২৫টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে বামেরাও। কিন্তু এ রাজ্যে নিজেদের ‘প্রধান প্রতিপক্ষ’ বলে দাবি করা বিজেপি এখনও প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করেনি।
কে, কোথায় বিজেপি প্রার্থী হবেন। কী ভাবে জমবে ভোটযুদ্ধ, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে রাজ্য জুড়ে।
ব্যতিক্রম নয় বীরভূমও। কেউ কেউ বলছেন, আগাম প্রার্থী ঘোষণা করে লড়াইয়ের ময়দানে প্রচার পর্বে শাসক, বামেরা হয়তো এক কদম এগিয়ে গেল।
দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯
রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, বোলপুর আসনে শাসকদলের প্রার্থী অসিত মাল। তাঁর বিপক্ষে এখনও কোনও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। জোরকদমে প্রচার শুরু করেছেন তিনি। অন্য দিকে তৃতীয় বারের জন্য বীরভূম লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রতীকে লড়ছেন শতাব্দী রায়। ভোট প্রচারে নেমেছেন তিনিও। আগে দু’বার জিতেছেন। অনেকটা চেনা ‘ময়দান’ তাঁর। বামেরা সেই আসনে চিকিৎসক রেজাউল করিমকে প্রার্থী করেছে ঠিকই, কিন্তু সাধারণ ভোটারদের অনেকের কাছেই তিনি এখনও তত পরিচিত নন। সেখানে ‘প্রধান প্রতিপক্ষ’ হিসেবে নিজেদের দাবি করা বিজেপি প্রার্থী ঘোষণা দূর, কাকে প্রার্থী করা হবে তার কোনও ইঙ্গিতও দেয়নি। তা নিয়েই ছড়িয়েছে জল্পনা। তির্যক মন্তব্য শোনা যাচ্ছে বিপক্ষের মুখেও।
বীরভূম আসনে শতাব্দীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হিসেবে বিজেপি মহিলা মোর্চার সভানেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের পাশাপাশি অন্য কয়েকটি নাম কানাঘুষোয় শোনা যাচ্ছে। কিন্তু বিজেপির অন্দরমহলের খবর, ওই নামগুলির মধ্যে কেউ প্রার্থী হলে আদৌ শাসকদলকে কোনও বেগ দিতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন দলের নিচুতলার নেতা-কর্মীদের একাংশ। দলে এমনও শোনা যাচ্ছে, লকেট নাকি বীরভূমে প্রার্থী হতে প্রথম দিকে ‘আগ্রহী’ ছিলেন না।
অন্য দিকে বোলপুর আসনেও বিজেপি প্রার্থী হিসেবে এমন এক নাম ভাসছে, তিনি প্রার্থী হলে ওই কেন্দ্রে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হবে না বলে ধারণা করছেন দলের অনেক কর্মী। তাঁদের কারও কারও প্রশ্ন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন ‘অনুকূলে’ তখন লড়াই দেওয়ার মতো প্রার্থী বাছাই করা উচিত। এবং তা দ্রুত।
তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরী বলছেন, ‘‘কে বিজেপির প্রার্থী হবেন সেটা নিয়ে মোটেই চিন্তিত নই। তা ছাড়া ওঁরা এখন হাতড়ে বেড়াচ্ছেন কাকে প্রার্থী করা যায়। মানুষের সঙ্গেই যোগ বা কোথায়।’’ আর সিপিএমের জেলা সম্পাদক মনসা হাঁসদা বলছেন, ‘‘প্রধান প্রতিপক্ষ বলে যখন দাবি করছে, প্রার্থী তালিকা ঘোষণায় সেই ছাপ কোথায়!’’
এ সবের জবাবে বিজেপির জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায় বলছেন, ‘‘কে প্রার্থী হবেন, সেটা আগাম বলা সম্ভব নয়। জল্পনা থাকতেই পারে। তবে যিনিই প্রার্থী হন, লড়াই হবে।’’ তবে লকেট চট্টোপাধ্যায় প্রার্থী হচ্ছেন কিনা, তা নিয়ে কিছু বলতে চাননি রামকৃষ্ণবাবু।
বিজেপির দাবি, শাসকদল প্রচার শুরু করেছে ঠিকই, কিন্তু সিপিএমের প্রার্থী এখনও প্রতীক না পাওয়ায় প্রচারই সে ভাবে শুরু করতে পারেননি।
এ নিয়ে লকেট বলেন, ‘‘বীরভূমে প্রার্থী হবো কী হবো না, এমন বিকল্প দেওয়ার সুযোগ আমাদের দলে নেই। আমি আদৌ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব কিনা, তা দলই ঠিক করবে। তবে এটুকু বলবো, সেই দায়িত্ব যদি দল দেয় সেটা বীরভূম বা অন্য কোনও আসনে, সমস্যা হবে না। আসলে হেরে যাওয়ার ভয় থেকে আমি বীরভূম কেন্দ্রে লড়বো না এমন কথা রটানোর চেষ্টা চলছে।’’ প্রচারে পিছিয়ে থাকার কথাও তিনি মানেননি। তাঁর কথায়, ‘‘প্রবল ভাবে মানুষ চাইছেন বিজেপিকে। সোমবারই প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হবে। দু’একদিন দেরিতে প্রচার শুরু হলেও তার কোনও প্রভাব পড়বে না।’’
এ দিকে, প্রার্থী ঘোষণা না হলেও নানুরে দেওয়াল লিখন শুরু করল বিজেপি। শনিবার দাসকলগ্রাম কড়েয়া-পঞ্চায়েতের বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থীর নাম ছাড়াই দলীয় প্রতীক আঁকা হল দেওয়ালে। স্থানীয় সূত্রে খবর, নানুরে বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত ভাবে সংগঠন রয়েছে বিজেপির। ২০০৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে জোট গড়ে থুপসড়া পঞ্চায়েত দখল করেছিল তৃণমূল। গত লোকসভা নির্বাচনে নানুর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে বিজেপি ছিল তৃতীয় শক্তি। ওই নির্বাচনে বিজেপি পায় ২৪ হাজার ৩৬৫টি ভোট। বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য বিনয় ঘোষ বলেন, ‘‘দেওয়াল লিখনের কাজ এগিয়ে রাখা হচ্ছে। প্রার্থী ঘোষিত হলে তাঁর নাম সেখানে লিখে দেওয়া হবে।’’